• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২১, ১০:৩১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২, ২০২১, ০৪:৩১ পিএম

শাশুড়ি-ননদের নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু

শাশুড়ি-ননদের নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘি ইউনিয়নের বন্দরপাড়া গ্রামে শাবানা আকতার আসমা (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

এই ঘটনায় পুলিশ মৃত গৃহবধূর বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসমার শ্বশুর সোলেমান আলী, স্বামী আতিকুর রহমান ও তার ননদ খাদিজা আক্তারকে আটক করেছে।

জানা গেছে ধানের খড় নিয়ে শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এদিকে নিহত গৃহবধূর মা মোহসিনা বেগম সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। একইসঙ্গে হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি।

এদিকে নিহতের খবর শুনে বিকেলে সদর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেনজির আহমেদসহ পুলিশ সদস্যরা নিহতের বাড়ি গিয়ে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

আসমার পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ৭ বছর আগে জেলার সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘি ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া এলাকার মৃত আশরাফুল ইসলামের কন্যা শাবানা আকতার আসমার সঙ্গে একই ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার সুলেমান আলীর ছেলে আতিকুর রহমানের (৩০) সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে ইমরান (৪) নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। আতিক ও আসমা আলাদা বসবাস করেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আতিক ও আসমা ধান মাড়াই করে। গৃহবধূর শাশুড়ি জোলেখা আকতার ও ননদ খাদিজা আকতার ধান মাড়াইয়ের খড় নিয়ে যেতে চান। এ সময় আসমা বাধা দেয়। এ নিয়ে বুধবার রাতে শাশুড়ি ও ননদ আসমার সঙ্গে ঝগড়া করে এবং আসমাকে মারপিট করে। মারপিটের কারণে শরীর প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়েছিল ।

বৃহস্পতিবার সকালে আসমার স্বামী আতিকুর বাজারে গেলে আবারও শাশুড়ি ও ননদ আসমাকে মারপিট করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বিছানায় ফেলে রাখে। আতিকুর বাজার থেকে এসে তার স্ত্রীকে বিছানায় মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা বাসায় গিয়ে আসমার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূর মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আসমার মা মহসিনা বেগম, আসমার চাচা মকবুল হোসেন ও শাহিন আলম আসমাকে মারপিট করার পর শ্বাসরোধে হত্যা করার বিষয়টি পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের জানিয়েছেন। তারা দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সদর থানার ওসি আবদুল লতিফ মিঞা জানান ওই গৃহবধূর মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে নিহত হয়েছে ওই গৃহবধূ তদন্ত করে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমইউ