• ঢাকা
  • রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৩, ১২:২০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ৪, ২০২৩, ১২:২০ এএম

রফতানি আয়ে বড় ধাক্কা

রফতানি আয়ে বড় ধাক্কা
ছবি ● প্রতীকী

রেমিট্যান্স প্রবাহে ধাক্কার পর বিদায়ী এপ্রিল মাসে কমলো রফতানি আয়ও। একক মাসের হিসাবে এপ্রিলে রফতানি আয় কমেছে ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ মাসে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০৫ কোটি মার্কিন ডলারের। এর বিপরীতে এপ্রিলে রফতানি হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৬৭ ভাগ কম।

গত বছরের এপ্রিল মাসে মোট রফতানি আয় হয়েছিল ৪৭৩ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই অনুযায়ী গত বছরের এপ্রিল থেকে এ বছরের এপ্রিলে রফতানি আয় কমলো ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

বুধবার (৩ মে) বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রফতানি আয়ের মাসিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈরি পোশাক রফতানির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো রফতানি খাতে। এপ্রিল মাসে পোশাক রফতানি কমেছে ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর মধ্যে ওভেন পোশাক প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর নিট পোশাকের প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর পরিচালক ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, দুই কারণে রফতানি আয় কমে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ঈদের কারণে শ্রমিকদের অনেকেই ছুটি কাটিয়েছেন, এ কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। আরেকটি কারণ হলো, বৈশ্বিক মন্দা। বৈশ্বিক মান্দার কারণে যদি রফতানি কমে থাকে তাহলে আগামী মাসগুলোতেও রফতানি কমতে থাকবে। আর যদি ঈদের কারণে কমে থাকে, তাহলে হয়তো সামনের মাসগুলোতে একটু বাড়তে পারে।

ইপিবির তথ্যে আরও জানা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) হিসাবে রফতানিতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও গত বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এই দশ মাসে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৭৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। এর বিপরীতে আয় হয়েছে চার হাজার ৫৬৭ কোটি ৭৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

আগের অর্থবছরের (২০২১-২২) দশ মাসে দেশে মোট রফতানি আয় হয়েছিল চার হাজার ৩৩৪ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। সে হিসাবে গত বছরের দশ মাসের চেয়ে এ বছরের দশ মাসে আয় বেড়েছে পাঁচ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যে আরও জানা যায়, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের চেয়ে ১০ মাসে এসে রফতানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধিও কমেছে। জুলাই-মার্চ মাসে যেখানে তৈরি পোশাক খাত থেকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ সেখানে জুলাই-এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি কমে হেয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য প্রধান রফতানি পণ্যেরও আয় কমেছে গত ১০ মাসের হিসাবে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৩৮ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার পোশাক রফতানি হয়েছে। শুধু এপ্রিলে হয়েছে তিন দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) পোশাক রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছ ৪৬ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার বা ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর এখন পর্যন্ত ১০ মাসে পোশাক রফতানি অর্জিত হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। আগামী দুই মাসে (প্রতি মাসে) কমপক্ষে চার দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার করে রফতানি হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

জাগরণ/অর্থনীতি/এসএসকে