• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২২, ০৪:০৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৬, ২০২২, ০৪:০৯ পিএম

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মসজিদ 

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মসজিদ 
দেশের সবচেয়ে ছোট ২টি মসজিদ বগুড়ার আদমদীঘিতে

প্রবীর মোহন্ত
দেশের সবচেয়ে ছোট ২টি মসজিদ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অবস্থিত। একটি উপজেলার তারাপুরগ্রামে অপরটি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার মালশনগ্রামে অবস্থিত। এই মসজিদ দুটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজও। 

দেড়শত বছর আগে নির্মিত এই মসজিদগুলোতে এখন কেউ আর নামাজ পরেন না। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এর চেয়ে ছোট মসজিদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়নি। তাই অনেকের মতে, এটি শুধু দেশে নয় বরং বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মসজিদ। 

জানা গেছে, তারাপুর গ্রামের মসজিদের উচ্চতা ১৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ৮ ফুট। মসজিদে প্রবেশ দরজার উচ্চতা ৪ ফুট আর চওড়া মাত্র দেড় ফুট। মসজিদের দেয়ালে কোন জানালা তৈরি করা হয়নি। একজন মানুষ সেখানে কোন রকমে প্রবেশ করতে পারবেন। মসজিদে সামান্য উঁচু একটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের উপরে ছিল একটি মিনার। তবে এটি অনেক আগেই ভেঙে গেছে। আর ইটের তৈরি দেয়াল পুরু দেড় ফুট। যে ইটগুলো মসজিদের দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোর আকার খুব ছোট। এই মসজিদের দরজায় দু’টি সুন্দর খিলান রয়েছে। দরজার খিলান, ভিতরের মিম্বর ও মেহরাবই বলে দেয় যে স্থাপনাটি একটি মসজিদ। চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি স্থাপনাটি এতোটাই পুরনো যে, প্রথমে দেখে এটিকে মসজিদ হিসাবে বোঝা যাবে না। তারাপুর গ্রামের মসজিদটি এতই ছোট যে এই মসজিদে একসঙ্গে মাত্র ৩ জন নামাজ পড়তে পারেন। 

অপরদিকে মালশন গ্রামের মসজিদে একসঙ্গে ৫ জন নামাজ পড়তে পারেন। তবে মালশন গ্রামের মসজিদটি দের্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতায় তারাপুর মসজিদের চেয়ে একটু বড়। তবে নির্মাণশৈলী একই ধরনের। এই মসজিদটি সম্পর্কে মালশন গ্রামের কেহ সঠিক কোনো ইতিহাস জানাতে পারেননি। 

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামে ছিল নাটোরের রাজা রামাকান্তের স্ত্রী রাণী ভবানীর বাবার বাড়ি। আর সান্তাহারসহ আশপাশের অঞ্চল তথা তারাপুরও ছিল রাণী ভবানীর স্বামীর ও পরে রাণী ভবানীর রাজ্যত্বেরই অংশ। ফলে রাণী ভবানীর আসা যাওয়া ছিল এই গ্রামে। 

কথিত আছে যে, তারাবানু নামে একজন পরহেজগারী মুসলমান মহিলার বাসস্থান ছিল এ গ্রামে। কিন্তু হিন্দু প্রধান এলাকা হওয়ার কারণে ওই মহিলার নামাজ পড়াসহ এবাদত-বন্দেগীতে অনেক অসুবিধা হতো। এই কথা এক পর্যায়ে রাণী ভবানী জানতে পেয়ে তিনি নিজেই চলে আসেন এই গ্রামে। আর সেই মহিলার নামাজ পড়াসহ এবাদত-বন্দেগীতে যেন কেহ কোন অসুবিধা করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখার জন্যই পেয়াদাদের হুকুম দেন তার জন্য একটি মসজিদ তৈরি করে দেয়ার। এভাবেই নাকি এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। 

এই গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা কেউ কেউ ভিন্ন মত পোষন করে বলেন, আনুমানিক ১৫০ বছর আগে ততকালীন গ্রাম্য সালিসে একটি পরিবারকে একঘরে করে দেয়া হয়েছিল। সেই পরিবারের কাউকে কারো সঙ্গে ওঠাবসা করতে দেয়া হতো না। এ জন্য সেই একঘরে পরিবারের সদস্যরা নামাজের জন্য মসজিদটি নির্মাণ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। 

তবে মসজিদটি ঘিরে নানা মত প্রচলিত আছে স্থানীয়দের মুখে। 

দেয়ালের গায়ে কোনো শিলালিপি বা ফলক না থাকায় কে বা কারা, কী কারণে মসজিদটি নির্মাণ করেছে, তা সঠিক করে কেও জানাতে পাড়েনি। মসজিদের ভেতরটা বেশ চমৎকার। পরিধি ছোট হলেও ওপরের গম্বুজের দিকে তাকালে মনে হয় বড় কোনো মসজিদের গম্বুজ। সামনের দেয়ালে রয়েছে ছোট্ট একটি ধ্বংসপ্রায় মিহরাব। লতাগুল্ম আর বটগাছের শিকড় ঝুলে আছে বাহিরে ও ভেতরটায়। ফ্লোরে শ্যাওলা জমে পিচ্ছিল হয়ে আছে। আকারে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় উৎসুক দর্শনার্থীরা একনজর দেখার জন্য ছুটে আসে এ গ্রামে। 

দেড়শত বছরের পুরনো মনকাড়া পোড়া মাটির নকশা সংবলিত কারুকার্য নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। ঐতিহ্যের এই মসজিদ দুটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে বিলুপ্তির পথে। মসজিদ দুটি টিকিয়ে রাখার জন্য সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

জাগরণ/আরকে