• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২২, ০৪:৫৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৯, ২০২২, ১০:৫৯ এএম

লিবিয়ার সাগরে ফয়সলের স্বপ্নের সমাধি

লিবিয়ার সাগরে ফয়সলের স্বপ্নের সমাধি

কে.এম লিমন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নবগঠিত ১২নং সদর ইউনিয়নের হোয়াউরা গ্রামের ফয়সলের পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া। বার বার মুর্চ্ছা যাচ্ছেন মা বিলাতুন নেছা। সন্তান ফিরে পেতে কান্নার শেষ নেই পিতা হবি মিয়ারও। 

দেড় মাস আগে লিবিয়া থেকে নৌকায় করে ইতালির পথে রওয়ানা হয়ে সাগরের মাঝেই দুর্ঘটনায় সলিল সমাধির ধারণা করা হচ্ছে ফয়সলসহ ২৮ জন অভিবাসীর। 

সরেজমিনে হোয়াউরা গ্রাম পরিদর্শনকালে ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায় যে, গেল বছরের নভেম্বর মাসে লিভিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় ফয়সল। সেখান থেকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি লিভিয়ার দালালের মাধ্যমে সাগর পথে প্লাস্টিকের ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে ইতালির উদ্দেশ্যে ৩০ জন অভিবাসী রওয়ানা হন। উত্তাল সাগরে টেউয়ের তোড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয় তাদের বহনকারী ইঞ্জিন চালিত নৌকাটি। 

সূত্রমতে, ৯ ঘন্টার পথে ৮ ঘন্টা অতিক্রম করার পর দুর্ঘটনায় পতিত হয় নৌকাটি। ঐ ৩০ জনের মধ্যে ৬ জন সাগর সাতরে পারে উঠতে পারলেও বাকিদের সলিল সমাধির আশংকা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর পরই ইতালি থেকে ফয়সলের বড় ভাই ফারুক দালালসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে ফেসবুক মাধ্যমে যোগাযোগ করলেও এদের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা যায়, ৩০ জন অভিবাসীর মধ্যে সবাই বাংলাদেশী। সাগরে নিখোঁজ ফয়সলের ব্যাপারে জানতে তাদের বাড়িতে গেলে মা বিলাতুন নেছা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। অঝরে কাঁদছিলেন বাবা হবি মিয়াও। ছেলের শোকে বার বার তারা মুর্চা যাচ্ছিলেন তারা। ছেলের ছবি দেখিয়ে মা বিলাতুন নেছার সাথে আর্তনাত করছিলেন স্বজনরাও।

বড় ভাই খলিল মিয়া জানান, আমাদের ৬ ভাই ২ বোন। ফারুক নামের এক ভাই ইতালিতে থাকে। লিবিয়া থেকে সাগর পথে সহজে ৯ ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাওয়া যায়। সেখানে অভিবাসীরা সহজে নাগরিকত্ব লাভ এবং কর্মসংস্থান পায়। এমন সুযোগ সন্ধানে ইতালি প্রবাসী ভাইয়ের সূত্রে লিবিয়ার দালালদের মাধ্যমে ফয়সলেরও ইতালি যাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়। কথা মত দালালদের টাকা দিয়ে নৌপথে পাড়িও জমায় ফয়সল। কিন্তু উত্তাল সাগরের ঢেউ আচড়ে পড়লে তাদের নৌকাটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে অদ্যাবধি ফয়সলের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। 

নিখোঁজ ফয়সলের ছবি হাতে নিয়ে তার মা বিলাতুন নেছার কান্না নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান গ্রামের মানুষেরা।

জাগরণ/আরকে