• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২১, ০৩:০৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ৮, ২০২১, ১০:৪১ এএম

নারীর কেনাকাটা হয় পরিবারকে ঘিরেই

নারীর কেনাকাটা হয় পরিবারকে ঘিরেই

১০ হাজার টাকা নিয়ে নিউমার্কেট গেলেন ইসরাত মুনতাকিন। উদ্দেশ্য ঈদে পরার জন্য জমকালো শাড়ি কিনবেন। নিউমার্কেট পৌঁছাতেই চোখ পড়লো শিশুদের পোশাকে। দোকানগুলোতে সাজিয়ে রেখেছে ছোটদের নানা পোশাক। ঝলমলে লাল রঙের জামার উপর চোখটা আটকে গেল তার। দোকানিকে জিগ্যেস করলেন এটা ৮ বছরের মেয়ের গায়ে লাগবে কি? দোকানদার মাপ মতো জামা বের করে দিলেন। দর কষাকষিতে আড়াই হাজার টাকায় চূড়ান্ত হলো। সঙ্গে সঙ্গেই কিনে নিলেন জামাটা। মনে মনে ভাবলেন, তার সন্তান জারার মুখটা, এই পোশাক পেলে মেয়ে কি খুশিটাই না হবে!

শাড়ির দোকানে ঢুকবেন বলে এগোচ্ছেন, কিন্তু চলে গেলেন ক্রোকারিজের দোকানে। কেকের নন স্টিক প্যান, ফ্রাইং প্যান, জামা-কাপড়ের ক্লিপ থেকে শুরু করে হাড়ি-পাতিলের ধরনি— সবই তো প্রয়োজন। কিনেও নিলেন সব। খরচ হলো আরও কিছু টাকা।

ছেলেটা কেক খেতে খুব পছন্দ করে, একটা ইলেকট্রিক বিটার কিনে নিলে কেক বানানো খুব সহজ হয়, কিনে নিলেন তাও। কেনা হয়েছে অনেক কিছুই, ফুরিয়ে যাচ্ছে ব্যাগের টাকাও। গুনে দেখলেন, সাড়ে ৪ হাজার টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। এ দিয়েও শাড়ি কেনা যাবে।

শাড়ির দোকানের প্রায় কাছেই চলে এসেছেন, এমন সময় শার্টের দোকানে একটা সাদা শার্ট নজরে এলো। সাদা রং খুব পছন্দ তার বরের। দাগ পড়ে পুরোনোটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই সাদা শার্ট পেলে খুব খুশি হবে ভেবে এটাও কিনে নিলেন ইসরাত।

ব্যাগের টাকা তখন শেষ হতে হতে তলানিতে চলে এসেছে। মনে পড়লো, একটা দামি শাড়ি কিনতে নিউমার্কেট এসেছিলেন। কিন্তু এখন টাকা যা আছে, তা দিয়ে ভালো শাড়ি কেনা আর সম্ভব নয়। তবুও কষ্ট হচ্ছে না তার। বরং পরে কেনা যাবে এই সান্ত্বনা নিয়েই বাড়ি ফিরে গেলেন তিনি।

শুধু ইসরাত নয়, এই চিত্র প্রায় সব নারীর। নারীরা যখন কেনাকাটা করেন, তা নিজের জন্য কম, পরিবারের জন্য বেশি হয়। পরিবারের কার কী লাগবে, কে কী পেলে বেশি খুশি হবেন এসব নিয়েই নারীদের যত চিন্তা। দায়িত্ববোধকে সহজেই বুঝে নেন।

কেনাকাটায় প্রাধান্য পায় বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী, সন্তান, সংসার সবসময়। এমনকি বয়স হয়ে গেলেও নারীরা কেনাকাটায় নাতি-নাতনির কথাই প্রথমে ভাবেন। সবাইকে নিয়েই তার সুখ। এমন ছোট ছোট আত্মত্যাগের মধ্যেই নিজের পরিবারকে আগলে রাখে নারীরা। তাদের এই আত্মত্যাগই আত্মসুখ।