• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২১, ০৫:৪৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৪, ২০২১, ১১:৪৬ এএম

ফোকলোরবিদ হিসেবে শামসুজ্জামান খান অনেক বড় মানুষ

ফোকলোরবিদ হিসেবে শামসুজ্জামান খান অনেক বড় মানুষ

বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি,  গবেষণা ও প্রবন্ধ সাহিত্যে উজ্জ্বল একটি নাম শামসুজ্জামান খান। বাঙালি জাতিসত্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু-চর্চায়ও তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ফোকলোর-ক্ষেত্রে তাঁর খ্যাতি ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপ্ত। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার (১৪ এপ্রিল) তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শোক জানিয়েছেন। এছাড়া দেশের বুদ্ধিজীবী অঙ্গণে ও সাহিত্য মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মজীবনে তিনি তিন মেয়াদে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর রচিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
শামসুজ্জামান খানের মৃত্যুতে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছেন তাঁর সাবেক সহকর্মী,
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। বুধবার দুপুরে জাগরণে সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন তৌহিদ


জাগরণ : বিশিষ্ট ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খানের মৃত্যুতে আপনার অনুভূতি জানতে চাই।
সেলিনা হোসেন : তাঁর (শামসুজ্জামান খান) মৃত্যুর খবর পাওয়ার থেকে আমি কথা বলার মতো অবস্থা নেই। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলা একাডেমিতে তাঁর সঙ্গে চাকরি করেছি। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবক, ফোকলোরবিদ ও একজন গবেষক হারিয়েছি। একজন সমাজমনস্ক মানুষ হারিয়েছি। যিনি তাঁর উদার মানবিক বোধের চেতনায় আলোকিত করে রেখেছিলেন তাঁর চারপাশ।

জাগরণ : একসময় তিনি আপনার সহকর্মী ছিলেন। সহকর্মী হিসেবে তাঁকে কীভাবে মূল্যায়ণ করবেন?
সেলিনা হোসেন:
 জামান সাহেব (শামসুজ্জামান খান) াআমার সিনিয়র ছিলেন। তিনি বাংলা একাডেমির অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। অনেকগুলো অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। তিনি সেগুলো করেছেন বাংলা একাডেমির নানা কিছুর সঙ্গে জড়িত থেকে। তিনি বাংলা একাডেমির প্রকাশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। একটা বড় কথা মনে আছে। একবার, তখন মহাপরিচালক ছিলেন মনজুরে মাওলা। ৮২/৮৩ সালের দিকে সময়টা। তখন তিনি (মনজুরে মাওলা) আমাকে বললেন, আমাদের ভাষা আন্দোলন নিয়ে একটা উপন্যাসের সংকলন হোক। ফেব্রুয়ারিতে সেটা প্রকাশ করা হবে। তখন কীভাবে তিনি নির্বাচন করলেন। আমাদের ঔপন্যাসিক শওকত ওসমান, শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হক। পরে দেখা গেল শওকত আলী বললেন, আমি এত তাড়াতাড়ি লিখতে পারবো না। সৈয়দ শামসুল হক তখন লন্ডনে থাকতেন। শওকত ওসমান আছেন, জহির রায়হানের একটা বই আছে। তখন আমাকে বললেন, আপনি একটা উপন্যাস লিখেন। তিনটা বই দিয়ে এই সংকলনটা হবে। তখন আমি বললাম, এত তাড়াতাড়ি আমি কেমন করে লিখব? তখন জামান সাহেব আমাকে একটা উপদেশ দিলেন। জামান সাহেবও ছিলেন ওই মিটিংয়ে। আপনি যেসব কাজ করেছেন ওখান থেকে বাংলা গল্পের যে প্রগতিশীল গল্পগুলো লিখেছেন সেগুলো ধরে, মুনীর চৌধুরী ধরে চল্লিশের দশক ধরে আপনি একটা উপন্যাস করেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী আমি ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি লিখি। এ ছাড়াও তো অনেক কাজ করেছি তাঁর সঙ্গে। আমার পরিচালক ছিলেন তিনি, আমি উপ-পরিচালক ছিলাম। যখন যা কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি করেছি। সেগুলো তিনি আগ্রহের সঙ্গে দেখেছেন এবং বলেছেন ভালো হয়েছে।

জাগরণ : ব্যক্তি শামসুজ্জামানকে আপনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ব্যক্তি মানুষ সম্পর্কে জানতে চাই।
সেলিনা হোসেন :
ওই যে বললাম, আইডিয়া দেয়া। তিনি সবাইকে দেখতেন, সবাইকে ডাকতেন, কথা বলতেন। কাজের জন্য বলতেন, আইডিয়া দিতেন। তাঁর সবকিছুই ছিল ভালো।

জাগরণ :  ফোকলর গবেষণা ও প্রবন্ধ সাহিত্যে তাঁর অবদান সম্পর্কে বলবেন।
সেলিনা হোসেন :
ফোকলর সাহিত্যে তাঁর অবদান খুবই বড়। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। একজন ফোকলরবিদ হিসেবে তিনি অনেক বড় মানুষ। পাশাপাশি তিনি একজন প্রাবন্ধিক। বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্যের একজন গবেষক ছিলেন। ফোকলোর বিষয়ে তাঁর অনেক রচনা আছেন এবং এ বিষয়টিকে তিনি অনেক বড় করে দেখেছিলেন।