• ঢাকা
  • বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২, ০৪:০৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২, ১০:০৮ এএম

অনৈতিক প্রস্তাবে মা রাজি না হওয়ায় সন্তানকে অপহরণ

অনৈতিক প্রস্তাবে মা রাজি না হওয়ায় সন্তানকে অপহরণ

রাজধানীর দক্ষিণখানের ইসমাইল হোসেন জীবন ওরফে আকাশ (২৬) পাশের বাসার ভাড়াটিয়া নারীকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। ওই নারী এতে সাড়া না দেওয়ায় তার তিন বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণ করে আট মাস লুকিয়ে রাখেন আকাশ। অবশেষে গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকেও।

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আশরাফ হোসেন সিদ্দিক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অপহরণের পর থেকেই শিশুটির মা তার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ অনেকের কাছেই ধরনা দেন। কিন্তু কেউ তার আকুতি শোনেনি। এরপর ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনারের (ডিসি) মোবাইল নম্বর জোগাড় করে ফোন দেন শিশুটির মা। সব কথা শুনে ওয়ারী বিভাগের ডিসি তার টিমসহ অভিযান চালিয়ে মাত্র তিনদিনের মধ্যে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানাধীন বিশ্বকাকনি ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এসময় গ্রেফতার করা হয় অপহরণকারী আকাশকে।

আশরাফ হোসেন সিদ্দিক বলেন, পার্শ্ববর্তী বাসার ভাড়াটিয়া অপহরণকারী আকাশ ওই নারীকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন। শিশুটিকে অসৎ উদ্দেশ্যে চকলেট ও চিপস কিনে দিয়ে ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে গত বছরের ১৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটিকে ভাড়া বাসা থেকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ভিকটিমের মা পাগলপ্রায় হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আসামির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন।

তিনি আকাশের মোবাইল মাধ্যমে যোগাযোগ করলে জানান, তার ছেলেকে কাগজপত্র করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ওই নারী তার ছেলেকে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় আসামির সঙ্গে যোগাযোগ করলে আকাশ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন।

মা অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সন্তানকে লুকিয়ে রাখা হলো ৮ মাস, আসামি ইসমাইল হোসেন জীবন ওরফে আকাশ

ডিবির কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন সিদ্দিক বলেন, সেই নারী তার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ আট মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কোনো ফল পাননি। লেখাপড়া না জানায় এবং কারও কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে উদ্ধারের বিষয়ে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারছিলেন না ওই নারী। একজন সন্তান হারানো মায়ের আহাজারিতে যখন আকাশ বাতাস ভারী, তখন বিষয়টি ডিবির দৃষ্টিগোচর হলে আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিই।

ডিবি ওয়ারীর নির্দেশনায় সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের টিম লিডার সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আকাশকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানাধীন বিশ্বকাকনি ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

ডিবি ওয়ারী বিভাগের ডিসি আরও বলেন, ওই নারী দক্ষিণখানের জামতলার একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। তিনি উত্তরার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ইসমাইল হোসেন ওরফে জীবন ওরফে আকাশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শিশুটিকে অপহরণ করে পাচার করে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না জানতে চাইলে আশরাফ হোসেন সিদ্দিক বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ বিষয়ে জানা যাবে।

জাগরণ/ইউএম