• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১, ০৪:০৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১, ০৯:২৩ পিএম

বাড়িই হোক শিশুর মাতৃভাষার বিদ্যালয়

বাড়িই হোক শিশুর মাতৃভাষার বিদ্যালয়

সন্তান জন্মের পরই প্রথম শুনতে পায় মাতৃভাষা। একটু বড় হলে শুরু হয় মাতৃভাষায় কথা বলা। সেই ভাষার প্রতি সন্তানকে শ্রদ্ধাশীল করে তোলার দায়িত্ব নিতে হয় বাবা-মাকেই।

সন্তান ইংরেজিতে পড়াশোনা করলেও বাড়িতে বাংলা ভাষার চর্চা বজায় রাখা জরুরি। ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে তার জন্য সন্তান যেন মাতৃভাষাকে অবহেলা না করে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে অবশ্যই।

দিন দিন শহুরে মধ্যবিত্ত বাবা-মায়েদের মধ্যে বেড়েই চলেছে মাতৃভাষার প্রতি অবজ্ঞা। বাড়িতে বা বাইরে সন্তান ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করলে অনেক বাবা-মায়ের বুক গর্বে  ফুলে ওঠে! বাংলা শেখাটা তাদের কাছে যেন নিতান্তই নিয়ম।

সন্তানকে ছোট থেকেই তার নিজের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতে হবে। সন্তানকে ইংরেজি বিশারদ করে তুলতে যদি রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের লেখার ইংরেজি অনুবাদ পড়ান, তাহলে লেখাগুলোর সঙ্গে তার কোনো মানসিক যোগাযোগই তৈরি হবে না। আবার যদি শুধু নিজের সামাজিক অবস্থান অটুট রাখতে সন্তানকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করান, তাহলে সেটিও কোনো বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নয়। খুব ছোট বয়সে পাশ্চত্য সিনেমা বা গানের কুপ্রভাব যাতে আপনার সন্তানের ওপর না পড়ে সেটাও দেখার দায়িত্ব আপনার।

অনেক বাবা-মা ভাবেন কয়েকটি  চলতি ইংরেজি বলতে পারলেই বোধ হয় তার সন্তান ভীষণ আধুনিক। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু জোর করে ইংরেজি শেখাতে গিয়ে অনেক বাচ্চাই একধরনের শংকর সংস্কৃতিতে বড় হয়।

ঘরে নিজেদের মধ্যে ভারসাম্য পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। সন্তানের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলবেন না। সন্তানকে বাংলা সংবাদপত্র, বই, ম্যাগাজিন পড়ান। সে যদি বাংলায় দুর্বল হয়, তাহলে অবশ্যই তার জন্য আলাদা করে সময় দিন। সন্তান ইংরেজি মাধ্যমে পড়লেও বাড়িতে মাতৃভাষা চর্চার জায়গাটা যেন বজায় থাকে। আর এ দায়িত্ব নিতে হবে বাবা-মাকেই।

এ ছাড়া বাংলা ভাষার আঞ্চলিক ভিন্নতার কারণে অনেক সময় শুদ্ধ বাংলা শেখানো মুশকিল হয়ে পড়ে অনেকের কাছে। অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে কেবল নিজেদের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। ফলে তারা শুদ্ধ বাংলা শিখতে পারে না। যেসব ছেলেমেয়ে তাদের বাবা-মায়ের কাছে শুদ্ধ বাংলা শেখার সুযোগ পায় না, পরবর্তী সময়ে তারা সাধারণত শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না বললেই চলে। পারলেও, তাকে অনেক শ্রমের বিনিময়ে সেই শুদ্ধতা অর্জন করতে হয়। তাই নিজেরা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বললেও, সন্তানকে শুদ্ধ ও প্রমিত বাংলায় কথা বলতে উৎসাহিত করুন।