• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২১, ০৮:৫৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৮, ২০২১, ১০:১২ পিএম

মামুনুল তো কোনো নবী রাসুল নয় :  মিছবাহুর রহমান

মামুনুল তো কোনো নবী রাসুল নয় :  মিছবাহুর রহমান

সাম্প্রতিককালে নাশকতা, সহিংসতা ও ভাঙচুরে ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের প্রায় ডজনখানেক কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার গ্রেপ্তার হন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার, উগ্রতা, সহিংসতাসহ সমসাময়িক বিষয়ে জাগরণের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন তৌহিদ


জাগরণ : হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করছেন। অথচ সকল রাজনৈতিক কাজেই তাদের হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

মাওলানা মিছবাহুর রহমান চৌধুরী : তারা মিথ্যা বলছেন। হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, এটা অসত্য ভাষণ। এটা মিথ্যা হলেও আমি বলবো না যে, তারা রাজনীতি করতে পারবেন না। আমি মনে করি, তাদের রাজনীতি করার অধিকার আছে। কিন্তু অপরাজনীতি করার কোনো অধিকার নাই।

জাগরণ : উগ্রতা ও সহিংসতার ঘটনায় সাম্প্রতিককালে হেফাজতের প্রায় ডজনখানেক নেতা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অরাজকতার জন্য ইসলামের বিধান কী?

মিছবাহুর রহমান : দেখুন, অরাজকতা যে বা যারাই করুক, আমরা যদি আমাদের সম্পদের ক্ষতি করি, ধর্মতো বলে, অপরাধ করলে সাজার ব্যবস্থা করতে হয়। ধর্ম তো আপনার আলেম বা সাধারণ মানুষ পার্থক্য করে দণ্ডবিধির ব্যবস্থা করে না। ধর্ম সবাইকে সমান চোখে দেখে। বাংলাদেশের মানুষ একে তো স্বদেশী আবার স্বধর্মীয়। এখন ধর্মের দৃষ্টিতে কেউ যদি অন্যায় করে, অফিস পোড়ায়, যদি আমাদের সম্পদের ক্ষতি করে, আমাদের রেল স্টেশন পুড়িয়ে দেয়, এসিল্যান্ডের অফিস পুড়িয়ে দেয়, কাগজপত্র সব জ্বালিয়ে দেয়— এসব কাজে যারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন তাদের থেকেও বেশি অপরাধী তারা, যারা এর উস্কানিদাতা। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তাদের কর্মকাণ্ডে মামলা মোকাদ্দমা হয়েছে। তারাও আইনের মুখোমুখি হবেন।


হেফাজতের নেতারা বলেন, বাংলাদেশে মুসলমানের সংখ্যা ৯৪ ভাগ। আওয়ামী লীগের ভোটার তো হলো ৪৪ ভাগ। তাহলে ৪৪ পার্সেন্ট আওয়ামী লীগের ভোটার কি অমুসলমান?


জাগরণ : হেফাজত নেতা মামুনুল হকের গ্রেপ্তারকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

মিছবাহুর রহমান : মামুনুল হকতো নবী রসুল নয়। সাধারণ মানুষ। আপনি শুধুমাত্র ধর্মের আবরণ দিয়ে সব অন্যায় কাজকে ন্যায় করে যাবেন— এটা তো ইসলাম মানে না। যে অন্যায় করবে সেই আইনের সম্মুখিন হতে হবে, বিচারের সম্মুখিন হতে হবে। এতে করে দৃষ্টান্ত হবে যে, ইচ্ছে করলেই ধর্মের নামে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায় না।

জাগরণ : অনেকে বলছেন, হেফাজতের নেতাদের গ্রেপ্তার করে সরকার নাকি ইসলামে ওপর আঘাত করছে। আপনি এ বিষয়ে কী বলবে?

মিছবাহুর রহমান : দেখুন, হেফাজতের নেতারা বলেন, বাংলাদেশে মুসলমানের সংখ্যা ৯৪ ভাগ। আওয়ামী লীগের ভোটার তো হলো ৪৪ ভাগ। তাহলে ৪৪ পার্সেন্ট আওয়ামী লীগের ভোটার কি অমুসলমান? তাহলে তো তাদের হিসেবে এ দেশে মুসলমান মাইনরিটি হয়ে গেল।

জাগরণ : মামুনুল হকের কর্মকাণ্ড ইসলাম কতটা সমর্থন করে?

মিছবাহুর রহমান : যেকোনো অমানবিক কাজ, যে কাজ মানুষের অধিকার হরণ করে, মানুষের জানমালের ক্ষতি করে, মানুষের সম্পদ বিনষ্ট করে এসব কাজ যেমন রাষ্ট্রবিরোধী, তেমনই আমাদের মহান ধর্ম ইসলামবিরোধী।