• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২২, ১০:৩২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১১, ২০২২, ০৪:৩২ এএম

পুকুরে ধরা পড়ল ২৫ সাকার ফিস

পুকুরে ধরা পড়ল ২৫ সাকার ফিস

 ইন্দুরকানী প্রতিনিধি 
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে এক পুকুরেই ধরা পড়েছে ২৫টি সাকার ফিস। ছোট একটি পুকুরে এক সাথে এতগুলো সাকার ফিস ধরা পড়ায় উপস্থিত অনেকেই অবাক হন। 

শনিবার (৯ এপ্রিল) পুকুরে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পূর্ব-চরবলেশ্বর গ্রামের সাংবাদিক জে আই লাভলুর বাড়ির পিছনের একটি ছোট পুকুরে ২৫টি সাকার মাছ ধরা পড়ে। 
 
জানা যায়, সাকার ফিস অথবা সাকার মাউথ যে নামেই ডাকি না কেন এটা এক ধরনের শোভাবর্ধণকারী এ্যাকুরিয়ামের মাছ। কিন্তু বর্তমানে এই মাছ এ্যাকুরিয়ামের বাইরেও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে। আর তাই আশঙ্কা বেড়েছে মৎস্য চাষীদের মধ্যে। গ্রামাঞ্চলের অনেকের কাছেই এই মাছ একদম নতুন ধরনের একটি প্রজাতী। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় এই মাছ গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে। নাম না জানা অনেকেই এটিকে বিরল প্রজাতির মাছ বলে থাকেন। কিন্তু এটা বিরল নয়। দক্ষিণ আমেরিকাতে এটা সহজ লভ্য। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাকার মাউথ ক্যাটফিশ মূলত অ্যাকুরিয়ামের মাছ। গায়ে কালোর উপর সোনালি ডোরা কাটা। অমসৃণ শরীর। পিঠের উপরে ও শরীরের দুপাশে বড় কাটার মত ধারালো পাখনা আছে। মুখে আছে ধারালো দাঁত।

সাকার ফিশ মূলত জলাশয়ের আগাছা, জলজ পোকামাকড় ও ছোট মাছ খেয়ে থাকে। তবে এটি শিকারি প্রজাতির নয়। মুখ দিয়ে শুষে খাবার খায়।

স্থানীয় মৎস্যজীবী, বাসিন্দা ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নদী সংলগ্ন খাল-বিল এবং আশেপাশের পুকুরে গত কয়েক বছর ধরে সাকার ফিশের দেখা মিলছে। স্থানীয়রা এ মাছকে চেনে ‘টাইগার ফিশ’ নামে।

মৎস্য চাষীরা এই মাছ দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ মাছের আঘাতে অন্য সব চাষ করা মাছ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে সাধারণভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না চাষকৃত মাছ। বিপাকে পড়েছে মৎস্য চাষীরা। এখন এই মাছ শুধু মাত্র নদী বা খালে নয়। দেখা যাচ্ছে পুকুরসহ বিভিন্ন মাছের ঘেরেও। তাই কিছুটা হলেও ভাবিয়ে তুলছে মৎস্য চাষীদের। 

ডোরা কাটা দাগ ওয়ালা এই মাছ প্রথম দেখে অনেকেই চমকে গিয়েছে। জাতীয় মাছের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র নদী ও খাল বিলের বাস্তুসংস্থানের জন্য অশনি সঙ্কেত এখন এই সাকার ফিস।

সাকার মাউথ মাছ যে হারে উপকূলীয় এলাকায় ধরা পড়ছে তাতে দেশের জন্যও আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত এই মাছের বংশ বৃদ্ধি রোধ না করতে পারলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে উপকূলীয় এলাকার মৎস্য চাষীরা এমনটাই ধারনা অনেকের।

স্থানীয় বিভিন্ন বিভিন্ন জেলেদের সূত্রে জানা যায়, উপকূল জুড়ে যখন ২০০৭ সালের সিডরের আঘাতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তখন থেকেই এই মাছ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় কম বেশি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় নদ নদীগুলোতে জেলেদের গড়া ও বাধে জালে এই মাছ ধরা পড়ছে বিভিন্ন সময়ে। এছাড়া শীত গ্রীষ্ম মৌসুমে উপকূলীয় এলাকার নদী খাল ও পুকুরগুলোতে এই মাছের বিচরণ দেখা যায়। স্থানীয় হাট বাজারগুলোতেও অন্যান্য মাছের সাথে বিভিন্ন সময়ে এই সাকার ফিস দেখা যায়। 

সাংবাদিক জে আই লাভলু জানান, সাকার ফিস ইদানিং প্রায়ই আমাদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে। আগে এতোটা দেখা যেত না। পুকুরে এই মাছ থাকার কারনে চাষকৃত অন্য মাছের জন্য সমস্যা হচ্ছে। অন্যান্য ছোট মাছ খেয়ে ফেলছে। পুকুরে এক সাথে এত গুলো সাকার ফিস ধরা পড়ায় বিস্মিত তিনি।

ইন্দুরকানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরদার জুলফিকার আলীর কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাকার মাউথ মাছ আমাদের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা এখনো জানা যায়নি। তবে এ মাছ নিয়ে দেশে গবেষণা চলছে। এই মাছ খাওয়ার যোগ্য না। কিন্তু খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করতে পারে। আবার সহজে মরেও না। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এই মাছ এ্যাকুরিয়ামের শোভা বর্ধনের জন্যই আনা হয়েছিল এই দেশে। কিন্তু এখন সেটা আর এ্যাকুরিয়ামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। প্রায়ই দেখা মিলছে জেলেদের জালে। এই মাছ অন্যান্য ছোট মাছগুলোকে খেয়ে ফেলছে। এটা বেশ কয়েকবছর আগে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারনা এ মৎস্য কর্মকর্তার।

জাগরণ/আরকে