• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২১, ০৩:২৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৯, ২০২১, ০২:১১ পিএম

কোন হাসপাতালে কেমন জনবল

কোন হাসপাতালে কেমন জনবল

জনবল সংকট ও রোগীর স্বাস্থ্যসেবা চাহিদা মেটাতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে নতুন জনবল কাঠামোর সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। 


গত ১৫ জুন মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানসমূহের বিভিন্ন শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জনবলের ‘স্ট্যান্ডার্ড সেট আপ’ প্রণয়ন করা হয়।

সুপারিশকৃত নতুন জনবল কাঠামোতে বলা হয়, হাসপাতালে প্রতিটি রোগীর জন্যই পর্যাপ্ত শয্যা থাকবে। শয্যার অভাবে কোনো রোগীকে ফ্লোরে থাকতে হবে না। একইসঙ্গে চিকিৎসক, নার্সসহ পর্যাপ্ত জনবলও নিয়োগ দেওয়া হবে।

সভায় এ সময় সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে জনবল সৃষ্টি হয়নি। জনবল ছাড়া যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসাশিক্ষা নিশ্চিত সম্ভব না। এজন্য চাহিদার নিরিখে জনবলের স্ট্যান্ডার্ড সেট আপ তৈরি করা প্রয়োজন।


সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে হাসপাতালগুলোতে জনবল সংক্রান্ত নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়- 

১) ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল : খসড়া সেট আপে টিকেট ক্লার্ক এবং স্টোর কিপার এই দুটি পদকে একীভূত করে একটি পদ দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে।

২) ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল : চিকিৎসকের অনুপাতে দ্বিগুণ নার্সের সংখ্যা (সিনিয়র স্টাফ নার্স ৯টির স্থলে ১৭টি, মিডওয়াইফ ৩টির স্থলে ৬টি, নার্সিং সুপারভাইজার ১টির স্থলে ২টি) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একইভাবে আয়া পদটিও ৩টির স্থলে ৪টি হবে।

৩) ২০ শয্যাবিশিষ্ট (ট্রমা) হাসপাতাল : স্ট্যান্ডার্ড সেট আপে নার্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে (নার্সের সংখ্যা ৯টির স্থলে ১৩টি করতে হবে)। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ট্রমা সেন্টারের সেট আপ আলাদা হবে।

৪) ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল : উল্লিখিত খসড়া সেট আপে প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, ইলেকট্রোমেডিকেল/বায়োমেডিকেল টেকনিশিয়ান, ইনমেন্ট কেয়ারটেকারের একটি করে পদের সংস্থান করতে হবে। এছাড়াও নিউট্রিশন, ইনফেকশাস ডিজিস, অটিজম বিভাগ নামে তিনটি নতুন বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৫) ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা/জেলা সদর ও ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল : খসড়া সেট আপে প্রকিউরমেন্ট বিভাগ, আইটি বিভাগ ও পেডিয়াট্রিক বিভাগ সৃষ্টি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে (ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজিস্ট/কাউন্সিলর), রেডিওথেরাপি বিভাগে (মেডিকেল ফিজিসিস্ট) পদ সংস্থান করতে হবে।

৬) ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল : সেট আপে মেডিকেল অনকোলজি, গাইনি অনকোলজি, সার্জিক্যাল অনকোলজি, জেরিমেট্রিক ও পেলিয়েটিভ কেয়ার বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাছাড়া ক্যাজুয়্যালিটি ব্লকের পরিবর্তে ইমার্জেন্সি ও ক্যাজুয়্যালটি বিভাগের নামকরণ করতে হবে।

৭) প্রতিটি শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসক, আনুপাতিক হারে নার্স, মিডওয়াইফ ও সহায়ক জনবলের
সংস্থান করতে হবে।

৮) ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৩ হাজার শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল : ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জনবলের সেট আপ অনুযায়ী তদূর্ধ্ব শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক, আনুপাতিক হারে নার্স, মিডওয়াইফ ও সহায়ক জনবলের সংস্থান করতে হবে।

৯) জনবলের স্ট্যান্ড সেট আপ প্রণয়ন কমিটি আগামী ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে নির্দেশনা মোতাবেক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

পরবর্তীতে সভায় গৃহীত এসব সিদ্ধান্তসমূহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।