• ঢাকা
  • বুধবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২১, ০৮:৪৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০২১, ০২:৪৭ পিএম

টেকনাফে ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব

টেকনাফে ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব
ছবি- জাগরণ।

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ//

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে সীমান্ত জনপদ টেকনাফের ঘরে ঘরে এখন নবান্নের উৎসব চলছে। ৬ ঋতুর বাংলাদেশে এখন হেমন্তকাল। সমান তালে চলছে নতুন চাল দিয়ে তৈরি নানা নামের নানা স্বাদের পিঠা-পুলীর উৎসব। সর্বত্র বিশেষ করে কৃষককুল ও গৃহস্থ বাড়িতে লেগেছে খুশির হাওয়া। বিশেষতঃ টেকনাফের সর্বত্র অত্যন্ত জনপ্রিয় পিঠা হিসাবে পরিচিত ‘ভাপা’ পিঠার জমজমাট আসর গৃহস্থ বাড়ির অন্দর থেকে প্রধান সড়কের কিনারা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। 

টেকনাফের স্টেশন সমুহে প্রধান সড়কের পাশে এই ‘ভাপা’ পিঠা বেচা-কেনার ধুম পড়েছে। দেখা গেছে, ভোজন রসিকরা চুলার চারপাশে বসে থাকে। চুলা থেকে পিঠা নামানোর সাথে সাথেই শেষ। নতুন চালের তৈরি খৈ-মুড়িও নাকি স্বাদে আলাদা। এই মুড়ি, মোয়া ও খৈ তৈরি করে এমন বাড়িতে বিশেষতঃ শিশু-কিশোরদের আনাগোনা বেশ লক্ষনীয় হয়ে উঠেছে।

এই ‘ভাপা’ পিঠাকে টেকনাফের সাধারণ মানুষ ‘ধুঁই’ পিঠা বলে। সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে সাধারনতঃ আগাম চাষাবাদ হয়। দেশের অন্যান্য জেলা বা উপজেলায় এখন মৌসুম না হলেও টেকনাফে ধান কাটা শুরু হয়েছে অনেক আগে। এখন চলছে ধান মাড়াই ও বাতাস দেয়ার কাজ। অতিবৃষ্টির কারণে দেরীতে চাষাবাদ করা নিম্মাঞ্চলের জমির ধানও পেকে গেছে। ঝুম ও চর এলাকার জমির ধান পেকেছে আরও আগে। টেকনাফে অপেক্ষাকৃত দেরীতে পাকে লবণাক্ত জমির ধান। এতেও পাক ধরেছে। সব মিলে টেকনাফের সর্বত্র নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা কৃষককুল ও গৃহস্থ বাড়ি। সেই সাথে বসে থাকা দিনমজুরদেরও কাজ জুটেছে। বর্তমানে এদের মোটেও ফুরসৎ নেই। 

টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর টেকনাফ উপজেলায় ১০ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছে ৪৮ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন ধান। 

উল্লেখ্য, এবছর শরৎ ও হেমন্তকালে  অতীতের বছরগুলোর মতো ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। মাঝে-মধ্যে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। এতে ধান বের হতে কিছুটা অসুবিধা হলেও কাজ করতে চাষী-কৃষকদের সুবিধা হয়েছে বেশি। 
 

এসকেএইচ//