• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৩, ০১:০৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৩০, ২০২৩, ০১:০৮ এএম

দানব হয়ে ওঠছেন হাথুরে

দানব হয়ে ওঠছেন হাথুরে
ছবি ● ফাইল ফটো

বাংলাদেশের ক্রিকেট খাদের কিনারে ছিল, হাথুরুসিংহে এসে সেখান থেকে টেনে তোলার বদলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছেন, তারপরেও লঙ্কান কোচের প্রতি রহস্যময় কারণে বিসিবির প্রেম কমে না একদম। টাইগার ক্রিকেটকে ধুলোর সাথে মিশিয়ে তবেই হয়তো থামবে এই হাথুরুর হাতুড়ি।

বিসিবিও কি সেই অপেক্ষায় আছে?

লঙ্কান মাস্টারমাইন্ড, কড়া হেডমাস্টার, সুপার ট্যাকটিশিয়ান, কতভাবেই না বিশেষায়িত করা হয়েছে চান্ডিকা হাথুরুসিংহেকে। কিন্তু দিনশেষে অংক কষতে বসুন, হাথুরুর এতো শত গুণাবলি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কি দিচ্ছে আর কী কেড়ে নিচ্ছে?

বিসিবি-হাথুরুর প্রেমের শুরুটা কীভাবে হলো সেই গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হয়ে আসেন হাথুরু। তার অধীনে ছয় টেস্ট জয়, যার মধ্যে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর শ্রীলঙ্কার মতো দলও।

ওয়ানডে ফরম্যাটে সাফল্যের তালিকা আরও দীর্ঘ। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা; ভারত, পাকিস্তান আর সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়; তার সাথে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল তো আছেই। টি টোয়েন্টিতেও হাথুরুর অধীনে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে টাইগাররা।

কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে হাথুরু নামের ঘুনপোকা কুরে কুরে খেয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। সাউথ আফ্রিকা সিরিজের মাঝপথেই দায়সারা পদত্যাগপত্র পাঠান বিসিবিতে। সেই ট্যুর থেকেই বিদায় হয়ে যাওয়ার মতো চরম অপেশাদার তিনি।

সেই বিদায়ের আগে বাংলাদেশ দলের ভেতর চরম অস্থিরতা তৈরি করে গেছেন হাথুরু। বিশেষ করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাথে তার সম্পর্কের বৈরিতা ছিল ওপেন সিক্রেট। তার কারণেই টি-টোয়েন্টি থেকে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মাশরাফী বিন মোর্তজা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে ছুটি চাওয়াকে ঘিরে সাকিবের সাথেও নেতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয় হাথুরুর।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বাংলাদেশ দল থেকে ছেঁটে ফেলার নীল নকশা বাস্তবায়নেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন হাথুরু, আর সেই চেষ্টা বাংলাদেশ দলের সাথে তার দ্বিতীয় মেয়াদেও চলমান। মুশফিকের কিপিং গ্লাভস কেড়ে নেয়ার কাজটাও হাথুরু করেছেন রাখঢাক না রেখেই।

এত কিছুর পরেও সেই হাথুরুকে রীতিমতো তোয়াজ করে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরিয়ে আনে বিসিবি। যা হওয়ার হয়েছেও তাই, দলে ফিরেছে সেই অস্থিরতা, এবং সেটা আগের চেয়ে কয়েক গুন বেশি।

হাথুরুর প্রথম মেয়াদে পঞ্চপান্ডবের মধ্যে কেবল তামিম ইকবালের সাথেই কোনো ইস্যু তৈরি হয়নি। তবে সেসবের ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে দ্বিতীয় মেয়াদে এসে।

হাথুরুর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ দেশসেরা ওপেনার অবসরের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্রিকেটে ফিরেছে বটে, অবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, লঙ্কান কোচ থাকা অবস্থায় আর ফিরবেন না জাতীয় দলে। তবে এই দফায় হাথুরু কেবল সিনিয়রদের ওপরই চড়াও হননি, যাতা আচরণ করেছেন এবং করছেন জুনিয়রদের সাথেও। 

বিশ্বকাপ চলাকালে ঘটলেও এতোদিন সেটা গোপনই রেখেছিল বিসিবি। এতো বড় ঘটনা ঘটানোর পরেও হাথুরু দিব্যি স্বপদে বহাল। পূরণ করা হয় তার সব আবদার। টিম মিটিংয়ের মতো সেনসিটিভ জায়গায় অনায়াসে নিজের ছেলের প্রবেশাধিকার আদায় করে নিতে পারেন।

নির্বাচকদের টপকে টিম সিলেকশনে দেখাতে পারেন একক আধিপত্য। তাই প্রশ্ন ওঠে বিসিবির সাথে লঙ্কান কোচের কী এমন প্রেম? হাথুরু এই অফুরন্ত শক্তির উৎস কোথায়? আর তারচেয়ে বড় প্রশ্ন, লঙ্কান মাফিয়া হাথুরুসিংহের এই ধ্বংসযজ্ঞ থামাবে কে?

জাগরণ/ক্রিকেট/এসএসকে