• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২০, ০২:০৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২৭, ২০২০, ০২:২৪ এএম

ডব্লিওএমও-আরএসএমসি অনুমোদিত

বাংলাদেশের ১৩টি-সহ সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের ১৬৯ নামের নতুন তালিকা

এস এম সাব্বির খান
বাংলাদেশের ১৩টি-সহ সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের ১৬৯ নামের নতুন তালিকা
প্রতীকী ছবি

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা সুপার সাইক্লোন 'আম্ফান' ছিল বিশ্ব সংস্থা ডব্লিওএমও ও আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থা আরএসএমসি কর্তৃক অনুমোদিত তালিকার সর্বশেষটি। এর মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে সর্বশেষ অনুমোদিত ৬৪টি ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা। তবে তার আগেই সংস্থা দুইটি অনুমোদন দিয়েছে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলের পরবর্তী সম্ভাব্য ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের নতুন তালিকা।

সোমবার (২৫ মে) থেকে বঙ্গোপসাগরের বুকে যে ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সেটির নামকরণ করা হবে নতুন এই তালিকা থেকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থা আরএসএমসি।

জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশসহ আরএসএমসি'র ১৩টি সদস্য রাষ্ট্র পরবর্তী সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে নতুন এই তালিকার নামগুলো প্রস্তাব করে। পরে যাচাই বাছাইপূর্বক ডব্লিউএমও ও আরএসএমসি যৌথভাবে সেখান থেকে সম্ভাব্য ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নাম-তালিকা অনুমোদন প্রদান করে। নতুন এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের দেয়া ১৩টি নাম।
আরএসএমসি'র সদস্য রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত এই নতুন ১৬৯টি নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা গত ২২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের আরএসএমসির সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়।

আরএসএমসি'র মোট ১৩টি রাষ্ট্রের দেয়া ১৬৯টি সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ণাঙ্গ নামের (অনুমোদিত) তালিকা

১. বাংলাদেশের দেওয়া নামের মধ্যে গৃহীত নামগুলো হলো- নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরবর, মহানিশা। নয়া দিল্লিভিত্তিক আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএসএমসি) এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) নামগুলো গ্রহণ করেছে।

২. বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতও কয়েকটি নাম পাঠিয়েছে। তাদের দেওয়া নামগুলো হলো গতি, তেজ, মুরাসু, আগ, ব্যোম, ঝড়, প্রবাহ, নীর, প্রভঞ্জন, ঘূর্ণি, অম্বুদ, জলধি এবং ভেগা। 

৩. পাকিস্তানের দেওয়া নামগুলো হলো গুলাব, আসনা, সাহাব, আফসান, মানাহিল, সুজানা, পারওয়ায, জান্নাতা, সারসার, বাদবান, সাররাব, গুলনার, ওয়াসেক।

৪. মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দেয়া অনুমোদিত নামগুলো হচ্ছে তুয়াতি, মিগজায়ুম, নাগামান, কাজাথি, যাবাগজি, ইউয়ুম, মউইহু, কাউই, পিংকু, জিনগাউন, লিনইওনি,কাইকান, বাউপা। 

৫. শ্রীলঙ্কা দিয়েছে আসানি, শাক্তি, জিগুম, গগনা, ভারামভা, গাজানা, নিবা, নিনাদা, ভিদুলি, ওঝা, সালিথা, রিভি, রুদু- এই নামগুলো।

৬. ইরানের দেয়া যে নামগুলো তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে সেগুলো হলো-নিভার, হামুন, আগভান, সিপান্দ, বুরান, আনাহিতা, আজআর, পোয়ান, আরশাম, হেনজামি, সাভাস, তাহামতান, তুফান। 

৭. সৌদি আরব নাম দিয়েছে জাওয়াদ, ফেনগাল, ঘাজির, আসিফ, সিদরাহ, হারিদ, ফাইদ, কাসির, নাখিল, হাবুব, বারেক, আরিম, ওয়াবিল।

৮. মালদ্বীপের পাঠানো নামগুলোর মধ্যে অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে- বুরিভি, মিদহিল, কানি, ওডি, কিনাউ, এন্ধেরি, রিয়াউ, গুরুভা, কুবাংগি, হোরাংগু, থুনডি, ফানা। 

৯.ওমানের দেয়া নামগুলো হচ্ছে- ইয়াস, রিমাল, সাইল, নাসিম, মুথন, সাদিম, দিমা, মানজর, রুকাম, ওয়াতাদ, আল-জারয, রাবাব, রাদ।

১০. কাতারের ল্রস্তাবিত তালিকা থেকে অনুমোদিত হয়েছে- শাহীন, ডানা, লুলু, মউজ, সুহাইল, সাদাফ, রিম, রায়হান, আনবার, ওউদ, বাহার, সাফ, ফানার। 

১১. থাইল্যান্ড কর্তৃক পাঠানো নামগুলো হলো সিতারাংগ, মনথা, থিয়ানুট, বুলান, ফুতালা, আইয়ারা, সামিংগ, কারইসন, মাতচা, মাহিংসা, ফারিওয়া, আাসুরি, থারা।

১২. আরব আমিরাতের নামগুলো হলো-মানদউস, সেনইয়ার, আফুর, নাহ-হাম, কুফফাল, দামান, দিম, গারগুর, খুব, দিগল, আথমাদ, বুম, সাফার। 

১৩. ইয়েমেনের যে নামগুলো অনুমোদিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ব্রম, শুকরা, ফারতাক, দারসাহ, সামহাহ, বাকহুর, ঘাওয়েযি, হাউফ, বালহাফ, মোকহা, দিতওয়াহ, দিকসাম, সিরা।

প্রায় দুই দশক আগে ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিওএমও) এবং এসক্যাপ-এর অধীনস্থ আটটি দেশ – ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, এবং থাইল্যান্ড – সিদ্ধান্ত নেয় যে এই অঞ্চলের সাইক্লোনের নামকরণ করবে তারা। প্রতিটি দেশ তাদের নামের তালিকা পাঠানোর পর তা চূড়ান্ত করে একটি ডব্লিওএমও/এসক্যাপের প্যানেল, যার পোশাকি নাম প্যানেল অন ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস। ২০১৮ সালে এই তালিকায় প্রবেশ করে আরব সাগরীয় আরও পাঁচটি দেশ – ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন।

মূলত বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাতহানা ঘূর্ণিঝড়গুলোর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ সংগ্রহে রাখার কাজটি সহজতর করতেই এই নাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।