• ঢাকা
  • শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২১, ১১:১৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২৪, ২০২১, ০৫:৩১ এএম

জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকী উদযাপন

জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকী উদযাপন

জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক জুলিও-কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করার ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশি নেতাদের ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন দিক বিশেষত বিশ্ব ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় তার অবদান নিয়ে আলোকপাত করা হয়। 

বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বিশ্ব শান্তি ও মানবতার কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও অবদানের বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাংলাদেশ ও বাঙালির অহংকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির বীজ বপন করেছেন। বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ভাবমূর্তি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেই পরিচালিত।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের শান্তির সপক্ষে অবস্থানকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ঊষালগ্নেই নিশ্চিত করেছিলেন তার “সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়” নীতির মাধ্যমে।

১৯৭৩ সালের এই দিনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের উত্তর প্লাজায় অনুষ্ঠিত ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব শান্তির দূত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আজ থেকে শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে।” 

প্রকৃত অর্থেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ববন্ধু। বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোসহ বিশ্বের যেকোনো শান্তি প্রচেষ্টার অন্যতম সহযোগী। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক যেকোনো শান্তি প্রচেষ্টার বাংলাদেশ একনিষ্ঠ অংশীদার, যা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেই  বিকশিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তি তাঁর অসংখ্য অবদানের একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগের কারণেই বিশ্বের মানুষের কাছে চির শান্তির দূত হিসেবে ভাস্বর হয়ে থাকবেন।   

আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য বক্তারা বলেন, “আজকের যে বাংলাদেশ নিয়ে আমরা বহির্বিশ্বে গর্ববোধ করি তার গোড়াপত্তন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দক্ষিণ এশিয়ার ছোট একটি দেশ হয়েও বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে তার নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরতে পেড়েছে শুধু তাঁর নিরপেক্ষ উদারনৈতিক শান্তিপূর্ণ ভাবমূর্তির কারণে, যা বঙ্গবন্ধুর শান্তির সপক্ষের ভাবনাকে ধারণ করেই রচিত হয়েছিল।”

এই মহানায়কের নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পেরেছিল এবং তাঁর স্বপ্নেরই প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই আজকের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায়। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে বঙ্গবন্ধুকে তার জুলিও-কুরি শান্তি পদকপ্রাপ্তির ৪৮ বছর পূর্তিতে। 

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধুর জুলিও-কুরি শান্তি পদকপ্রাপ্তিবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।