• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৩, ১১:৩৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২২, ২০২৩, ০৫:৩৫ পিএম

পাঁচ পরামর্শ বিশ্বব্যাংক এমডির

পাঁচ পরামর্শ বিশ্বব্যাংক এমডির
বিশ্বব্যাংকের এমডি এক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ ● সংগৃহীত

২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যেতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পাঁচটি সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের এমডি এক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ।

এগুলো হলো- আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার, ভ্যাট ব্যবস্থা সংস্কার করে কর ব্যবস্থার সংস্কার, রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন নিশ্চিত ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ। 

তার মতে, ১৯৭২ পরবর্তী বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে যে আর্থ-সামাজিক খাতে পরিবর্তন তা বিশ্ব দরবারে ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার।

রোববার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের বন্ধুত্ব উদযাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে শনিবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকায় আসেন ট্রটসেনবার্গ। 

তিনি জানান, দারিদ্র বিমোচন, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু হার কমানোসহ আর্থ সামাজিক অনেক সূচকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অনুকরনীয়। 

এর আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তির অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকায় বিশ্ব ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী আবু হেনা মোহাম্মাদ মুস্তাফা কামাল। আগামী দিনেও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে পাশে চান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হবো। আর ২০৪১ এ আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ জন্য আমরা সব উন্নয়ন সহযোগীর কাছে অকুণ্ঠ সহযোগিতা চাই। 

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরবর্তী  বাংলাদেশের অর্থনেতিক মন্দা মোকাবিলায় নতুন করে বাজেটারি সহায়তা দেবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বব্যাংক এমডি জানান, সঙ্কট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক স্বল্প সময়ের জন্য নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ চলমান প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থায়ন করতে চায়। 

বিশ্বব্যাংক এমডি বলেন, করোনা সঙ্কট ও ইউক্রেন-রাশিয়া সঙ্কটে অনেক দেশ বাজেট সহায়তা চায়। তারপরও আমরা সবার চাহিদার মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে অল্প করে বাজেট সহায়তা দেবো। কোভিডের কারণে অনেক দেশের অর্থ দরকার।

পদ্মা সেতুতে ঋণ না দেওয়ায় বিশ্বব্যাংক কি অনুতপ্ত? এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রটসেনবার্গ বলেন, আমি বাংলাদেশের ৫০ বছরের উন্নয়ন দেখছি। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩৬৫ প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে ঋণ দেওয়া বা না দেওয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ৫০ বছরে ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক এমডি বলেন, বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় বিশ্বের অন্যতম দরিদ্রতম দেশ থেকে ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের অন্যতম হিসেবে এই যাত্রায় অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিখেছি উন্নয়ন কীভাবে কাজ করে।

তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকের অসাধারণ যাত্রায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অবিচল অংশীদার ছিল। ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য হয়। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক প্রথম প্রকল্প হাতে নেয়, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ, কৃষি ও শিল্পের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতের সহায়তার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের জরুরি পুনরুদ্ধার ঋণ দেয়া হয়। একই সময়ে বিশ্বব্যাংক চারটি প্রকল্প পুনরায় চালু করে, যা স্বাধীনতার আগে অনুমোদিত।

জাগরণ/অর্থনীতি/বিশ্বব্যাংক/এসএসকে