• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২০, ০৫:৪০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২৪, ২০২০, ০৫:৪৭ পিএম

কোভিড-১৯

কিডনি-ফুসফুস-মস্তিষ্কে জমছে রক্ত, তরুণদের স্ট্রোক প্রবণতা

জাগরণ ডেস্ক
কিডনি-ফুসফুস-মস্তিষ্কে জমছে রক্ত, তরুণদের স্ট্রোক প্রবণতা

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ফুসফুসে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী রোগ হিসেবে ধারণা করা হলেও ভাইরাসটি শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো করে দিতে পারে বলে মনে করছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা আক্রান্তদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি ও জমাট বাঁধার মতো কয়েকটি বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছেন তারা।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে এমন তথ্য।

নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের করোনা আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, তাদের ফুসফুসের একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে রক্তশূন্য হয়ে পড়ছে।

হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞরা জানান, কিডনি ডায়ালাইসিস ক্যাথেটারে রক্ত জমাট বেঁধে থাকতে দেখা যাচ্ছে। স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্ত জমাট বাঁধার কারণে স্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তরুণদের মধ্যে অনেকেই স্ট্রোক করছেন। যারা স্ট্রোক করেছেন তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই করোনায় আক্রান্ত।

হাসপাতালটির নিউরোসার্জন ডা. জে. মকো বলেন, এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে কোভিড-১৯ রক্ত জমাট বাঁধতে অস্বাভাবিক ভূমিকা রাখছে। অনেক বিশেষজ্ঞরাই এটাকে এখন শুধু ফুসফুসের রোগের চাইতেও বেশি বলে মনে করছেন।

তিনি জানান, কয়েকজন তরুণের ক্ষেত্রে প্রথম উপসর্গই ছিল স্ট্রোক।

বিশেষজ্ঞদের এমন পর্যবেক্ষণের পর রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। করোনা রোগীর চিকিৎসায় নতুন নিয়ম তৈরি করেছেন তারা। রক্ত জমাট বাঁধার কোনও লক্ষণ দেখার আগেই করোনা আক্রান্তদের উচ্চমাত্রায় রক্ত লঘু করার ওষুধ দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালটির সভাপতি ডা. ডেভিড রেইখ বলেন, রক্ত জমাট বাঁধা আটকানো গেলে হয়তো রোগটির ভয়াবহতা কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে এখনও বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। তাই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিকিৎসায় নতুন নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না।

তিনি জানান, জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে এটা করতে গেলে হিতে বিপরীত হয়ে মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।

মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে তিন সপ্তাহে ৩২ জন স্ট্রোক করা রোগীকে দেখেছেন নিউরোসার্জন ডা. জে. মকো। এই রোগীদের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকভাবে জমাট বাঁধা রক্ত দেখেছেন তিনি।

মকো জানান, এই তিন সপ্তাহে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যক রোগী এসেছে। পাঁচ জনের বয়স ছিল ৪৯ বছরের নিচে। সবচেয়ে কম বয়সী রোগীর বয়স ৩১ বছর। তারা কেউই স্ট্রোকের ঝুঁকিতে ছিলেন না।

ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. হুম্যান পোর জানান, হাসপাতালে ১৪ জন করোনা রোগীকে ভেন্টিলেটর সেবা দিতে গিয়ে অবাক হয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, সাধারণত নিউমোনিয়ায় যেমন হয়, এই রোগীদের ফুসফুস তেমনটা শক্ত হয়ে যায়নি। বরং মনে হচ্ছিল ফুসফুসের মধ্যে রক্তের প্রবাহ ঠিক ভাবে হচ্ছে না।’

হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডায়ালাইসিস ক্যাথেটারে রক্ত জমাট বেঁধে থাকতে দেখেন।

ইস্টার সানডের রাত তিনটার দিকে নিউরোসার্জন ডা. জে. মকোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. হুম্যান পোর। এরপর চিকিৎসকরা আলোচনায় বসেন।

মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের ১৯ জন করোনা রোগীর রিপোর্টের পাশাপাশি চীনের হুবেই প্রদেশসহ অন্যান্য অঞ্চলের করোনা আক্রান্তদের রিপোর্ট সংগ্রহ করেন তারা। অন্যান্য অঞ্চলের রোগীদের ক্ষেত্রেও একইরকম বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এরপরই তারা করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নতুন নিয়ম তৈরি করেন।

ফিলাডেলফিয়ার থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসক পাস্কাল জ্যাব্বারও করোনা আক্রান্তদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রবণতার কথা জানান।

তিনি বলেন, আমি এর আগে কখনও কোনও ভাইরাসের আক্রমণে এ রকম কিছু হতে দেখিনি।

করোনা রোগীর রক্ত জমাটের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে আমেরিকান সোসাইটি অফ হেমাটোলজি।

তবে একটি নির্দেশিকায় তারা জানান, করোনা আক্রান্তদের রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গ আছে কিনা এখনো তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাদের রক্ত লঘু করলে চিকিৎসায় সুবিধা হবে কি না সেটা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ডেইলি স্টার অনলাইন।

এসকে/এসএমএম

আরও পড়ুন