• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২১, ০৮:০১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২০, ২০২১, ০৯:১৬ এএম

সামুদ্রিক মাছ কেন খাবেন

সামুদ্রিক মাছ কেন খাবেন

সামুদ্রিক মাছ, মানে নোনা পানির মাছ। স্বাদের বেলায় ষোলআনায় পূর্ণ। সমুদ্রের কাছে যাবো আর সামুদ্রিক মাছ খাবো না তা যেন হতেই পারে না। প্রায় অধিকাংশ বাঙালির প্রিয় খাবারের তালিকায় থাকে এটি।

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। দক্ষিণে রয়েছে  বঙ্গোপোসাগর। তাই ভৌগলিক কারণে নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ ধরা দেয় জেলেদের জালে। আর সে সঙ্গে দেশের বাজারেও এখন বেশ সহজলভ্য নানা জাতের সামুদ্রিক মাছগুলো।

শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও ষোল আনায় পূর্ণ সামুদ্রিক মাছ। এমনকি মিঠা পানির মাছের চেয়ে সামুদ্রিক মাছের পুষ্টিগুণও অনেক বেশি বলে জানান পুষ্টিবিদরা। 

সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ওমেগা থ্রি, ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ডি প্রচুর পরিমাণে। পাশাপাশি রয়েছে উচ্চ প্রোটিনও। নেই কোনো ক্ষতিকর ফ্যাট। ফলে সামুদ্রিক মাছ খেতে তেমন কোন নিষেধ বেধে দেয় না চিকিৎসকরা।

এছাড়াও কম ফ্যাটযুক্ত হওয়ায় সামুদ্রিক মাছের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। সামুদ্রিক মাছের আরও কিছু উপকারিতা জানাবো আজকের আয়োজন।

রোগ প্রতিরোধ

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম সামুদ্রিক মাছ। সামুদ্রিক মাছে রয়েছে জিংক ও আয়োডিন। জিংক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আয়োডিন গলগন্ড রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। 

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

বেশিরভাগ সামুদ্রিক মাছে ভিটামিন এ ও ডি থাকে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। সামুদ্রিত মাছ রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এর মধ্যে থাকা আমিষ ও তেল ওজন কমাতেও সাহায্য করে। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সামুদ্রিক মাছ খুবই উপকারি। 

হৃদরোগ প্রতিরোধ

সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা থ্রি নামক ফ্যাটি এসিড হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। 

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি

সামুদ্রিক মাছের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড রেটিনার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে সার্বিকভাবে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে। 

জয়েন্ট পেইন সারাতে

রিউমাটয়েড আর্থাইটিসে আমাদের অস্থিসন্ধিগুলো ব্যথাসহ ফুলে যায়। নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খেলে রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের উপসর্গ কমে আসে।

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে

নিউরোলজিস্টদের মতে, শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বাড়তে থাকলে মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশের ক্ষমতা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝেইমারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

গর্ভবতী নারী শিশু

যেসব নারী তাদের গর্ভকালীন সপ্তাহে অন্তত ৩৪০ গ্রাম সামুদ্রিক খাবার খান তাদের সন্তান বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে জন্ম নেয়। সামুদ্রিক মাছের নানা পুষ্টিগুণের কারণেই শিশুর পুষ্টি পায়।

সহজে হজমযোগ্য আমিষ

ভিটামিন বি এর উৎকৃষ্ট উৎস সামুদ্রিক মাছের আমিষ সহজে পরিপাকযোগ্য। এছাড়া এটি দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়রোধেও সাহায্য করে। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা থ্রি এসিড, ভিটামিন এ ও ডি অনেক সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম।