• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২২, ০৩:০৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ৪, ২০২২, ০৯:০৫ এএম

মিলনায়তনে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান

মিলনায়তনে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান

পরিত্যক্ত করা হয়েছে স্কুল ভবন। বর্তমানে নেই শ্রেণীকক্ষ। ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীদের স্কুল মিলনায়তনকে শ্রেণীকক্ষ করে চলছে পাঠদান।

এমন চিত্র খোদ মৌলভীবাজার জেলা শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত মৌলভীবাজার শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সরেজমিন এই বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, পাঠদানের জন্য তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের সর্বত্র স্যাতস্যতে হয়ে পলেস্তরা খসে পড়ায় স্কুলের এ ভবনটি পরিত্যাক্ত করেন কর্তৃপক্ষ। পরিত্যাক্ত ঘোষণার ১ বছর তিনমাস পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণের নেই কার্যকরী কোন উদ্যোগ। বাধ্য হয় স্কুলের মিলনায়তনকে টিনসেড ও কাপড় দিয়ে তিনভাগে গাদাগাদি করে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক পাঠদানের জন্য প্রয়োজন ১২টি শ্রেণিকক্ষ। সেখানে অস্থায়ী  তিনটি শ্রেণিকক্ষে ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। এতে করে স্বস্তিতে নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বেঞ্চে দুজনের স্থলে গাদাগাদি করে ৪-৫ জন শিক্ষার্থীকে বসতে হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় তা লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের চাপ বেশি। বিদ্যালয়-সংলগ্ন চারপাশের অভিভাবকদের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি নির্ভরতার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬২০ জন। প্রাক-প্রাথমিকে আছে ৮৫ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১১৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৯৯ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৯৭ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১১৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০৬ জন। দুই বিভাগে এই শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রয়োজন ১২টি শ্রেণিকক্ষের। কিন্তু বর্তমানে সকাল ও বিকাল এই দুই পর্বে মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। সকালে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় এবং বিকালে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার পরই এই শ্রেণি-সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস মেঝেতে করানোর কথা। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় অন্য শ্রেণির ক্লাসও ওই কক্ষে বেঞ্চ বসিয়ে নিতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুযায়ী শিক্ষক সংকট প্রবল। ৯জন শিক্ষকের পদ, একটি শূন্য আছে, বর্তমানে ক্লাস নিচ্ছেন ৬ জন শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আখলাকুল আম্বিয়া জানান, ক্লাসে ছাত্র সংকুলান করা যায় না। মানসম্মত পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বেঞ্চে গাদাগাদি অবস্থা। একদিকে গরম, অন্যদিকে করোনা, খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রতি ক্লাসে প্রায় ১০০ ছাত্রছাত্রীকে বর্তমানে পাঠদান চলছে।

অভিভাবক তমাল ফেরদৌস বলেন, আমি আমার সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত, এই পরিবেশে কিভাবে বাচ্চারা লেখাপড়া হয়। নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না। এক বেঞ্চে পাঁচজন পর্যন্ত বসছে। পড়ায় কেউ মনযোগ নেই, নেই পড়ার পরিবেশও।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাশ্বতী দাস বলেন, ভবনটি ক্লাস করার অযোগ্য। দেয়াল ও ছাদ থেকে পলেস্তার খসে পড়ছে। ভিমে ফাটল। ক্লাসরুম ড্যামেজ। আমরা লিখিতভাবে জানানোর পর প্রকৌশল বিভাগ থেকে সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। এরপর আর কিছু হয়নি। ১২টি ক্লাসরুমের জায়গায় মাত্র তিনটি ক্লাসে ৬ শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে সামাল দিতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, বাচ্চাদের গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষক সবার সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর মৌলভীবাজার সদর উপজেলা অফিস সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখনো ভবন নির্মাণের অনুমোদন আসেনি।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইতিমধ্যে সমস্যার কথা জানিয়ে এলজিইডির কাছে আবেদন করা হয়েছে, অনুমোদন এখনো আসেনি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা থাকায় দেরি হচ্ছে। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

জাগরণ/আরকে