• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ জুন, ২০২৩, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৩, ১২:১১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ৩, ২০২৩, ০৬:১১ পিএম

চিনির পর তেল নিয়ে তেলেসমাতির শঙ্কা

চিনির পর তেল নিয়ে তেলেসমাতির শঙ্কা

ঈদের পর থেকেই চিনি বাজারে অস্থিরতা চলছে। কেজিতে ১৫-২০ টাকা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত দাম ছিল ১০৪ টাকা। সেক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা বেশি। তবে মূল্য আরেক দফা বাড়াতে মিল থেকে চিনি সরবরাহ কমানো হচ্ছে। এ সুযোগে বাজার থেকে চিনি প্রায় উধাও হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে ক্রেতা। 

বুধবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ও চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ভোজ্যতেলের বাজারে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগে যে তেল আনা ছিল সেগুলো খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে মিল থেকে সরবরাহ না থাকায় পরিবেশকরা খুচরা পর্যায়ে তেল সরবরাহ করছে না। আর কোম্পানিগুলোর বিপণন কর্মকর্তারা বলে যাচ্ছেন- লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়বে ১৫ টাকা। সেক্ষেত্রে ২০৫ টাকায় বিক্রি করতে হবে। 

বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াবাজারে প্রায় কোনো দোকানেই চিনি ছিল না বললেই চলে। যার কাছে আছে তিনি তা অল্প পরিমাণে বিক্রি করছেন। দুপুর আড়াইটায় রামপুরা কাঁচাবাজারের বেশিরভাগ দোকানে চিনি পাওয়া যায়নি। এসব বাজার ঘুরে ভোজ্যতেলের সরবরাহও কম দেখা গেছে। 

রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা জাকিয়া সুলতানা বলেন, দাম বাড়ানোর জন্য বাজার থেকে এসব পণ্য সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি কেজি ১৪০ টাকায় কিনতে হয়েছে। পাশাপাশি সয়াবিন তেল থাকলেও বিক্রেতারা বিক্রি করতে চাচ্ছে না। 

একই বাজারের মুদি বিক্রেতা মো. জাকির বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি খোলা চিনি ১২০ টাকায় বিক্রি করেছি। মিল থেকে দাম বাড়ানোর কারণে ঈদের পর প্রতি কেজি চিনি ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়। এখন মিল থেকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। 

দেশের বৃহত্তর ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে চিনির বাজারে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, চিনির বাজার আমদানিকারক সিন্ডিকেটের কবজায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তাদের মুদ্রায় প্রতি কেজি চিনির দাম ৪৩ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৬ টাকা)। কিন্তু বাংলাদেশে একই চিনি ১৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু সিন্ডিকেটের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সিন্ডিকেট করে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন আমদানিকারকরা। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়ানো হচ্ছে চিনির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ টাকা দাম বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ১০৪ টাকার খোলা চিনি ১৩৮ টাকায় গিয়ে ঠেকছে। 

বুধবার বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করায় মঙ্গলবার বিষয়টি সরকারের নজরে আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

চিঠিতে বলা হয়েছে- আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনি বর্তমানে প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৬৭৫ মার্কিন ডলার। এক মাস আগে ছিল ৫২০ ডলার। এই বাস্তবতায় সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা চিনি আমদানিতে ঋণপত্র খুলতে ভয় পচ্ছেন। ৬৭৫ ডলার দরে প্রতি টন চিনি আমদানি করলে চিনির আমদানি মূল্য পড়ে প্রতি কেজি ১৩১ টাকা। সঙ্গে ৩৫ টাকা সরকারের শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর দিতে হবে। এ অবস্থায় অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা চিনি আমদানি করতে সাহস পাচ্ছেন না।

বুধবার ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। তার মেয়াদ রোববার শেষ হয়েছে। এখন থেকে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের ওপর আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে পণ্য খালাস করতে হবে।

উৎপাদন পর্যায়েও ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে বাজারে ভোজ্যতেল সরবরাহ করতে হবে। আগের হারে ভ্যাট আদায় হবে বলে এক লিটার বোতলের সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে।

জাগরণ/অর্থনীতি/এসএসকে