• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২১, ০৩:১৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৬, ২০২১, ০৪:১৫ এএম

গাজরের গুণ নিয়ে যা বললেন পুষ্টিবিদ

গাজরের গুণ নিয়ে যা বললেন পুষ্টিবিদ

শীতের সবজি গাজর। মিষ্টি এই সবজিটি কাঁচা বা রান্না দুভাবেই খাওয়া যায়। গাজরের নানা পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ফারজানা আহমেদ।

পুষ্টিবিদ ফারজানা আহমেদ জানান, সুন্দর আকর্ষণীয় ত্বক পেতে গাজরের কোনোই জুড়ি নেই। ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এই সবজিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রচুর পরিমাণে ডাইটারি ফাইবার রয়েছে, যা টানটান সুন্দর ত্বক  ধরে  রাখতে সাহায্য  করে। 

ফারজানা আহমেদ বলেন, “সারা বিশ্বে গাজর খুব সমাদৃত একটি সবজি। লম্বা আকারের এই সবজিটি বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। লাল, হলুদ, বেগুনি, সাদা। আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হলুদ রঙের গাজরই দেখা যায়।”
গাজরের পুষ্টিগুণ নিয়ে ফারজানা বলেন, “বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গাজরের যে হলুদ রংটা থাকে এটার কারণ থাকে বিটা ক্যারোটিন ও আলফা ক্যারোটিন। অর্থাৎ ভিটামিন-এ। ভিটামিন-এ ছাড়াও ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন-কে, খনিজ উপাদান ও বিভিন্ন ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া গাজরে জিও জ্যান্থিন ও লুথিন পাওয়া যায়। গাজরে প্রচুর ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনি খুব সুন্দর  একটা স্ক্রিন আমরা গাজর খাওয়ার মাধ্যমে পেয়ে থাকি।”

“প্রতিদিন যদি আমরা এক গ্লাস গাজরের শরবত খাই, তাহলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুণ বেড়ে যায়। বিভিন্ন ভিটামিনের সঙ্গে ফসফরাস ও পটাশিয়ামের উপস্থিতির কারণে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্কের গঠনে গাজর খুব ভালো ভূমিকার রাখে। মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা বা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গাজর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আমাদের হাড্ডি মজবুতকারী ক্যালসিয়ামও উপস্থিত থাকে।”

“গাজর কোলেস্টোরেল এবং ব্লাড সুগার লেভেল কন্ট্রোল রাখতে ভূমিকা রাখে। কেননা, এতে উচ্চমাত্রায় খাদ্যআঁশ থাকে। এর সঙ্গে থাকে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম, যা ব্লাড সুগার কন্ট্রোল করতে সাহায্য করে।”

“আমরা যারা অতিরিক্ত ওজনে ভুগি, তাদের জন্য গাজর একটি উৎকৃষ্ট খাবার। এর কারণ হচ্ছে গাজর পিত্তথলি থেকে পিত্তরস নিঃসরণে সাহায্য করে, যা ফ্যাট বার্ন করতে সহায়তা করে। এভাবে আমরা আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে গাজরকে ব্যবহার করেতে পারি।”

“লিভারের যত্নেও গাজরের কোনো জুড়ি নেই। লিভারকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন আমাদের অল্প করে গাজর খাওয়া উচিত। লিভারের ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে গাজর প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখে।”

“ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন আমাদের লিভারের টক্সিনের যে সাবস্ট্যান্ডগুলো থাকে, তা সরাতে ভূমিকা রাখে। শক্ত মজবুত দাঁতের জন্য গাজরের কোনো তুলনা নেই।”

“গাজরের সবচেয়ে মজার এবং প্রথম কাজ হচ্ছে চোখের স্বাস্থ্য। গাজরে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ থাকায় চোখের জন্য খুবই ভালো। পুরো বিশ্বে গাজরের বিটা ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ চোখের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত।”

“গাজর বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। সবজি, জুস খাওয়া যায়। কাঁচা সালাদে গাজর খুবই উপকারী। তাতে কোনো পুষ্টিই নষ্ট হয় না। অনেকে গাজরের হালুয়া খুব পছন্দ করে খায়। বাচ্চাদের জন্মের পর থেকে যদি আমরা আলাদা খাবার হিসেবে গাজর দিই, সেটা যদি শিশুরা হজম করতে পারে, সে ক্ষেত্রে এটা চোখের জন্য খুবই ভালো হয়। ধীরে ধীরে যখন বাচ্চা বড় হয় গাজর বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে ভূমিকা রাখতে পারবে। আজকাল ট্যাব, কম্পিউটারের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বাচ্চাদের চোখের ওপর অনেক চাপ পড়ে। এবং চোখের সমস্যাও বেড়ে চলেছে। চোখের যত্নে সত্যিকার অর্থে গাজরের কোনো জুড়ি নেই।”