• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২২, ০১:১৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১৩, ২০২২, ০৭:১৩ পিএম

ডেঙ্গু পরিস্থিতি

এক দিনে রেকর্ড ৮ মৃত্যু

এক দিনে  রেকর্ড ৮ মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮৩ জনে। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬৫ জন।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬৫ জন। এ নিয়ে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা দাঁড়ালো ২ হাজার ৬৯৫ জনে। এর মধ্যে ঢাকার ৪৯৭ জন। ঢাকার বাইরে ২৬৮ জন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২৩ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২০ হাজার ৫০৪ জন।

২০২১ এ সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতিতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সামনের দিনগুলোতে বড় চ্যালেঞ্জ আসতে পারে জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে এর প্রকোপ। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে মানুষকে সচেতন হবার আহ্বান জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

গত ২৪ ঘণ্টায় ( মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত)) শুধু ঢাকাতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৪১৫ জন, আর সারাদেশে এ সংখ্যা ৬৪৭। এ বছর ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৫১৭ জন। আর শুধু ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৭শর বেশি মানুষ।

সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এ বছরই প্রথম ডেঙ্গুর ৩টি ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয়। এতে চিকিৎসায় জটিলতা বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবির জানান, দেশে যে ৭৫ জন মারা গেছেন, তাদের ৪৮ জনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে ভর্তির ৩ দিনের মধ্যে। আর ৬ দিনের মধ্যে মৃত্যু হয় ১৮ জনের। এ অবস্থায় সব হাসপাতালকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অধ্যাপক আহমেদুল কবির বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এটি কমছে না। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের সমস্ত হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য লোকবল, লজিস্টিকস, জায়গা তৈরি রাখার ওপর জোর দিচ্ছি। সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী ভর্তির পাশাপাশি আবার কত ডেঙ্গু রোগী আসবে তা আমরা জানি না। যে কারণে জায়গা তৈরি রাখছি, কেউ যেন বিনা চিকিৎসায় ফেরত না যায়।

মিরপুর, উত্তরা, মুগদা, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ি, ও বাসাবো ও খিলগাঁও এলাকাকে রাজধানীতে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

জাগরণ/স্বাস্থ্য/এসএসকে