• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: মার্চ ২১, ২০২১, ০১:৩৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২১, ২০২১, ০১:৩৮ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি : ড. মীজানুর রহমান

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি : ড. মীজানুর রহমান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ করে বিদায় নিয়েছেন অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে যাওয়ার আট বছরের সঙ্গী ছিলেন তিনি। বিদায়বেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রগতির নানা কথা বলেছেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নির্ধারিত লক্ষ্য, বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ


জবি উপাচার্য হিসেবে এই প্রথম আপনি দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করলেন, মানে আট বছর। আপনার এই আট বছরের পথচলাটা জানতে চাচ্ছি।

অধ্যাপক মীজান : আমি উপাচার্য হয়ে আসার পর প্রথম যে জিনিসটি নজরে আসে, সেটি হচ্ছে কালচার। প্রথমে যেহেতু এটি কলেজ ছিল, সেহেতু কলেজের কিছু কালচার এখানে রয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আলাদা একটা ফ্লেভার আছে, সেটি নিয়ে আসাটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পড়াশোনার জায়গা না, জ্ঞান আহরণ ও জ্ঞান বিতরণ দুটোরই জায়গা। আমার মনে হয় কিছুটা হলেও আমি পরিবর্তন আনতে পেরেছি। এখন এটাকে কেউ কলেজ বলে না, বিশ্ববিদ্যালয়ই বলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ গবেষণায় এখন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এমফিল, পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষক এখন আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পড়াশোনা করতে পারছেন। শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিও আরও কঠোর করা হয়। যেমন—রিসার্চ আর্টিকেল, ডিগ্রি এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দেখা যায় যে ১২০ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১১৬ জনেরই পিএইচডি আছে।

আপনার সময় বেশ কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন—পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম লিখিত পরীক্ষা নেওয়া, সান্ধ্য কোর্স বন্ধ করা, শিক্ষকদের শতভাগ পিএইচডি নিশ্চিত করা, বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাড়া গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় যাওয়া, যেখানে জগন্নাথের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এই প্রতিটি বিষয়ই খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। আপনার কেন মনে হলো যে এই উদ্যোগগুলো নেওয়া প্রয়োজন? এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?

অধ্যাপক মীজান : আমার মনে হয় এগুলো জাতির ডিমান্ড ছিল। পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল মূলত জালিয়াতি রোধ করার জন্য। এ ছাড়া নানা পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে আমরা সফলভাবে তা রোধ করতে পেরেছি এবং মেধাবী শিক্ষার্থী বেছে নিতে সক্ষম হয়েছি। এরপর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় হয়েছে, কিন্তু এই আইডিয়াটা আমাদের ছিল। আমি আইডিয়াটা দেওয়ার পর অন্য উপাচার্যরা এতে সম্মতি জানিয়েছেন। বিভিন্ন সমাবর্তনে সান্ধ্য কোর্স নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কথা বলেছেন। আমি মনে করি, সীমিত পরিসরে এ কোর্সটি থাকা যেত। কিন্তু দেখা যায় যে, প্রায় সব বিভাগে এই কোর্সটি চালু হয়েছে এবং সকাল থেকে বিকেলের ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি যা নিয়ে নানা সমালোচনা হয়ে আসছিল। যার কারণে আমরা এই কোর্সটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আপনার সময় জবির দুইটা বড় হল আন্দোলন হয়েছিল। একটা ২০১৪-তে, আরেকটি ২০১৬-তে। আপনার অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই আন্দোলন দুটি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

