• ঢাকা
  • রবিবার, ২২ মে, ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২১, ০৩:১৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২৪, ২০২১, ০৯:৪১ এএম

সাফল্য পেতে মনোযোগের চর্চা করুন

সাফল্য পেতে মনোযোগের চর্চা করুন

কর্মব্যস্ত জীবনে চারপাশে কত কিছুই ঘটে চলছে। দাপ্তরিক ব্যস্ততা, যাত্রাপথের ঝঞ্ঝাট। সঠিক-বেঠিকের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজের কাজে মনোযোগী হওয়ার সময় কোথায়। আর মনোযোগী না হলে বাধে বিরোধ। একপর্যায়ে শুরু হয় হতাশা। শরীর-মনের ওপর হতাশার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই প্রভাবে জীবনের জটিলতা বেড়েই চলে। তাই যেকোনো কাজে বা বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার বিকল্প নেই। আপনার মনোযোগ বাড়াতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।


কৃতজ্ঞ হোন

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বা অতীত পুনর্বিবেচনায় পড়ে না থেকে আপনার অর্জনগুলো নিয়ে কৃতজ্ঞ থাকুন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আপনার মন ইতিবাচক ভাবনায় ব্যস্ত থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থির হয়। কাজেই ধ্যানধারণা বর্তমান পরিস্থিতিতে রেখে ইতিবাচক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন।


দেহঘড়িতে নজর দিন 

আপনার অজান্তেই আপনার শরীরতন্ত্র ভেতরে ভেতরে নানা কাজে ব্যস্ত। সময় সময় সে কিন্তু আপনাকে নানাভাবে সংকেত দিচ্ছে। শরীরের নানা সংকেত যেমন ব্যথা, শ্বাসপ্রশ্বাস তাপমাত্রা ইত্যাদির দিকে নজর দিতে হবে। যা আপনাকে কোনো কিছুতে মনোযোগী হতে সাহায্য করে।

পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় রাখুন

হাতের কাজগুলো রেখে কিছুক্ষণের জন্য আশপাশটা দেখুন। শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ অনুভব করুন। মাঝেমধ্যে চারদিকের মুহূর্তগুলো ইন্দ্রিয়ভুক্ত করুন।  তবে ভাবনাকে হারিয়ে যাওয়া থেকে ফিরিয়ে আনুন।


ভাবনা নিয়ে চিন্তা

অতীত আর ভবিষ্যতের পথে চলতে চলতে ভাবনা দিশেহারা হলে এর সুতোয় টান দিন। এরপর চিন্তা করে দেখুন ভাবনাগুলো কোথায় কোথায় গিয়েছিল। ভাবনাচিন্তার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করুন, যা মনোযোগী হতে বেশ সহায়ক। মেডিটেশনে আপনি এ বিষয়ে ভালো ফল পাবেন।   

খাওয়ায় মনোযোগী হোন

গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্য গ্রহণে মনোযোগী হলে হজমক্রিয়া ও পুষ্টি শোষণ ভালো হয়।  ধীরস্থিরতার সঙ্গে কী খাচ্ছেন, তা দেখে ভালো করে চিবিয়ে খাবেন। আর খাবারের সময় কথাবার্তা কম হলে ভালো। 


আগে শুনুন 

যেকোনো আলাপচারিতা শুধু কান নয়, হৃদয় ও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে শুনুন। এরপর বুঝে উত্তর দিন। এটি আপনার মনোযোগকে ত্বরান্বিত করবে।তবে আপনার কথোপকথনের মান পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করুন।


আপনার চারপাশে নজর দিন

সেলফি বা রেস্তোরাঁয় খেয়ে নিজের আনন্দ বা বেড়ানোর মজাটা নষ্ট করে দিচ্ছেন। এটা না করে কোথাও বেড়াতে গেলে আশপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করুন। প্রকৃতির আলো, বাতাস সঙ্গী করে মনকে বর্তমান পরিস্থিতে স্থির করুন।


হৃদয়ের কথা প্রকাশ করুন

মানবিক অনুভূতি নাকি হৃদয়ে থাকে। প্রতিদিন দুঃখ থেকে আনন্দ, কত অনুভূতি হৃদয় ছুঁয়ে যায়। হৃদয়ের এই অনুভূতিগুলো আপনার মনোযোগের ওপরও নিয়ন্ত্রণ করে। মন খারাপ থাকলে কাজে মন আসবে না। তখন মনোযোগীও হওয়া যাবে না। এমন  টালমাটাল পরিস্থিতিতে মনোযোগী হোন। হৃদয়কে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

মনোযোগের চর্চা

ব্যস্ত জীবনে মনোযোগের ওপর ছেদ তো পড়বেই। সফল ও সুখী হতে এর থেকে উঠে আসার কথা ভাবুন। মনোযোগের চর্চা করুন। এটি উদ্বেগ, হতাশা, অনিদ্রা ও স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। মনোযোগ আমাদের লক্ষ্যে স্থির রাখে। কাজেই আজ থেকেই শুরু হোক এর চর্চা।