• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২২, ১২:২৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১, ২০২২, ০৬:২৫ এএম

অন্তরঙ্গ প্রেমিক যুগল, টাকা না পেয়ে প্রেমিকার বিষপান

অন্তরঙ্গ প্রেমিক যুগল, টাকা না পেয়ে প্রেমিকার বিষপান

ঢাকার ধামরাইয়ে ফকির বাড়িতে এসে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছেন এক প্রেমিক যুগল। উত্তম মধ্যম দিয়ে তাদের কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

এরপর সালিশি বৈঠকে সমঝোতা করে পুলিশের কাছ থেকে ওই যুগলকে ছাড়িয়ে নেন প্রেমিকা বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর বাবা। ক্ষতিপূরণের এক লাখ টাকা না পেয়ে ও প্রেমিককে বিয়ে করতে না পেরে বাড়ি গিয়ে অভিমানে বিষপান করেন ওই ছাত্রী।
 
তাকে দ্রুত সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত মানিকগঞ্জ সদর আবাসিক হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

মেয়েটির বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায়। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তার প্রেমিকের নাম মো. নিশাতুর রহমান সোহান। প্রেমিক সোহান সাটুরিয়া সিনেমা হল রোডের মা ফ্যাশনের মালিক।

জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সোহানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামে মো. আব্দুল কাদেরের বাড়িতে যান প্রেমিকা। ফকির বাড়ির গোপন কামরায় তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাদের হাতেনাতে ধরে উত্তম মধ্যম দিয়ে কাওয়ারীটাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সোপর্দ করে।

এরপর খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ কোর্টের আইনজীবী মো. আবুল হাসেমকে সঙ্গে নিয়ে মেয়েকে ছাড়াতে আসেন বাবা। আর সোহানের বাবা মো. আবুল হোসেন ওরফে মিনহাজও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ছেলেকে ছাড়াতে কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ছুটে আসেন।

পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মজিবর রহমান তাদের বলেন, আপনারা এদের ছাড়িয়ে নিতে চাইলে সমঝোতা করে আসুন। এরপরও মেয়েটির বাবাকে মামলা করবে না মর্মে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। তবেই তাদের ছেড়ে দেওয়া যাবে। এরপর তারা বিষয়টি সমঝোতা করেন। প্রেমিক বিবাহিত হওয়ায় তাদের বিয়ে না দিয়ে মেয়েটিকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপস্থিত জনসমক্ষে ক্ষতিপূরণের এক লাখ টাকা মেয়ের পক্ষের আইনজীবী মো. আবুল হাসেমের কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ক্ষতিপূরণের টাকা মেয়েকে না দিয়ে ওই আইনজীবী পকেটস্থ করে ফেলেন।

এছাড়া পছন্দের ছেলে প্রেমিককে বিয়ে করতে না পেরে আর ক্ষতিপূরণের টাকা না পেয়ে ক্ষোভে ও অভিমানে বাড়ি পৌঁছে দুপুর ২টার দিকে বিষপান করেন ওই ছাত্রী।

আব্দুল কাদের ফকির বলেন, ওই প্রেমিক যুগল আমার কাছে চিকিৎসার জন্য আসেন। এলাকার লোকজন তাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।

প্রেমিক নিশাতুর রহমান সোহান বলেন, মাস দেড়েক হয় ওই ছাত্রীর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক হয়েছে। আমার দোকানে কেনাকাটা করতে এলে তার সঙ্গে আমার এ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমরা ওই ফকির বাড়ি গিয়েছিলাম চিকিৎসা করতে।

প্রেমিকার বাবা বলেন, ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের প্রেমের কথা আমি কখনো শুনিনি। তাদের আটকের খবর পেয়ে ছুটে আসি। ওই ছেলে বিবাহিত তাই জেনেশুনে বাবা হিসেবে আমি কী করে সতিনের ঘরে আমার মেয়েকে বিয়ে দেই। তাই সমঝোতা করে আমার মেয়েকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাই। তবে ক্ষতিপূরণের টাকা আমার মেয়ে পায়নি। বাড়িতে গিয়ে আমার মেয়ে বিষপান করেছে। তার অবস্থা ভালো নয়।

আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, মেয়ের বাবা ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েছেন। মেয়েটি কেন যে বিষপান করেছে তা আমার বোধগম্য নয়।

এসআই মো. মজিবর রহমান বলেন, এলাকাবাসী প্রেমিক যুগলকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। মেয়ের বাবা মামলা করতে রাজি নয়। তাই তিনি সমঝোতার ভিত্তিতে নিজ জিম্মায় ওই মেয়েকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

ইউএম