• ঢাকা
  • বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯
প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২২, ০৪:২৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ৩, ২০২২, ১০:২৪ এএম

একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হাদিসুরের মা-বাবা 

একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হাদিসুরের মা-বাবা 

ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে রকেট হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমানের (২৯) মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছে পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা। ছেলের মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন তারা।

হাদিসুর বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা বাজারসংলগ্ন চেয়ারম্যান বাড়ির বাসিন্দা মো. আবদুর রাজ্জাক (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক) ও আমেনা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বোন সবার বড়। এরপর হাদিসুর রহমান। তার ছোট দুই ভাই লেখাপড়া করেন বরগুনায়। হাদিসুর রহমানই শুধু উপর্জন করতেন। 

স্বজনরা জানান, এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটিতে ৭ বছর ধরে চাকরি করেন হাদিসুর। জাহাজ থেকে হাদিসের এক বন্ধু ফোন করে জানান যে, বন্দরের জলসীমায় ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আটকে আছে তাদের জাহাজ। বুধবার (০২ মার্চ) ইউক্রেন সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায়) এ হামলা হয় বলে জানান সেখানে অবস্থান করা বাংলাদেশি নাবিক সালমান সামি। 
বিলাপ করতে করতে নিহত হাদিসুরের মা আমেনা বেগম জানান, হামলার সময় ছোট ভাই গোলাম রহমান প্রিন্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন হাদিসুর রহমান। আর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে মুহূর্তেই প্রাণ হারান তিনি। 

গোলাম রহমান প্রিন্স বলেন, আমার সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলা অবস্থায় আমি একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। কিছু বুঝতে পারছিলাম না, ওখানে কি ঘটেছে। বিকট শব্দের বেশ কয়েক মিনিট পর মোবাইলফোনের লাইন কেটে যায়। এতে ওখানে কি ঘটেছে, তা নিয়ে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।

তিনি আরও বলেন, বড় ভাই হাদিসুর পরিবারের সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন, যেন নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান বলেন, এখন তো আরও দুশ্চিন্তায় আছি, মরদেহ কিভাবে দেশে আনব। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সহযোগিতা চাইতে জেলা প্রশাসকের কাছে যাব।

বরগুনা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, নিহত হাদিসুরের মরদেহ দেশের আনার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।