অধ্যাপক মীজান : আমাদের তো কোনো আবাসন ব্যবস্থা আসলে ছিল না। এত শিক্ষার্থীর একটা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসনশূন্য, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। আশির দশকে ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় কিছু হিন্দুদের পরিত্যক্ত বাড়িতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকত। কিন্তু এগুলোর মালিকানা জবির ছিল না। যেহেতু আগে ছাত্ররা থাকত সেই সুবাদে সরকারি হস্তক্ষেপে আমরা দু-তিনটি বাড়ি পেয়েছিলাম। কিন্তু এগুলো হল করার মতো অবস্থায় ছিল না। ছোট ছোট বাড়ি যা বড়জোর কর্মচারীদের কোয়ার্টার হতে পারে। এছাড়া অন্য বাড়িগুলো দখলদারদের হাতে ছিল। সেগুলো উদ্ধার করা আমাদের ছাত্র-শিক্ষকদের কাজ নয়। সরকার দায়িত্ব নিয়ে দখলমুক্ত করে আমাদের হস্তান্তর করবে—আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী। এরপর শেষ পর্যায়ে আমরা জায়গা কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু আশপাশের কোথাও তেমন কোনো বড় পরিসরের জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেরানীগঞ্জে আমাদের ২০০ একর জায়গা নিবন্ধন করে দিয়েছেন হল করার জন্য। ইতিমধ্যে সেখানে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক সবার কথা মাথায় রেখে একসাথে প্রায় ১৬টি হল করা হবে।

আপনার ইচ্ছা ছিল কিন্তু করতে পারেননি। এমন কোন কাজগুলো আছে?

অধ্যাপক মীজান : সরকার একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিল, সেটি হচ্ছে পরিত্যক্ত বাড়ি ভেঙে নতুন করে হল করার। কিন্তু নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল এই প্রজেক্টটিতে। যদিও এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব ছিল না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, বিশেষ ব্যবস্থায় প্রজেক্টটি শেষ হয়েছে। তবে আমার মনে হয় বিল্ডিং বা দালানকোঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নগণ্য বিষয়। বড় বিষয় হচ্ছে হিউম্যান রিসোর্স। শুধু মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের। এ ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতির রেকর্ড নেই। এটাই বড় সন্তুষ্টির বিষয়। এছাড়া রিসার্চ জার্নাল প্রকাশনায় বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের গাড়িসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন তো ক্রমান্বয়ে ঘটে। সামনে যারা আসবেন, আশা করছি তারা এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে কাজ করে যাবেন।

শেষ সময়ে এসে নিজেকে কোনো কিছু নিয়ে ব্যর্থ মনে হয়েছে কি না কিংবা এমন কিছু আছে যা করতে পারলে ভালো হতো বলে মনে করছেন?

অধ্যাপক মীজান : যে প্রজেক্টটি ছিল সেটি যদি আরও চার-পাঁচ বছর আগে শুরু করা যেত তাহলে সুন্দরভাবে শেষ হতো বলে মনে হয়। আর আমার অতৃপ্তি নিশ্চয়ই থাকবে কাজ নিয়ে। কেননা, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান তো ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। আগের থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জগন্নাথের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে ১৯৫২ কিংবা ’৭১-এ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতিতে অনেক এগিয়ে ছিল। যেখানে আলাদা একটা জায়গা ছিল জগন্নাথ কলেজের ছাত্রদের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর ছাত্ররাজনীতিতে পিছিয়ে পড়েছে জবি। সার্বিকভাবে এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

অধ্যাপক মীজান : এটা তো দেশের সার্বিক জাতীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। এখন কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম নেই, সুযোগও নেই তেমন। বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যাওয়ার ১৫ বছরে কোনো সমাবর্তন হয়নি। এরপর আমরা বৃহৎ সমাবর্তনের আয়োজন করলাম, যা হয়তো এশিয়ার মধ্যেও সবচেয়ে বড় সমাবর্তন। এটি সাড়া জাগানোর মতো একটা ঘটনা ছিল এবং আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। যদি কখনো দেশের ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন স্বাভাবিক অবস্থায় হয়ে যায় এবং ছাত্রসংগঠনগুলো ভালোভাবে এটার জন্য কাজ করে তখন জকসু হবে। লাস্ট সিন্ডিকেটে আমরা জকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেছি। এখন সময়ের অপেক্ষা যদি নির্বাচন হয় তাহলে করতে পারবে। 

তৃতীয় মেয়াদে আপনার আসার ইচ্ছে আছে কি না?

