• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২১, ০৯:০৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৯, ২০২১, ০৯:০৯ পিএম

ঔপনিবেশবাদী সাম্রাজ্যবাদও তাদের অন্যায়বাদী শাসনকে স্বীকার করে

ঔপনিবেশবাদী সাম্রাজ্যবাদও তাদের অন্যায়বাদী শাসনকে স্বীকার করে
ফাইল ফটো।

ভাগ্যাহত শরণার্থী জীবনের দুঃখ-দুর্দশা আর তাদের জীবনে ঔপনিবেশিকতার প্রভাব নিজের লেখনীতে দ্ব্যর্থহীনভাবে ফুটিয়ে তুলে সাহিত্যে চলতি বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তানজানিয়ার ঔপন্যাসিক আব্দুল রাজাক গুরনাহ। বৃহস্পতিবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে। সুইডিশ একাডেমি বলেছে, আব্দুল রাজাক গুরনাহ'র আপোষহীন ও দরদী লেখায় ঔপনিবেশিকতার দুর্দশা আর শরণার্থীদের জীবনের নানা কষ্ট-ব্যাঞ্জনার গল্প ফুটে উঠেছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও মানুষের নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লেখক ও  সংস্কৃতি কর্মী  জগদীশ রায়ও তার ফেসবুক ওয়ালের এক পোষ্টে আবদুল রাজাক গুরনাহ'র সাহিত্যে নোবেল পাওয়াকে মূল্যায়ন করেছেন ছোট পরিসরে। ফেসবুকে পোষ্ট করা প্রতিক্রিয়াটি হুবহু তুলে ধরা হলো জাগরণের পাঠকবৃন্দের জন্যে। 


এবারে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পেলেন আবদুল রাজাক গুরনাহ। ইংরেজি ১৯৪৮ সালে তানজানিয়ার জানজিবার দ্বীপে জন্ম হলেও ১৯৬০ সালেই শরনার্থী হিসেবে বৃটেনে আসা। ২১ বছর বয়সে সোয়াহিলি ভাষাতেই লেখালেখির শুরু এবং পরবর্তীতে ইংরেজিতে। খান দশেক উপন্যাস এবং কিছু ছোটগল্প।

১৯৯৪-তে লেখা চতুর্থ উপন্যাস "প্যারাডাইস"-ই তাঁকে নোবেল পাইয়ে দেয় যা ইতোপূর্বে বুকারেও ভূষিত হয়েছিল। 'প্যারাডাইস'-র সুঘ্রান আজও এ অব্দি সেভাবে না পৌঁছালেও ঔপনিবেশিক শাসন শোষণে পিষ্ট আফ্রিকান, বিশেষত পূর্ব আফ্রিকান শরনার্থী  জনজীবনের দুঃখ, বেদনা, হতাশা, ভাঙ্গন এবং এসবের ফোকর থেকে গজিয়ে ওঠা ভালোবাসাই এ উপন্যাসের মোটাদাগের উপজীব্য।

ঔপনিবেশিক শাসনের কুপ্রভাব নিয়ে অনমনীয় মনোভাব দেখিয়ে বারবার গর্জে উঠেছে আবদুলের কলম। শরনার্থী জীবনের শোষণ, বঞ্চনা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিটি শব্দকে তিনি তাঁর উপন্যাসের পাতায় গেঁথে দিয়েছেন বিষমাখা তীরের ফলার ন্যায়।

 ছবি- লেখকের পোষ্ট থেকে স্ক্রিন শট নেয়া। 

যে ভালোলাগা থেকে এই লেখার অবতারণা- তা হলো, উপনিবেশবাদী সাম্রাজ্যবাদ মাঝেমধ্যে হলেও তাদের অন্যায়বাদী শাসন শোষণকে স্বীকার করে এবং যারা এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, প্রতিবাদ জারি রাখে তাঁদেরকেও স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। যেমন বাধ্য হয়েছিল বাট্রান্ড রাসেল (১৯৫০), জঁ-পল সাত্র (১৯৬৪), পাবলো নেরুদা (১৯৭১), গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ (১৯৮২), নাগিব মাহফুজ (১৯৮৮), গুন্টার গ্রাস (১৯৯৯), নাইপল(২০০১) এবং ওরহান পামুক ইত্যাদি ক্ষণজন্মাদের বেলায়ও। 

 

জাগরণ/এসকেএইচ