• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২১, ০১:২৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৭, ২০২১, ০৭:৩২ এএম

শিশুর মানসিক বিকাশে নজর রাখুন ৫ বিষয়ে

শিশুর মানসিক বিকাশে নজর রাখুন ৫ বিষয়ে

১৭ মার্চ বুধবার জাতীয় শিশু দিবস। শিশুদের প্রতি যত্নশীল হতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিশুদের সব ধরনের স্বাস্থ্যের উপরই সমান মনোযোগ প্রয়োজন। এই বিষয়গুলো তদারকি করতে হয় বাবা-মা, পরিবার-পরিজন ও শিক্ষকদেরকেও। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ না হলে একটি শিশুর প্রতিভা আড়ালেই থেকে যায়। নিজের মধ্যে ভীতি আর সংযতবোধ নিয়ে বড় হয় শিশুরা। তাই শিশুর মানসিক বিকাশেও পর্যাপ্ত যত্ন নিতে হয়।

শিশুরা যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে কী করা যেতে পারে, তা নিয়ে অভিভাবকদের ৫টি বিষয়ে নজরে রাখার পরামর্শ থাকছে আজকের আয়োজনে।

পরিস্থিতি মূল্যায়ন করুন

কোন আচরনটি শিশুর উদ্বেগের কারণ হচ্ছে বা কোন পরিস্থিতিতে শিশু আতঙ্কিত ও অস্বাভাবিক আচরন করছে তা নির্ণয় করুন। এককথায় ট্রিগার আচরণটি নির্ণয় করে তা সমাধান করা চেষ্টা করুন। দিনের কোনও নির্দিষ্ট সময়ে যদি হয়, তাও পর্যবেক্ষণ করুন।

সঠিক জ্ঞান রাখুন

অনলাইনে যেকোনও প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। কিন্তু প্রচুর ভুল তথ্যও রয়েছে। সর্তক হয়ে যেকোনও বিষয়ে সঠিক জ্ঞান নিন। ২০১২ সালের আরবিসি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর জরিপ চালিয়েছে। সেখানে বাবা-মায়ের প্রায় ৮০ শতাংশই এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন যার অর্ধেকেরও বেশি  বিশ্বাসযোগ্য তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ‘দুঃস্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেন।

সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন

সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। সন্তানের সঙ্গে যতো বন্ধুত্ব আচরণ হবে ততোই সম্পর্কগুলো উন্নত হবে। আর সন্তানের মানসিক জড়তাও কাটিয়ে যাবে। বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করুন, "সব ঠিক আছে কি?" যদি উত্তরে ‘হ্যাঁ’ আসে, তবুও তার কথাগুলো জানার পুরো চেষ্টা করুন। স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন বলে মনে করছে কী না আপনার সন্তান, এ বিষয়েও নজর দিন।

শিশুর পাশের মানুষকে জানুন

স্কুলে কিংবা বাড়ির আশপাশে অনেক শিশুই বন্ধু হতে পারে আপনার সন্তানের। অন্য যে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে তাদের সঙ্গেও কথা বলুন। তারা কেমন তা পর্যালোচনা করুন।  এছাড়াও আপনার শিশুকে জড়িয়ে রয়েছেন শিক্ষক, খেলার কোচ, নিয়মিত পরিচর্যাকারী বা আত্মীয়-স্বজনারা। তাদের সম্পর্কে জানুন। তাদের সঙ্গে আপনার সন্তানের সম্পর্ক কেমন তা জানুন। এগুলোও সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। যদি শিশুর মানসিক ডাক্তারের পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তবে এই তথ্যগুলো আপনাকে সাহায্য করবে।

আশা রাখুন

মনে রাখবেন, মানসিক অসুস্থতা যেকোনও সময় হতে পারে কিংবা এটি থেকে একেবারেই পরিত্রাণ সম্ভব নয়। ইতিহাসে অনেকেই রয়েছেন, যারা শৈশব থেকে মানসিক অসুস্থতায় ভুগেছেন, কিন্তু পেশায় বা কাজে নিজেদের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তাই আশা রাখুন। সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক করতে ইতিবাচক আচরণ করুন। নেতিবাচক আচরণ বা পরিস্থিতি থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখুন  আপনার সন্তানকে।