• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২২, ১২:৩৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১, ২০২২, ০৬:৩৫ পিএম

নারী মানবাধিকারকর্মীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি

নারী মানবাধিকারকর্মীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত সালিশে মরিয়ম বেগম নামের এক মানবাধিকারকর্মীকে ব্যাপক মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে।

গত ২৮ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের ভিডিও শুক্রবার (১ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেনের সামনে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও তার দলবল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে আহত ওই নারী দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও প্রভাবশালী ওই চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারছেন না ভুক্তভোগী নারী মানবাধিকারকর্মী। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ববিরোধ এবং গত ইউপি নির্বাচনে ভোট না দেয়ার অভিযোগ এনে গত ২৮ জুন রাতে মুরাদনগর উপজেলার ত্রিশ গ্রামের নারী মানবাধিকারকর্মী এবং ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের কর্মী মরিয়ম বেগমকে লোক মারফত কোম্পানীগঞ্জ বাজারে ডেকে আনেন ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন। এ সময় এক ব্যবসায়ীর দোকানে সালিশে বসেন। 

ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশ চলাকালে নবীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ভিপি জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও তার দলবল ওই নারীকে ব্যাপক মারধর করেন। এক পর্যায়ে আত্মরক্ষায় ওই নারী এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান তার আসনে বসে এসব দৃশ্য উপভোগ করেন। 

 হামলা ও মারধরের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

নির্যাতনের শিকার মরিয়ম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন পরিকল্পিতভাবে আমাকে ডেকে নিয়ে সালিশে বসেন‌। এ সময় চেয়ারম্যানের সামনেই তার ভাতিজা ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন এবং তার দলবল আমাকে শ্লীলতাহানি এবং নির্যাতন করেন। আমি আত্মরক্ষার্থে সালিশ থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তারা আমাকে জোরপূর্বক ধরে এনে ব্যাপক নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নির্দেশে থানায় মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় হামলাকারী ইউপি সদস্যের দাবি, তাকে গালমন্দ করায় তিনি মারধর করেছেন। 

 ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন বলেন, পূর্বের সামান্য একটি বিরোধ নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। এ সময় আমরা তা মীমাংসা করে দিয়েছি। কেন ওই নারীকে মারধর করা হয়েছে তা তিনি অবগত নন বলে জানান। 

শুক্রবার (১ জুলাই) রাতে মুরাদনগর থানার ওসি আবুল হাশিম বলেন, ওই নারী শুরুতে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে এসেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা তাকে নিয়মিত মামলা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

জাগরণ/স্বদেশ/এমএ