• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২১, ১০:৫৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ৬, ২০২১, ০৪:৫৫ এএম

ব্যতিক্রমী এক সরকারি কর্মকর্তার গল্প

ব্যতিক্রমী এক সরকারি কর্মকর্তার গল্প

তিনি সরকারি কর্মকর্তা, পদটা নেহাত কম নয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ছিলেন, সর্বশেষ একই কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। নাম এ কে এম তাজকির-উজ-জামান। এখানেই এ কর্মকর্তার পরিচয়টা শেষ হতে পারত। কিন্তু না, প্রতিদিনের রুটিন কাজের বাইরেরও যে অনেক কিছুই করার আছে, তাই প্রমাণ করেছেন এ কর্মকর্তা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে গত দুই বছরের প্রায় ২৮টি প্রকাশনা বের হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মত একটি ব্যাস্ততম কার্যালয়ে রুটিন কাজের বাইরে গিয়েও এমন সৃজনশীল কাজ করা যেতে পারে, তাই যেন দেখিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম তাজকির-উজ-জামান। 

সমৃদ্ধ এই প্রকাশনাগুলিতে তথ্য সংগ্রহ, সম্পাদনা আর ছাপানোর জটিল কাজ তিনি এক হাতে সামাল দিয়েছেন। এই জেলার জীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধার হাতের লেখা, উদ্ধৃতি, পরিচিতি আর ছবি দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে “অগ্নিস্বাক্ষর”; জেলার ৭০৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য, উপাত্ত, ছবি, কৃতি ছাত্র-শিক্ষকের তথ্য সংগ্রহ করে এর মধ্য থেকে ১০০ টি বিদ্যালয়ের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে প্রায় ৬৫০ পৃষ্ঠার বিশাল সংগ্রহ “আমার বিদ্যালয়” এর প্রথম খন্ড। ইতোমধ্যেই এই সংকলনটি সমাদৃত হয়েছে। জেলার ৪৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় তথ্য নিয়ে প্রকাশিত “তৃণমূল বার্তা” একটি অত্যন্ত তথ্যবহুল বিশাল প্রকাশনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবাকে নিয়ে লেখা- আমার পিতা শেখ মুজিব; মাকে নিয়ে লেখা- বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা; ছোট ভাই রাসেলকে নিয়ে লেখা- ছোট রাসেল সোনা, শেখ রেহানার বাবাকে নিয়ে লেখা- আমার পিতা---, ভাজপত্র হিসেবে প্রকাশ করে বিভিন্ন স্কুলে বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নোত্তর মূলক বই- “বঙ্গবন্ধুকে জানি” বিপুল সাড়া ফেলেছে। সাত ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, দেশাত্তবোধক কবিতা, বই পড়াকে উৎসাহ দিতে বুকমার্কও ছাপানো হয়েছে। 

নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মাযাহারুল ইসলাম তরু এই বিষয়ে জানান, আমি আমার অধ্যাপনার সময়কালে জেলা প্রশাসনের এত প্রকাশনা কখনই দেখিনি, অবশ্যই এর জন্য তাজকির সাহেব ধন্যবাদ পেতেই পারেন।
তার এই কর্মযঙ্গকে সংবাদ কর্মী আব্দুর রব নাহিদ মনে করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি ক্রিয়েটিভ সেলের কাজই একাই করেছেন তাজকির উজ জামান। সাধারণত দেখা যায়, সিটি কর্পোরেশনের একটি প্রেস উইং বা ক্রিয়েটিভ সেল থাকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এমন কিছু থাকে না। তবে তিনি যেন তার কাজের মাধ্যমে জানান দিয়েই গেছেন, যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও একটি ক্রিয়েটিভ সেল থাকা প্রয়োজন, যেখানে গুছিয়ে বিভিন্ন তথ্য বিভিন্ন উপায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁচ্ছানো। সেটা প্রকাশনা বা অন্য কোন মাধ্যমে হতে পারে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৭ ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০১৮ এর অক্টোবর এ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হিসেবে এখানে যোগদান করেন। সদ্য উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি উপ পরিচালক, স্থানীয় সরকার হিসেবে কর্মরত আছেন। নড়াইল ডিসি অফিসে যোগদান করে, সহকারি কমিশনার (ভূমি), ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা, মুন্সিগঞ্জ, এটুআই প্রকল্প, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নওগাঁর মহাদেবপুরে কর্মরত ছিলেন। ভূমি অফিসে পরিবর্তন এনে কাইজেন রোল মডেল আওয়ার্ড , ইনোভেশন পুরস্কার, সেরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি পুরস্কার পেয়েছেন। 

জাগরণ/এমআর