• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২২, ০৬:৩৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২০, ২০২২, ১২:৩৪ পিএম

স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর মহাসড়কে ফেলে গেল স্বামী

স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর মহাসড়কে ফেলে গেল স্বামী

দাম্পত্য কলহের জেরে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর মহাসড়কের পাশে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী তামিম শেখ। এসময় ১০ মাস বয়সী ছেলেকেও অন্যত্র ফেলে রেখে যান তিনি। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাইপাস মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ওই রাতেই পথচারীরা রাশিদা বেগম নামের ওই নারীর মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দিলে আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকা থেকে ঘাতক তামিম শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নিহত রাশিদার ভাই রুহুল আমিন শাহ বাদী হয়ে বোন জামাই তামিম শেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘাতক তামিমের বরাত দিয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম ছরোয়ার জানান, দাম্পত্য কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত রাশিদার এটা দ্বিতীয় বিয়ে এবং ঘাতক স্বামী তামিমেরও দ্বিতীয় বিয়ে। দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তামিমের আগের স্ত্রীর দুটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে রাশিদার ঘরে ১০ মাস বয়সের তানিম নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। রাশিদাকে তার স্বামী তামিম আগৈলঝাড়া উপজেলার ১ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রাখেন। ঘটনার দিন রাশিদাকে নিয়ে গোপালগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন স্বামী তামিম। ওইদিন দিবাগত রাত ৮টার পরে সেখান থেকে বের হয়ে অপর লোকজনের সহায়তায় রাশিদাকে হত্যা করে একটি মাহেন্দ্র ভাড়া করে আগৈলঝাড়ার বাইপাস মহাসড়কের পাশে রাশিদার মরদেহ ও তার শিশু সন্তানকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন একটি ঘেরের পাড় থেকে রাশিদা বেগমের (৩৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময় কান্নার আওয়াজ পেয়ে নিহত রাশিদার শিশুপুত্র তানিমকে মায়ের মরদেহের ৫০০ গজ দূরে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাশিদা আগৈলঝাড়ার নগরবাড়ি গ্রামের মৃত করিম শাহের মেয়ে।

মরদেহ উদ্ধারের পরপরই অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম এলাকা থেকে ঘাতক স্বামী তামিম শেখকে রক্তমাখা জুতা ও জামা পড়া অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। সে ওই এলাকার আনোয়ার শেখের ছেলে। ঘাতক তামিম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যবসা করতো বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ছরোয়ার জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তর জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তামিম শেখ প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযানে নেমেছে।