• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০, ০২:২২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০, ০২:২২ পিএম

অনলাইন পরীক্ষায় নকল সরবরাহ করছে গুগল

জাগরণ ডেস্ক
অনলাইন পরীক্ষায় নকল সরবরাহ করছে গুগল
অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এক শিক্ষার্ত্রী। ফাইল ছবি

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন কর্তৃক অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক একটি রিপোর্ট সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ কার্যক্রম কেমন চলছে তা নিয়ে গত দুই মাস যাবত আমাদের একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক দিক আজ আমরা তুলে ধরছি। এখানে লক্ষণীয় বিষয়  ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে বস্তিতে বসবাসকারী পরিবারের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১০০ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পাঁচটি পরিবারে ব্রডব্যান্ড ওয়াইফাই সংযোগ পাওয়া যায়। বাকি ৯৫ টি পরিবারের পুষ্পান্ন পরিবারের কাছে ত্রিশটি থ্রিজি ও বিসি ৪ম ইন্টার্নেট ব্যবহার করছে এমন তথ্য পাওয়া যায়। ৪০ টি পরিবারের ১৫ টি তে অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ডসেট ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে ব্যবহার করছে না বলে তারা মন্তব্য করেন। ২৫ টি পরিবারের কাছে টুজি ব্যবহার করা হ্যান্ডসেট রয়েছে। উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সকলের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ওয়াইফাই ব্যবহার করছে ৬৫ টি পরিবার। 

এ সকল পরিবারের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদন খেলা নিয়ে বেশি সময় পার করছে। স্মার্টফোন ল্যাপটপ ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষার সময় গুগোল সহজেই শিক্ষার্থীদের চাহিদা মাফিক নকল সরবরাহ করছে এটিই এই পর্যবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে আমরা পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক পর্যায়ে আজ তুলে ধরছি। এ একটি বিষয় নিয়ে অভিভাবগণরা সচেতন নন। কারণ, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ছেলেমেয়েরা যেন বই দেখে লিখতে না পারে তার ব্যবস্থা যেন আমাদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়। শিক্ষকদেরও মতামত দীর্ঘদিন যাবৎ ইন্টারনেট ব্যবহার করার কারণে শিক্ষার্ত্রীরা জানে যে কোন প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া গেলেও গুগলের কাছে চাইলেই তা সহজেই পাওয়া যাবে তাই সহসায় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুগলের সহায়তা নিচ্ছে তারা। 

যার ফলে ছেলেমেয়েদের আগের মত এখন আর লেখাপড়ায় মনোযোগী হচ্ছে না। অথচ অনলাইন পরীক্ষায় প্রত্যেকেই ফলাফল ভালো করছে। শিক্ষকদের মন্তব্য ঘরে বসে থেকে বেশি বেশি পড়ালেখা করার কারণে হয়তো তারা ফলাফল ভালো করছে। কিন্তু, গুগোল শিক্ষার্থীদের অনৈতিক সহায়তা করতে পারে এ সম্পর্কে শিক্ষকরাও সচেতন নন। পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক পর্যায়ে আরও একটি বৈষম্য বিশেষভাবে লক্ষণীয় তা হচ্ছে ৪০% দরিদ্র পরিবারের উচ্চমূল্যের ডাটা ও ডিভাইস কিনতে না পারার কারণে তার সন্তানকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাতে পারছে না। ফোনে শিক্ষা কার্যক্রমে একটি ব্যাপক বৈষম্য লক্ষ করা গেছে এতে করে শিক্ষা চলে যাচ্ছে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতে আগামী দিনে এই পরিস্থিতি বিরাজ করলে দেশের ৮০% শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে। তাছাড়া শিক্ষক ও অভিভাবকরা যদি প্রযুক্তি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও সচেতন না হয় তাহলে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা কোন কাজে আসবে না। বরঞ্চ আগামী দিনে আরও মেধাহীন অলস একটি জাতি পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই সামগ্রিক দিক বিবেচনা নিয়ে সরকার শিক্ষক অভিভাবক সকলেই একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জাগরণ/এমএইচ

আরও পড়ুন