• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২২, ০৪:২১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৬, ২০২২, ১০:২১ এএম

ভূয়া ভিসা টিকিট দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা

ভূয়া ভিসা টিকিট দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা

এক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তোফায়েল নামের এক প্রতারক গৃহকর্মী হিসেবে সৌদিআরব পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এমন প্রলোভনে পড়ে ভিকটিম সৌদিআরব যেতে রাজি হন। এরপর সৌদিআরব যেতে হলে আরবী ভাষার ট্রেনিং করতে হবে, এই কথা বলে ভুক্তভোগীকে ঢাকায় নিয়ে এসে আটক রেখে ধর্ষণ করা হয়।

মানবপাচার ও প্রতারক চক্রটি মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভূয়া ভিসা ও টিকিট সরবরাহ করে বিদেশ গমনেচ্ছু বেকার যুবক যুবতীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে সর্বস্বান্ত করছে। চক্রটির ভূয়া ভিসা ও টিকিট বিমানবন্দরে প্রদর্শন করার পর ইমেগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সেগুলো জাল হওয়ায় বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

ভুক্তভোগীর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর রামপুরা ও হাতিরঝিল এলাকা থেকে প্রতারক চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলছে, তাদের জনশক্তি রপ্তানির কোনো লাইসেন্স না থাকলেও ভুক্তভোগীদের থেকে জনপ্রতি নেয়া হতো ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে। গত পাঁচ বছরে অবৈধভাবে ৫ শতাধিক নারী-পুরুষকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো, কামরুল আহমেদ (৪২), খালেদ মাসুদ হেলাল (৩৬), তোফায়েল আহমেদ (৩৮) ও মোহাম্মদ জামাল (৪২)। এসময় তাদের কাছ থেকে ২৭টি পাসপোর্ট, ১টি মনিটর, ১টি সিপিইউ, ১০০ ভিসার কপি, ১২৫টি টিকেট, কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ পরীক্ষার কাগজ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, আসামিরা সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও প্রতারক চক্রের সদস্য। কামরুল ওই চক্রের মূলহোতা এবং অপরাপর আসামিরা তার সহযোগী। তাদের জনশক্তি রপ্তানির কোনো লাইসেন্স নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানির নামে অবৈধভাবে ভ্রমণ ভিসার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠিয়ে আসছিল। এছাড়াও লোক পাঠানোর এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ গমনেচ্ছু বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া ভিসা ও ভুয়া টিকেট ধরিয়ে দিতো।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ জানায়, গ্রেপ্তার কামরুল ২০১৯ সালে ভ্রমণ ভিসায় দুবাই যায়। সেখান থেকে মানবপাচারের অর্জিত টাকা দিয়ে দুবাইয়ের রেসিডেন্স ভিসা পায় এবং একটি প্রাইভেটকার কিনে নিজেই ড্রাইভিং করে অর্থ আয় করছিলো। করোনার কারণে ২০২১ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসে বিভিন্ন ট্যুর এবং ট্রাভেলস এর সাথে যোগাযোগ করে অবৈধভাবে ভ্রমণ ভিসায় বিভিন্ন দেশে লোকজন পাঠানো শুরু করে। কামরুলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একটি চেক জালিয়াতির মামলা এবং মৌলভীবাজার আদালতে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ১৮ লাখ টাকার একটি মামলা রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে ৩৮ লাখ টাকার ওপরে পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, কামরুলের অন্যতম সহযোগী জামাল মাহবুব ইন্টারন্যাশনাল এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। মাহবুব ইন্টারন্যাশনাল মানবপাচারের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বিএমইটি কর্তৃক তাদের লাইসেন্স ব্লক করে দেয়া হয়েছে। জামাল সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। পাঁচ বছর ধরে সে কামরুলের সাথে প্রতারণা এবং মানবপাচারের কাজ করে আসছে।

গ্রেপ্তার খালেদ ২০০১ সাল থেকে ১৫ বছর সৌদিআরবে ছিল। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ফেরত এসে সে রাজনগর মৌলভীবাজারে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু ওই ব্যবসায় সফল হতে না পেরে কামরুলের সাথে প্রতারণা ও মানবপাচারের কাজে যোগ দেয়। সে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তার তোফায়েলের পেশা ড্রাইভিং। এছাড়াও মৌলভীবাজারে তার সিএনজি পার্টস এবং ডেকোরেটরসের ব্যবসা রয়েছে। অতি লাভের আশায় সে কামরুলের সাথে প্রতারণা ও মানবপাচারের কাজে যোগ দেয়। কামরুলের বড় ভাইয়ের মাধ্যমে কামরুলের সাথে তার পরিচয় হয়। উদ্ধার ভিকটিম তোফায়েলের গ্রাম সম্পর্কীয় আত্মীয়। ভিকটিমের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে সৌদিআরবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়েছিল। এরপর সে ভুক্তভোগীকে কৌশলে ঢাকায় এনে কামরুলের বাসায় আটক রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। র‌্যাবের অভিযানে ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার হয়। তোফায়েলের নামে একটি চুরি মামলা রয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।