• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২২, ০৩:৩৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৬, ২০২২, ০৯:৩৩ এএম

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে মেহেরপুরের ততকালীন বদ্যনাথ তলায়। ইতিহাসের সাক্ষী এই স্থানটিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার এখানে গড়ে তুলেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নানা স্থাপনা। 

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেমে পড়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয় তৎকালীন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায়। সরকারের শপথ গ্রহণের জন্য গ্রামবাসীদের সহায়তায় বর্তমান মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে কয়েকটি চৌকি এনে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। ঐদিন রাতেই ভারতীয় ফোর্স এসে সেখানে অবস্থান নেয়। পরদিন সকালে ভারতের সীমানা পেরিয়ে বৈদ্যনাথ তলায় আসেন জাতীয় চার নেতা। সাথে আসেন দেশি-বিদেশি সাংবাদিক। সেখানে জাতীয় চার নেতা শপথ নেন এবং ১২ আনসার সদস্যের সাথে গার্ড অব অনার নেন। এরপর গার্ড পরিদর্শন করে আবারও চলে যান। শপথ অনুষ্ঠানের পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী হিসাবে ইতিহাসে স্থান করে নেয় মুজিবনগর।

মুজিবনগরের ইতিহাস সংরক্ষন ও ছড়িয়ে দিতে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতি কমপ্লেক্স। এখন সেখানে শোভা পাচ্ছে ২৩ স্তম্ভ, ১১ টি সিড়ি, অঙ্কিত বহু বৃত্ত, থরে-থরে সাজানো অসংখ্য পাথর দিয়ে স্থাপিত স্মৃতিসৌধ। এছাড়াও নির্মাণ করা হয় বিশাল মানচিত্রে ৯ মাসের যুদ্ধের প্রতিটি দৃশ্যই ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশেই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, আনছার সদস্যদের গার্ড অব অনার প্রদানের দৃশ্য, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, সেক্টর কমান্ডারদের বৈঠকসহ বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান বাহিনীর নির্যাতনের দৃশ্য। প্রতিবছর দিবসটি জাতীয়ভাবে পালিত হয়। রাষ্ট্রীয় মুল অনুষ্ঠানটি পালিত হয় মুজিবনগরের আম্রকাননে। 

১৭ই এপ্রিল এর আনুষ্ঠানিকতায় সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। ইতোমধ্যে দিবসটি পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে দিবসটি উদযাপনের জন্য ঐতিহাসিক আম্রকানন ও মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স সহ এর চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

জেলা প্রশাসক ড.মনসুর আলম খাঁন বলেন, সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস যথাযোগ্য পালনের লক্ষে ১৭ এপ্রিল সকাল ৯ টায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পন, জলমাটি ও মানুষ শিরোনামে গীতিনাট্য উপস্থাপনা, শেখ হাসিনা মঞ্চে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিকাল ৫ টায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচী রয়েছে। 

এদিকে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন।

অতিথী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দীন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হকসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেৃতবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন জেলা আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক।

জাগরণ/আরকে