• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২১, ১১:৫৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৩, ২০২১, ১২:১১ পিএম

কক্সবাজার সৈকত ঘেঁষে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সড়ক

কক্সবাজার সৈকত ঘেঁষে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সড়ক

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের কলাতলী থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত বদলে যাবে চিত্র। সৈকতের তীর ঘেঁষে নির্মাণ হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সড়ক।

প্রকল্পটি পরিকল্পনা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এ ভাঙন রোধে পরিবেশ ও পর্যটনবান্ধব প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

আধুনিক এ বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে থাকছে ওয়াকওয়ে, সাইকেল বে, গাড়ি পাকিং, প্রদর্শনী মঞ্চ। বাঁধের ভেতরে থাকবে কিডস জোন, তথ্যকেন্দ্র, লকার রুম, লাইফ গার্ড পোস্ট ও ওয়াশরুম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পুরো প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দনভাবে। বালিয়াড়িতে থাকবে না কোনো প্রকার স্থাপনা। সব ধরনের স্থাপনা চলে যাবে বাঁধের অভ্যন্তরে।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ১২ কিলোমিটার মাল্টিফাংশনাল বাঁধ কাম রোডটি থাকবে ৫ কিলোমিটার সাইকেল বে, ৪.৮০ কিলোমিটার ওয়ার্কি বে, ৮ টি ফুটওভারব্রিজ, ৭০০ সিটিং ফ্যাসিলিটি, ১টি ল্যান্ডস্কেপ, ১টি প্রদর্শনী স্থান, ১০টি তথ্যকেন্দ্র, ১টি শিশুপার্ক, ১টি বাস পার্কিং স্থান, ১টি আলোক সজ্জা, ১টি ইটিপিসমৃদ্ধ পানি ব্যবস্থাপনা, ১টি একুইরিয়াম, বাইরের রেঁস্তোরা ১টি, ১৮টি লাইভ গার্ড স্টেশন, ১০টি ভাস্কর্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারের মূল পয়েন্ট কলাতলী থেকে নাজিরারটেক প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন। প্রতিনিয়ত ঢেউয়ের আঘাতে বিলীন হচ্ছে ঝাউগাছসহ বালিয়াড়ি। প্রশাসনের পক্ষে জিও ব্যাগ দিয়ে তা রক্ষার চেষ্টা করা হলেও কার্যত রক্ষা হচ্ছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ বলেন, “একসময় সমুদ্রের পানি অনেক দূরে ছিল। কিন্তু বর্তমান তা কাছে চলে এসেছে। এতে ঝাউগাছ ভাঙার পাশাপাশি বালিয়াড়িও বিলীন হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙন তীব্র হয়ে যায়।

পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল-এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হচ্ছে এ ভাঙন। এটা রোধে পরিবেশ ও পর্যটনবান্ধব পরিকল্পনা নিতে হবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীও কথা বলেন এ বিষয়ে। তিনি জানান, ভাঙন রোধে পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে আধুনিক এ বাঁধ নির্মাণ করা হবে। যেখানে ১২ কিলোমিটার এলাকায় মাল্টি ফাংশানাল বাঁধ কাম রোড থাকবে।

চলতি মার্চ মাস থেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং ২০২৪ সালে জুন মাসে পুরো প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী।