• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮
প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২১, ০১:৩৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৩, ২০২১, ০১:৩৬ পিএম

উল্টে নেন পৃষ্ঠা ১৭৩ । পেইজ নিক

উল্টে নেন পৃষ্ঠা ১৭৩ । পেইজ নিক

অনুবাদ : ফজল হাসান

করোনাভাইরাস মহামারি হয়তো নিজের পছন্দমতো সাজানো কোনো দুঃসাহসিক গল্প। আপনি যদি নিজের হাত ধোয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং আইসোলেশনে থাকতে ইচ্ছুক, তাহলে উল্টে নেন পৃষ্ঠা ১৭৩। এখন থেকে কয়েক বছর পরে আমরা নতুন করে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যাব। স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতি আমাদের একধরনের নজিরবিহীন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। যাহোক, আমাদের মধ্যে যারা চলে গেছেন, তারা ছিলেন এই গ্রহের একটু ভদ্রোচিত মানুষ। তবে এখন তারা একজন অন্যজনের প্রতি সহানুভূতিশীল।
অথবা খুলে নেন পৃষ্ঠা ২১, দেখবেন আপনি একটা সুপারমার্কেটে টয়লেট রোলের খালি তাকের দিকে বোবা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আপনি যদি ডার্ক ওয়েব থেকে আপনার কিডনি অথবা শুক্রাণুর বিনিময়ে আঠারোটি টয়লেট রোলের প্যাকেট কেনার জন্য ফরমাশ করতে চান, তাহলে পৃষ্ঠা ৩৮-এ চলে যান।
আপনি যদি কান্না শুরু করতে চান, তবে পাতা উল্টিয়ে ৪১-এ যান। এবং আপনি যদি ‘চেঞ্জ.অর্গ’-এ দরখাস্ত পাঠাতে চান, তবে উল্টে নেন পৃষ্ঠা ৫৭। 
পৃষ্ঠা ৫৭-তে আবিষ্কার করবেন যে আপনি আবেগপূর্ণ রহস্যোদঘাটন অধ্যায়ে পা রেখেছেন। আপনি যদি অধিকসংখ্যক বিজ্ঞান-কল্পকাহিনির সিনেমা এবং বাস্তব জীবনভিত্তিক টিভির অনুষ্ঠান দেখে থাকেন, এমনকি বাঁচার দক্ষতাকে ঝালাই করে নিতে চান, তাহলে চলে যান ৯১ পৃষ্ঠায়।
অথবা চটজলদি ১১ পৃষ্ঠায় চলে যান এবং আপনি সময়ের উল্টো দিকে এমন এক মুহূর্তে ফিরে গেছেন যখন চীনের উহান শহরের কোনো এক পরিবার রাতের খাবারের জন্য প্যাঙ্গোলিন নিয়ে বসতে যাচ্ছে। একজন উন্মাদ ব্যক্তি হিসেবে আপনি বন্দি হওয়ার জন্য হুড়মুড় করে তাদের দরজা দিয়ে ঢুকে গেছেন এবং তাদের খাবার প্লেট তুলে নিয়ে মেঝেতে ছুড়ে ভেঙে চুরমার করেছেন। কিন্তু তাতেই আপনি বেজায় খুশি।
অথবা চলে যান পৃষ্ঠা ৩-এ এবং পৃষ্ঠার মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে দেখবেন আপনি সময়ের আরও পেছনে চলে গেছেন। সেখানে আপনি কয়েক বছর থেকে একটি ব্যাপক প্রচারণার অবতারণা করেছেন, যা সমগ্র চীনের সবচেয়ে মূল্যবান, পবিত্র এবং অস্পৃশ্য প্রাণী হিসেবে প্যাঙ্গোলিনকে নিশ্চয়তা দেবে। তাদের আঁশযুক্ত বহিরাবরণ এবং পিঁপড়েদের প্রেমের জন্য তারা পূজিত হয়।
পরবর্তী সময়ে আপনি উল্টে নেন পৃষ্ঠা ৩০৩ এবং এখন থেকে কয়েক বছর পরে ভবিষ্যৎ ভার্চুয়াল কর্মস্থলে নিজেকে খুঁজে নেন। আর চিকিৎসার আরেকটি সাফল্য-অর্জনতা সম্পর্কে পড়ুন, যা ২০২০ সালের করোনা সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছানোর পর বৈজ্ঞানিকেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে গবেষণায় অনুপ্রাণিত হয়েছিল। যেমন কন্ট্যাক্ট লেন্স, যা ক্যানসার নীরোগ করে, হজম করার মতো পরিসংখ্যান এবং ছত্রাক, যা গেঁটেবাত থেকে আরাম দেয় ও ডায়াবেটিস নিরাময় করে।
তারপর আপনাকে ৬৫৯ পৃষ্ঠায় পাঠানো হবে। সেখানে আপনি জেগে উঠবেন এবং সেটা হবে আপনার কাছে সম্পূর্ণ একটা দুঃস্বপ্ন মাত্র। অথবা অনিবার্যভাবে আপনি একটা কিছু পছন্দ করতে পারেন, যা আপনাকে পৃষ্ঠা ১-এ নিয়ে যাবে, এবং পুনরায় আমরা সব শুরু করব।

লেখক পরিচিতি
দক্ষিণ আফ্রিকার নারী লেখক পেইজ নিক একজন উদীয়মান ঔপন্যাসিক, কলাম লেখক এবং বিজ্ঞাপন সংস্থার কপিরাইটার। তিনি কেপটাউনে বড় হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডেকোটা রাজ্যের ডিকিন্সন ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কপিরাইটিং এবং মার্কেটিংয়ে পড়াশোনা করেন। স্বদেশে ফিরে এসে কেপটাউনের এক বিজ্ঞাপন সংস্থার কপিরাইটার হিসেবে কাজ করেন। ইতিমধ্যে তাঁর দুটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হলো ‘আ মিলিয়ন মাইলস ফ্রম নরম্যাল’ (২০১০) এবং ‘দিস ওয়ে আপ’ (২০১১)। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘আনপ্রেসিডেন্ট: আ কমেডি অব এররস’, ‘ডাচ কারেজ’ এবং ‘পেনস বিহেভিং ব্যাডলি’। উল্লেখ্য, ‘সানডে টাইমস’-এ লেখা তাঁর কলাম সমগ্র নিয়ে ‘পেনস বিহেভিং ব্যাডলি’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে, যা তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ ছাড়া লেখার মাধ্যমে লেখকদের আত্মপ্রচার এবং পরিচিতি লাভের উদ্দেশ্যে তিনি ২০১৩ সালে ফেসবুকে শুরু করেন ‘দ্য গুড বুক অ্যাপ্রিসিয়েশন সোসাইটি’। লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একাধিক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন।

গল্পসূত্র : 
‘উল্টে নেন পৃষ্ঠা ১৭৩’ গল্পটি পেইজ নিকের ইংরেজিতে ‘Turn to page 173’ গল্পের অনুবাদ। গল্পটি ২৯ মার্চ ২০২০ সালে জোহানেসবার্গ থেকে প্রকাশিত ‘সানডে টইমস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।