• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০১৯, ১২:৫৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১৭, ২০১৯, ০১:৩৯ পিএম

জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ১৪ বছর

তদন্ত সম্পন্ন হয়নি অধিকাংশ মামলার

জাগরণ প্রতিবেদক
তদন্ত সম্পন্ন হয়নি অধিকাংশ মামলার


দেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) পরিকল্পিতভাবে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলার প্রায় পাঁচশ’ স্থানে একই সময়ে বোমা হামলা চালায়। সে দিনটি ছিল ১৭ আগস্ট। দীর্ঘ ১৪ বছরে মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে মাত্র কয়েকটি ঘটনার। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। 

২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলার পর বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের পরিচালিত বোমা বিস্ফোরণে মারা যান ২ বিচারক। বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন শতাধিক মানুষ। তাদের অনেকেই বিকলাঙ্গ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সবচেয়ে আলোচিত হয় ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও জগন্নাথ পাড়ে হত্যার ঘটনা।

২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে সারাদেশে নিজেদের নেটওয়ার্কের সক্ষমতা জানান দিলেও আরও আগে থেকেই জেএমবি জঙ্গি হামলা চালিয়ে আসছে। ২০০১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের রক্সি সিনেমা হল ও সার্কাস মাঠে বোমা হামলা চালায় তারা। এরপর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত হামলায় জড়িত ছিল জেএমবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ২০১৬ সালে গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা চালিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় জেএমবির নব্য ধারা (নব্য জেএমবি)।

ওই সময় বোমা হামলাকারী জেএমবি সদস্য ইফতেখার হাসান আল মামুন হাতেনাতে ধরা পড়ে। এ দুই বিচারক হত্যা মামলায় জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ সাত জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ রাতে আল মামুন ছাড়া বাকি ছয় জনের ফাসি কার্যকর করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আবু জানান, দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় মোট ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১০২টি মামলা নিষ্পত্তি হলেও ৫৯টি মামলার বিচার কাজ এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি। সবশেষ চলতি বছরের জুলাই মাসে ফরিদপুরের একটি মামলায় ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৫৯টি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ছিল প্রায় চারশ’। এর মধ্যে ৩৩৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় মোট ২৭ আসামিকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে আট জনের ফাঁসি কার্যকরও হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলায় মোট ১৮টি মামলা হয়। এর মধ্যে চারটি মামলার বিচার নিষ্পত্তি হয়েছে। পাঁচটি মামলা এখনো বিচারাধীন, বাকি ৯টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বিচার নিষ্পত্তি হওয়া চার মামলায় ৩৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশের সিটিটিসি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলাকে তারা সাউন্ড ব্লাস্ট নামে আখ্যায়িত করেছে। যেসব জায়গায় সিরিজ বোমা হামলা হয়েছে, প্রতিটি জায়গায় তারা ইসলামী আইন বাস্তবায়ন শিরোনামে লিফলেট ফেলে গেছে।

সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা বলেন, গুলশান হলি আর্টিজান ও কল্যাণপুরের  হামলার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীসহ অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহত হয়। অনেক শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে। সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়লেও নিঃশেষ হয়ে যায়নি। কারাগারের বাইরে থাকা জঙ্গিরা এখনও গোপনে সক্রিয় হবার চেষ্টা করছে।

এইচএম/আরআই

আরও পড়ুন