• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১, ০৩:০৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম

জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাষা দিবস পালন

জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাষা দিবস পালন

জর্ডানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও ভার্চুয়াল কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

দিবসের প্রত্যুষে দূতাবাসে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও দূতাবাসে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং ভাষাশহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর প্রদর্শন করা হয় দূতাবাস নির্মিত একটি ছোট ভিডিওচিত্র। একুশের আল্পনায় সজ্জিত দূতাবাস চত্বরে এসময় মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূতসহ কূটনীতিকবৃন্দ, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, জর্ডানের স্থানীয় নাগরিক এবং জর্ডানে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার শুরুতেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক, জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও জর্ডান, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া সব সন্মানিত অতিথি ও দর্শকদের স্বাগত জানান।

নাহিদা সোবহান বলেন, “বঙ্গবন্ধুর কারণে আজ ‘বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব বাঙালির জাতীয় চেতনাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব একটি স্বাধীন জাতির ভীত রচনা করেছিল, যা কয়েক দশকের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

উক্ত ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জর্ডানের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ডক্টর বাসেম মোহাম্মদ আল তুয়েসি, বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

এ ছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আব্দেল করিম এবং ঢাকা থেকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদ। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদত্ত ভিডিওবার্তা প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জর্ডানের সংস্কৃতিমন্ত্রী ডক্টর বাসেম মোহাম্মদ আল তুয়েসি বলেন, “মাতৃভাষা বাঙালির ভাষার জন্য আত্মত্যাগ শুধু তাদের নিজদের ভাষাই নয়, বরং সেই সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্র ও আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর ফলে ভাষা শহীদ দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করেছে।”

বাসেম মোহাম্মদ আল তুয়েসি আরো বলেন, “ভাষা বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং এটি মানুষের অতীত, ঐতিহ্য  এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে সেতুবন্ধ তৈরি করে। এটি যোগাযোগের মৌলিক মাধ্যম। ভাষা একটি জাতির পরিচয় বহন করে। তাই বিশ্ব যত বেশি বহু ভাষাভাষীর সংখ্যা বজায় রাখতে পারবে, ততই আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হবে।”

বাংলাদেশ ও জর্ডানের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির লক্ষ্যে উভয় ভাষার শিল্প ও সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ ও উভয় ভাষায় অনুবাদ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এই দিবসকে তিনি আন্তর্জাতিকীকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। 

মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ভিডিওবার্তায় বলেন, “বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষাকে বিশ্বের অন্য ভাষাভাষীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেন।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, “ভাষা একটি জাতির পরিচয়। এটি জাতিসত্তার ধারক ও বাহক। আমরাই পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা নিজেদের মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে এবং সেই ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বাংলাদেশের প্রথম গৃহীত সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর প্রথম ভাষণটিও ছিল বাংলায় দেওয়া। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময়ই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়ে থাকেন।”

বিশেষ অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তৎকালীন অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি প্রাণ দিয়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। ভাষার দাবিতে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এ দিবসের তাৎপর্য লুকিয়ে আছে দেশকে ভালোবাসা, দেশের মানুষকে, দেশের সংস্কৃতিকে ভালোবাসা ও তার জন্য গর্ববোধ করার মধ্যে। এ দিবসে প্রত্যেক ভাষাভাষী মানুষ নিজের মাতৃভাষাকে যেমন ভালোবাসবে, তেমনি অন্য জাতির মাতৃভাষাকেও মর্যাদা দেবে। এভাবে একুশকে চেতনায় ধারণ করে মাতৃভাষাকে ভালোবাসার প্রেরণা পাবে মানুষ।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ বক্তা জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আব্দেল করিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এই আরব অঞ্চলের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ।”