• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০১৯, ০৯:৫১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ৬, ২০১৯, ০৯:৫১ পিএম

চতুর্মুখী সংকটে ব্যাংক খাত

আলী ইব্রাহিম
চতুর্মুখী সংকটে ব্যাংক খাত

তারল্য সংকট, লাগামহীন খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে বাড়ছে ব্যাংক খাতের সংকট। ব্যাংকের পরিচালকরা সরকার থেকে নানামুখী সুবিধা নিলেও কমছে না ঋণের সুদহার। নির্দিষ্ট গোষ্ঠীদের ব্যাংক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে সুবিধা। এছাড়া তারল্য সংকট কাটাতে কোনো কোনো ব্যাংক আগ্রাসী ব্যাংকিং চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দিনে দিনে ডুবতে বসেছে ব্যাংক খাত। এই সংকট থেকে উত্তরণের শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপের দাবি অর্থনীতিবিদদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। আর এক বছরে বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৩৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণের সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের স্থিতি যোগ করলে দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫০ হাজার ১২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। যা ছিল ওই সময়ের বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর আগে অর্থাৎ গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। 

এসব বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত সমস্যার মধ্যে চলছে। প্রকৃত তথ্যের অভাবে অপাত্রে ঋণ যাচ্ছে। যারা ঋণ পাওয়ার যোগ্য নন তারাই ঋণ পাচ্ছে। এর ফরে বাড়ছে ঋণখেলাপি। এটি এখন ব্যাংক খাতের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণের যে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে তা প্রকৃত চিত্র নয়। ঋণখেলাপির বিবরণী যা দেয়া হচ্ছে তাতে পুনঃতফসিল ও রাইট অফ করা ঋণের তথ্য দেয়া হচ্ছে না। এতে প্রকৃত ঋণখেলাপির তথ্য প্রকাশ হচ্ছে না। এটি যোগ করলে খেলাপি ঋণ আরো বাড়বে।

সূত্র আরো জানায়, রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকের হাতে বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। যে কারণে তারল্য সংগ্রহে আগ্রাসী আচরণ করছে কোনো কোনো ব্যাংক। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ডাবল ডিজিটের বেশি সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে। কোনো কোনো ব্যাংক ৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ করার আশ্বাসে আমানত সংগ্রহ করছে। বছর খানেক আগেও আমানতে সুদের হার ছিল সর্বোচ্চ ৮ থেকে ৯ শতাংশ। অধিকাংশ ব্যাংক আমানত বাড়াতে অনেক কর্মকর্তাকে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে। এরপরও আশানুরূপ আমানত বাড়াতে পারছে না ব্যাংকগুলো। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত মার্চ মাসের শেষে ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ২০ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। ৩ মাস আগে অর্থাৎ গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর কাছে  আমানত ছিল ১১ লাখ ১৬ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এই ৩ মাসে আমানত বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা টাকার অংকে ৪ হাজার ১৭ কোটি টাকা। অথচ ২০১৮ সালের প্রথম ৬ মাসে আমানত বেড়েছিল ৫৪ হাজার ২৪১ কোটি টাকা এবং পরের ৬ মাসে বেড়েছিল ৫৬ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান শনিবার (৬ জুলাই) একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ব্যাংকিং খাতে স্ববিরোধী পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে। একদিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে, তারল্য সংকট চলছে, ঋণের সুদহারও উচ্চ। কিন্তু অন্যদিকে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বাড়ছে। এটা কোনো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া ব্যাংকগুলো বেশিরভাগ আমানত সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। কিন্তু ঋণ বণ্টনের সময় সুবিধা পাচ্ছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। এটি এক ধরনের বৈষম্য। এটি কমাতে হবে বলে মনে করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।  

এআই/ এফসি

আরও পড়ুন

Islami Bank