• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২০, ০২:৪৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২৩, ২০২০, ০৪:০৬ পিএম

কোভিড-১৯

নতুন আক্রান্ত চার শতাধিক, মৃত্যু আরও ৭ জনের

এসএম মুন্না
নতুন আক্রান্ত চার শতাধিক, মৃত্যু আরও ৭ জনের
অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ● ওয়েবসাইট

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৭ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২৭ জনে। যা বুধবার (২১ এপ্রিল) এর তুলনায় দু’জন কম। অন্যদিকে আবারও বাড়ল শনাক্তের সংখ্যা। একদিনের ব্যবধানে ২৪ জন বেড়ে হয়েছে ৪১৪ জন। মোট শনাক্ত ৪ হাজার ১৮৬। এ সময় কালে আরোগ্য লাভ করেছেন আরও ১৬ জন। এ নিয়ে মোট আরোগ্য করেছেন ১০৮ জন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পরে কোভিড সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই সময়ে বিশ্বের অন্য দেশে যে হারে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল তার তুলনায় একই সময়ে বাংলাদেশে সংক্রমণের সংখ্যা কম।

তিনি জানান, প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ইতালিতে ৪৫ দিনে আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ ৩০ হাজার। মারা গিয়েছিল প্রায় ১১ হাজার। স্পেনে একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ এবং মারা গিয়েছিল ১০ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয় এক লাখ ২০ হাজার এবং মারা যায় ২৪ হাজার। সে তুলনায় বাংলাদেশের প্রথম ৪৫ দিনের অবস্থান ভাল।

ইউরোপ-আমেরিকা সহ বিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা তিন শতাধিক বলেও জানান তিনি।

যারা ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে আসছে এবং আগামীতে আসবে তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ টি কেন্দ্র থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এ পর্যন্ত সর্বাধিক ৩,৯২১ টি। যা বুধবারের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। সেখান থেকে পরীক্ষা করা হয়েছে ৩,৪১৬ টি। যা গতকালের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে মোট ২৫,০৯০ জনের।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী। তারা সবাই ঢাকার বাসিন্দা।

তিনি বলেন, এক মাস আগে অর্থাৎ গত ২৩ মার্চ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ জন। এক মাস পর এই আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৪১৮৬ জন।

এই আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫.২৬ শতাংশই ঢাকা শহর ও ঢাকা বিভাগের মধ্যে। যা প্রায় ৪৫.৫১ শতাংশ। এই বিভাগের সব জেলা মিলে আক্রান্তের হার ৩৯.৭৫ শতাংশ।

ঢাকা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে আক্রান্ত জেলা ঢাকা সিটি। এর পরেই আছে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা।

এ পর্যন্ত আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ৬৮ শতাংশ এবং নারী ৩২ শতাংশ।

২২শে এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ১০% এর বয়স ষাট বছরের বেশি। ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ১৫%, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে ১৮%, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ২২%, ২১-৩০ বছরের মধ্যে ২৪%, ১১-২০ বছরের মধ্যে ৮% এবং ১০ বা ১০ বছরের নিচে বয়সীদের মধ্যে ৩% ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্তদের বয়স সীমা ২১ থেকে ৩০ বছর।

এ পর্যন্ত মোট ৫৮টি জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। নতুন যে তিনটি জেলায় শনাক্ত হয়েছে সেগুলো খুলনা বিভাগে।

ঢাকা শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছে রাজারবাগ, মোহাম্মদপুর, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী, বংশাল, চকবাজার, মিটফোর্ড, উত্তরা, তেজগাঁ ও মহাখালী।

২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে আছে ১২৩ জন। বর্তমানে আছে ৯৯৫ জন। এই সময়ের মধ্যে ছাড় পেয়েছে ২৮ জন। এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছে ৬২২ জন।

২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ৩৪২৯জন। আর প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ৫৪৮ জন।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যেসব রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ শতাংশই চিকিৎসক এবং নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকদের একটি সংগঠন।

৮ মার্চ (রোববার) দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর মাসের শেষ দিক থেকে দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। 

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৮৪ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২ হাজার ৩০০ এরও বেশি। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল সাড়ে ৪৭ হাজার।

করোনাভাইরাসের মহামারি আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমন পরিস্থিতিতে লকডাউন প্রত্যাহার করা হলে ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির প্রধান।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলে ২১ জানুয়ারি। এর প্রায় একমাস পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা হয় প্রথম প্রাণহানির কথা। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টা ক্লারা কাউন্টি কর্তৃপক্ষের দাবি যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রথম দুই ব্যক্তির মৃত্যু ৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত নিউ ইয়র্কে। সংক্রমণ রোধে স্থানীয় সরকার জারি করে লকডাউন। কিন্তু গৃহবন্দি থাকতে রাজি নন অনেক বাসিন্দা।

স্পেনে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮ হাজার ৩৮৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৭১৭ জনের।

ইতালিতে করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন আরও ৪৩৭ জন। অবশ্য আগের দিনের তুলনায় সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইতালিতে ৫৩৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল সিভিল প্রোটেকশন এজেন্সি। দেশটিতে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৮৫ জনের। ইতালিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৪ হাজার ৫৪৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

জর্জিয়া প্রথম রাজ্য হিসেবে শিথিল করেছে বিধি নিষেধ। কিন্তু এখন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন ট্রাম্প। তার মতে কড়াকড়ি শিথিলে তাড়াহুড়ো করেছেন জর্জিয়ার গভর্নর।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় আরও ৭ বাঘের শরীরে মিলেছে ভাইরাস। এপ্রিলের শুরুতে ৩টি বাঘ ও ৩টি সিংহের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়।

তৃতীয় দফায় ৯ মে পর্যন্ত জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ালো স্পেন। এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রেসিডেন্ট পেড্রো স্যানচেজ।

২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যে ৭৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১৮ হাজার। নতুন আক্রান্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) যুক্তরাজ্য, প্রথমবার মানবদেহে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।

লাতিন আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। বুধবার (২২ এপ্রিল) একদিনে দেশটিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশটিতে সংক্রমিতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ হাজার।

দেশজুড়ে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে জার্মানি। গত সপ্তাহে লকডাউন শিথিলের ঘোষণার সময় মাস্ক পরার ওপর জোর দেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল।

লকডাউন কার্যকরে ৭০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে সাউথ আফ্রিকা। দেশটিতে এপর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। প্রাণ গেছে অর্ধশতাধিকের।

চীনে বুধবার (২২ এপ্রিল) নতুন করে ১০ জনের শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাস। এর মধ্যে ৬ জনই বিদেশ থেকে ফেরা আর ৪ জন স্থানীয়।

এসএমএম

আরও পড়ুন