অধ্যাপক মীজান : এ রকম কোনো সুযোগ নেই। আর আমার ইচ্ছাও নেই। নতুন উপাচার্যের জন্য অপেক্ষা করছি।

নতুন উপাচার্যের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী? প্রথমত কোন কাজগুলোতে গুরুত্ব দিতে বলবেন তাকে?

অধ্যাপক মীজান : এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়মকানুন, নীতি একটা লেভেলে চলে আসছে, যা আরও নিচে নামানো সম্ভব নয়। একজন মানুষ যদি সৎ হয় এবং কোনো উদ্যোগ নিতে সাহসী হোন, তাহলে হবে। সব আইন ও নিয়মকানুন যেহেতু করাই আছে, সেগুলো মেনে চলবেন এবং কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না, এটাই প্রত্যাশা। আর সে লোকটাকে অবশ্যই যোগ্য হতে হবে, শিক্ষিত হতে হবে। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী, যার নিজের বের করা কিছু বই থাকবে এবং চারিত্রিক গুণাবলিসম্পন্ন হবেই, এটাই চাওয়া। 

শিক্ষার্থীরা চাচ্ছেন পরবর্তী ভিসি যেন নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে আসেন। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

অধ্যাপক মীজান : অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত এ রকমটা হয় না। তবে গভর্নমেন্ট যদি চায় হতে পারে। সবাই যদি মেনে নেয় এ ক্ষেত্রে আমার কোনো আপত্তি নেই। নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হলে হয়তো উনি ভেতরের বিষয়গুলো আরও ভালো জানবেন।

এবার একটু জাতীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। করোনা শিক্ষাব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলেছে বলে আপনি মনে করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কখন খোলা উচিত বলে মনে করেন? 

অধ্যাপক মীজান : করোনা পুরো বিশ্বেই অর্থনৈতিক সংকট, কালচারাল সংকটসহ সব ক্ষেত্রে সংকট তৈরি করেছে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি করেছে শিক্ষাক্ষেত্রে। সব শিক্ষার্থীদের এখন অনলাইননির্ভর পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। তবে অনলাইন পাঠদান কখনোই অন ক্যাম্পাসের বিকল্প হতে পারে না বলে আমি বিশ্বাস করি। কিছুটা হলেও শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা গেলেও পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনা করলেও সেটা সম্ভব হবে কি না, ভাবার বিষয়। কারণ দেখা যায় যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। আর আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সব নিয়ম মানা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস করাটা কিছুটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। দেখা যাক এখন কী হয়, সংক্রমণের হারের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কোন জায়গায় জরুরি পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন? 

অধ্যাপক মীজান : এ বছর যে সমস্যাটা দেখা দিচ্ছে সেটা হচ্ছে এ বছর এইচএসসিতে ১৪-১৫ লাখ শিক্ষার্থী পাস করেছে আবার আগের বছরেরও কিছু শিক্ষার্থী রয়ে গিয়েছে, তাদের সবাইকে ভর্তি করতে হবে। সব শিক্ষার্থী যদি অনার্স-মাস্টার্স পাস করে তখন দেখা যায় যে যোগ্যতা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ মানুষকে চাকরি দেওয়া সম্ভব হয় না। এর জন্য আমাদের কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব এবং মান আরও বৃদ্ধি করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীই যেন কোনো একটা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ও বিদেশে কাজ করতে পারে। হাজার হাজার বেকার তৈরি করার যে পড়াশোনা, এটা নিয়ে দ্রুত ভাবতে হবে। গবেষণা ও কারিগরি প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তার জন্য শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়াটা কতটা জরুরি বলে মনে করছেন?

অধ্যাপক মীজান : এখানে সব শিক্ষকই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা নিয়ে শিক্ষক হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে হয়তো অনেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক হয়েছেন। ভবিষ্যতে হয়তো এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বকীয়তা বা বিশেষ কোটার কোনো বিষয় নেই।