• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ১৬, ২০২১, ০৯:৫৫ এএম

কর্মস্থলে নিজেকে সক্রিয় রাখবেন কীভাবে?

কর্মস্থলে নিজেকে সক্রিয় রাখবেন কীভাবে?

একাডেমিক গণ্ডি পার হওয়ার পর বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর প্রথম যে চিন্তাটি মাথায় আসে, সেটি হচ্ছে নিজের পছন্দমতো একটি ভালো চাকরি জোগাড় করা। যেখানে নিজের যোগ্যতা, মেধা ও চিন্তার প্রয়োগ করতে পারেন তিনি। এমন কোনো নতুন চাকরি কপালে জুটলে আনন্দের আর সীমা থাকে না। নতুন কর্মস্থল নিয়ে মনের মধ্যে উঁকি দেয় নানা কৌতূহল।

কর্মজীবনের শুরুতে সবার মাঝেই ভালো কিছু করার উদ্দীপনা থাকে। কিন্তু নতুন পরিবেশে অনেক সময় মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে কাজের পরিধি, কর্মপরিবেশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সহকর্মীর ব্যবহারও নিজের অনুকূল হয় না। ফলে শুরুর এই ধাক্কা মানিয়ে নিতে অনেকটা বেগ পেতে হয় সবাইকে। আবার অনেকে এই প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে হতাশায় ভোগেন। আর হতাশা থেকে শুরু হয় চাকরি ছাড়ার মনোভাব।

কর্মজীবনের শুরুতে চাকরি ছাড়া একজন চাকরিজীবীর জন্য ভালো কিছু নয়। বরং কর্মস্থলের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলে নিজের কর্মদক্ষতাকে সবার সামনে তুলে ধরা যায়। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে সক্রিয় রাখবেন।

সতেজ থাকুন, সহজ হোন

চাকরির শুরুর দিনটিকে সব সময় সাদরে গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, আপনার ওপর আস্থা রেখেই প্রতিষ্ঠানটি আপনাকে মনোনীত করেছে। তাই প্রথম দিনই আপনার আত্মবিশ্বাস তাদের আস্থাকে আরও দৃঢ় করবে। এজন্য শুরু থেকেই সতেজ থাকুন, সবকিছু সহজভাবে নেওয়ার চেষ্টা করুন। নতুন কর্মস্থলের সবকিছুই আপনার মতের সঙ্গে মিলবে না। এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে কোনোভাবে চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ আনা যাবে না। কর্মজীবনের শুরুর কর্মস্থলকেই শেষ কর্মস্থল মনে করুন। দেখবেন আপনার কাজের স্পৃহা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

সময় সম্পর্কে সচেতন হোন

কোনোভাবেই অফিসের প্রথম দিন দেরি করা যাবে না। প্রয়োজন হলে সময়ের আগে অফিসে প্রবেশ করুন। এতে আপনার প্রতি অফিসের একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে। কিন্তু কোনো কারণে যদি প্রথম দিন দেরি করে অফিসে প্রবেশ করেন, তাহলে আপনার নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

উপস্থিতি জানান দিন

শুরু থেকেই অফিসে আপনার উপস্থিতি জানান দিন। সহকর্মীদের সঙ্গে নিজ থেকে গিয়ে পরিচিত হোন। চেষ্টা করুন এই ক্ষেত্রে প্রাণচাঞ্চল্য দেখানোর। নিজের বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগ যেমন- মানবসম্পদ, প্রশাসন, প্রকৌশল, আইটিসহ অন্যান্য বিভাগের সহকর্মীদের সঙ্গেও পরিচিত হোন। অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও যেন এই তালিকা থেকে বাদ না যান। নিজ থেকে সবার সঙ্গে পরিচিত হলে সবাই আপনাকে মনে রাখবে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে। মনে রাখবেন শুরুর দিন একবারই আসে।

শুরুটা হোক গোছানো

অফিসের প্রথম দিনই নিজের পরিচয়পত্র, ডেস্ক, টেলিফোন, কম্পিউটার বুজে নিন। সুন্দর করে গুছিয়ে ফেলুন ডেস্কের খুঁটিনাটি সবকিছু। এতে কাজের মনোভাব সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি অফিস থেকে প্রাপ্য জিনিসের একটি তালিকা তৈরি করে রাখুন।

নেতিবাচক কথায় কান দেবেন না

প্রতিটি জায়গারই ভালো খারাপ রয়েছে। কর্মস্থলে যোগদানের শুরুর দিনই আপনার কানে নিজের প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের দুর্বলতা কানে আসতে পারে। অনেকে নেতিবাচক কথা বলে আপনার কান ভারী করে ফেলতে পারে। কিন্তু এতে বিচলিত হওয়া যাবে না। সম্ভব হলে এই ধরনের মানুষদের থেকে দূরে থাকুন। তা না হলে এদের সঙ্গে সতর্কতার সঙ্গে আলাপ করুন। চাইলে এড়িয়েও চলতে পারেন।

বাড়তি সময় দিন

একটি নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর অনেক কিছুই জানার থাকতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সময় দিন। সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করুন। তাদের নিয়ে চা বা কফি খেতে যান। দুপুরবেলা একসঙ্গে খাবার খান, আড্ডা দিন। এতে সহকর্মীদের সঙ্গে সহজে যেমন বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে, তেমনি জানতে ও শিখতে পারবেন নতুন অনেক কিছু।

অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত থাকুন

অফিসের যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত থাকুন। সুযোগ পেলে নিজের মতামত দিন। আলোচ্য বিষয়ে আরও জানতে আগ্রহ দেখান। প্রয়োজনে প্রশ্ন করুন, অন্যের সহযোগিতা চান। সহকর্মীদের মধ্যেও এই বার্তা পাঠিয়ে দিন যে আপনি সব বিষয় নিয়ে জানতে ও শিখতে আগ্রহী। দেখবেন সবার কাছ থেকে প্রতিযোগী নয়, সহযোগীসুলভ আচরণ পাবেন।