• ঢাকা
  • বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০১৯, ০৩:২৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৭, ২০১৯, ০৩:৪৪ পিএম

ভিন্নমতের হলেই কি মেরে ফেলবে ?

ইন্টারন্যাল ইনজুরিতে ফাহাদের মৃত্যু : ডা. সোহেল 

জাগরণ প্রতিবেদক
ইন্টারন্যাল ইনজুরিতে ফাহাদের মৃত্যু : ডা. সোহেল 
নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ-সংগৃহীত

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরাব ফাহাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।  

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ফাহাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ।

পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, লাঠি, মশারি স্ট্যান্ড জাতীয় বস্তুর আঘাতে এবং ইন্টারনাল ইনজুরিতে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে। তার দুই হাতে পায়ে, পিঠে, উরুতে, বাহুতে জখম রয়েছে। কপালে ছোট একটি ইনজুরি থাকলেও এ আঘাতে তার মৃত্যু ঘটে নি।

ফাহাদের মামাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, ফাহাদের মরদেহ গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত। কিছুক্ষণের মধ্যে দাফনের উদ্দেশে ফাহাদের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি রওয়ানা হবেন তারা। 

ওবায়দুল কাদেরের ক্ষোভ ও নিন্দা

আবরার ফাহাদকে কারা কোন ‘আবেগ ও হুজুগে’ হত্যা করেছে, তাদের ‘অবশ্যই’ খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, আমি যতটুকু বুঝি এখানে ভিন্ন মতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনও অধিকার নেই। এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যারা দোষী সাবস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারসোনালি আমার কোনও ভিন্নমত নেই।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের এ কথা বলেন তিনি। 

রোববার (৬ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আবরারকে শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে সহপাঠীদের বরাতে খবর প্রকাশ করে দৈনিক জাগরণসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। পুলিশ এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে।  

কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা নটরডেম কলেজে থেকে এইচএসসি পাস করা আবরার ফাহাদের ডাক নাম মুজাহিদ। গত ৫ অক্টোবর (শুক্রবার) ফেসবুকে দেয়া সর্বশেষ পোস্টে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তির সমলোচনা করেন। 

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভিন্নমত পোষণ করে বলে বিএনপি বলছে, ভারত সফরে দেশ বিক্রি করে দিয়েছি। তাই বলে কি বিএনপিকে মেরে ফেলব? যে নেতারা বলছে তাদের কি মেরে ফেলব?

তিনি বলেন, পুলিশের আইজির সাথে কথা হয়েছে। আমি বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিষয়টা আলোচনা করতে পারেন।

বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আবরারের মা, শোকের মাতম

সন্তানের মৃত্যুর খবরে আবরার ফাহাদের কুষ্টিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা রোকেয়া খাতুন। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। আবরারের ছোট ভাই জানান, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হল থেকে ফোন করে জানানো হয় আবরার অসুস্থ, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি। এরপরই রাজধানীর উদ্দেশে বাড়ি ছেড়েছেন বাবা বরকতউল্লাহ। আবরারের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় উল্লেখ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে ঢাকা কলেজের হোস্টেলে থাকে। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের কাছেই তার হোস্টেল।

ছাত্রলীগের নিন্দা ও তদন্ত কমিটি

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত আছে কিনা সেটি তদন্তে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ছাত্রলীগ নেতা হলেন সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ ও সাহিত্য সম্পাদক আসিফ তালুকদার। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পরই বলেছি, ছাত্রলীগ কোনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এই ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কেউ যদি বিন্দুমাত্র জড়িত থাকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করবো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।

ঢাবিতে বিক্ষোভ

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ এর হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মিছিল করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল থেকে আবরার ফাহাদ হত্যায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ভিন্নমত পোষণ করায় কাউকে হত্যা করা কোনোভাবে মানা যায় না। তারা এ হত্যার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেন। পরে মিছিলটি বুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।

এইচএম/এসএমএম

আরও পড়ুন