• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রকাশিত: মে ২, ২০২১, ০৯:২৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২, ২০২১, ০৪:০৫ এএম

তিনটা চিঠি লিখেছিলেন সত্যজিৎ রায়: সেলিনা হোসেন

তিনটা চিঠি লিখেছিলেন সত্যজিৎ রায়: সেলিনা হোসেন

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে ১৯৭৪ সালে সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়। কলকাতার একটি পত্রিকায় গল্পটি ছাপা হয়। সেটা পড়েই চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহ জন্ম নেয় সত্যজিৎ রায়ের। বিশ্বখ্যাত এই নির্মাতার জন্মশতবর্ষে বিষয়টি নিয়ে দৈনিক জাগরণের সঙ্গে কথা বলেন সেলিনা হোসেন


জাগরণ: শোনা যায় সত্যজিৎ রায় আপনার গল্প নিয়ে সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন,  ঘটনাটি যদি আমাদের বলতেন। 

সেলিনা হোসেন : কলকাতা থেকে একটা পত্রিকা বের করেছিলো, এতদিনে আমার মনে নেই। ওরা আমাকে বলছিলো একটা গল্প লিখে দিতে আমি তখন বাংলা একাডেমিতে কাজ করি। ওরা এসেছিলো। তো আমি একটা ছোট গল্প লিখে দিয়েছিলাম। গল্পটি আমাকে বলেছিলেন আমার একজন শিক্ষক, অধ্যাপক আবদুল নাসির। তিনি গল্পটি আমাকে বলেছিলেন যে, একজন মা দুইজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য নিজের প্রতিবন্ধী ছেলেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে ওদেরকে বাঁচায়। এই গল্পটি ছাপার পর ওই ছেলেরা ওদের পত্রিকাটি সত্যজিৎ রায়ের কাছে পাঠিয়েছিলো। সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায় প্রথমে এ গল্পটি পড়ে। পড়ে সত্যজিৎ রায়কে নাকি বলেছেন যে এটা দিয়ে একটা সিনেমা হতে পারে। তখন আবদুল গাফফার চৌধুরী কলকাতায় ছিলেন। উনি তো অনেকদিন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ওখানে ছিলেন। তারপরেও কিছুদিন ছিলেন, ভাবী অসুস্থ ছিলো। তখন সত্যজিৎ রায় গাফফার ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় ছিলো। গাফফার ভাই যেতেন উনার কাছে। তখন উনি একদিন বললেন, এরকম একটা গল্প পড়েছি। এই লেখককে আপনি চেনেন? তো উনি আমার নাম দেখে বললেন, না, আমি চিনি না। কারণ, তখন ৭২ সাল। আমি একদম তরুণ লেখক। কে চিনবে আমাকে এত তাড়াতাড়ি? তারপর উনি বললেন যে, ঠিক আছে আমি ঢাকায় গিয়ে খোঁজ খবর করে দেখি তারপর আমি আপনাকে জানাবো। তারপর সত্যজিৎ রায় অন্যদের জিজ্ঞেস করে। আমি তখন বাংলা একাডেমিতে চাকরি করি। গাফফার ভাই একদিন এসেছিলেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। বললেন, সত্যজিৎ রায় এটা নিয়ে ফিল্ম করতে চায় তাহলে তো তোমার পারমিশন লাগবে। সেজন্য উনি বলেছেন তোমার সঙ্গে আমাকে যোগাযাগ করতে।

জাগরণ: এ বিষয়ে সত্যজিৎ রায় তো আপনাকে চিঠি লিখেছিলেন?

সেলিনা হোসেন: তিনটা চিঠি আমার কাছে আছে সত্যজিৎ রায়ের লেখা। ‘মুক্ত করো ভয়’ নামে আমার একটা বই আছে, সত্যজিৎ রায়ের চিঠিগুলো আছে ওই বইতে। '৭৪ সালের দিকে। বললেন যে, আমি সব স্ক্রিপ্ট ঠিক করেছি। কিন্তু আমি বাংলাদেশী শিল্পীদের বেশি নিবো। ওই ছেলেটা যে প্রতিবন্ধী ছেলে, ওকে আমি কলকাতা থেকে নিয়ে যাবো। আর শুটিংটা বাংলাদেশে হবে। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশে। তারপর বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার পর তাঁর আইডিয়া শেষ। কারণ, তখন ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশ বিরোধী লোকজনেরা। স্বাধীনতার বিরোধিতা যারা করেছে তারা ক্ষমতায় এসেছেন। তখন উনি বলছেন যে, এভাবে আমি ওখানে গিয়ে আর কী সহযোগিতা পাবো। তার চেয়ে আমি অপেক্ষা করি।

জাগরণ : চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়কে আপনি কিভাবে মুল্যায়ণ করবেন?

সেলিনা হোসেন: সত্যজিৎ রায় একজন অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি যেভাবে চলচ্চিত্রের মাত্রাকে ভিন্নধর্মী করে ফেলেছিলেন তার সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় গৌরবের জায়গা। মানবিক বোধের চেতনা থেকে এবং পল্লীর বিভিন্ন দৃশ্য যেগুলো আমরা ‘পথের পাঁচালী’ বা ‘অপুর সংসারে’ পাই। পরবর্তী সময়ে অন্যভাবে পাই। সেভাবেই সত্যজিৎ রায়কে মুল্যায়ন করতে হবে আমাদেরকে।

জাগরণ : লেখক হিসেবে সত্যজিৎ রায়কে আপনার কেমন লাগে?

সেলিনা হোসেন: শিশু সাহিত্যিক হিসেবে উনি যে অবদান রেখেছেন সেজন্য আমি তাঁকে অনেক গুরুত্ব দিই। প্রদোষ চন্দ্র মিত্র- ফেলুদা এমন একটা চরিত্র, যে কোন বয়সের ছেলেমেয়েদের মনে থাকবে চরিত্রটির কথা।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণ :১ মে ২০২১