• ঢাকা
  • সোমবার, ০৪ মার্চ, ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২২, ০৬:১১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২২, ০৬:১১ পিএম

টঙ্গীতে কলেজ শিক্ষার্থীসহ ৩ জনের লাশ

টঙ্গীতে কলেজ শিক্ষার্থীসহ ৩ জনের লাশ

গাজীপুরের টঙ্গীতে একই রাতে পৃথক স্থান থেকে কলেজ শিক্ষার্থীসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, কলেজ শিক্ষার্থী নীপা আক্তার (১৯), গার্মেন্টস কর্মী হীরা আক্তার তন্নি (২০) ও নাঈম আহমেদ (২১)। 

গত বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এসব লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।    

স্থানীয় কাজীপাড়া এলাকা থেকে জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ থানার বাট্রাজোর গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে নীপা আক্তার, দত্তপাড়া থেকে নেত্রকোনা জেলা সদরের চকপাড়া গ্রামের খাইরুল ইসলামের মেয়ে হীরা আক্তার তন্নি ও মৌলভীবাজার সদরের বাদে ফতেপুর গ্রামের আব্দুল আমিন এর ছেলে নাঈম আহমেদ এর লাশ উদ্ধার করা হয়।
 
পুলিশ জানায়, বাবার সাথে কাজীপাড়া এলাকার জনৈক ওহাব খানের বাড়ির ভাড়া বাসায় বাস করতো নীপা আক্তার। তার বাবা নুর ইসলাম পেশায় ভিক্ষুক। ভিক্ষাবৃত্তি করে তিনি মেয়েকে টঈী সরকারি কলেজে পড়াশুনা করাতেন। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি মেয়েকে বাসায় একা রেখে ভিক্ষা করতে যান। দিবাগত রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তিনি বাসায় বাসায় ফিরে মেয়েকে ডাকাডাকি করতে থাকে। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে তার রুমের ভিতর নিপাকে গলায় ওড়না দিয়ে ধন্নার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে ডাকচিৎকার শুরু করে। বিষয়টি টের পেয়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে থানা পুলিশে খবর দেয়। 

এদিকে, নাঈম আহমেদও পরিবারের লোকজনের সাথে দত্তপাড়া টেকবাড়ী এলাকার জলিল ভূঁইয়ার বাড়ির নিচতলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতের খাবার শেষে তার ছোট ভাই ফাহিমকে নিয়ে নিজ রুমের দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত ৪ টার দিকে ফাহিম প্রকৃতির ডাকে ঘুম থেকে উঠে নাঈমকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে বিছানার চাদর দিয়ে পেঁচানো ঝুলন্ত দেখে ডাকচিৎকার শুরু করে। ডাক চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এসে থানায় সংবাদ দেন। 

অপরদিকে, মধ্য দত্তপাড়া লিপি বেগমের বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো হীরা আক্তার তন্নি। ‍বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস পড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। 

খবর পেয়ে পুলিশ আত্মহননকারী সকলের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে হীরা আক্তার তন্নির লাশ তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অপর দু’টি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ জাবেদ মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে তন্নির লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুইটি লাশ হাসপাতাল মর্গে প্ররণ করা হয়েছে। 

দৈনিক জাগরণ/আরকে