• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২১, ০৮:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ১২, ২০২১, ০২:২১ পিএম

করোনা আক্রান্ত বিজ্ঞানীর ‘পকেট ভেন্টিলেটর’ উদ্ভাবন

করোনা আক্রান্ত বিজ্ঞানীর  ‘পকেট ভেন্টিলেটর’ উদ্ভাবন

করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে বিপর্যস্ত ভারতে গত কয়েক মাস ধরেই চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন আর টিকা নিয়ে চলছে হাহাকার। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ ভারতকে টিকা ও অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করেছে। এমন সময় আশার বাণী নিয়ে হাজির হয়েছেন এক ভারতীয় বাঙালী বিজ্ঞানী।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার বাসিন্দা ড. রামেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগেই নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েছলেন এই প্রকৌশলী। স্বভাবিক মানুষের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা যেখানে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি থাকে সেখানে তার মাত্রা নেমে যায় ৮৮ শতাংশে। 

হাসপাতালে ভর্তি না হলেও সেই সময়ে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহকারী যন্ত্র ভেন্টিলেটরের গুরুত্ব ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন রামেন্দ্রলাল। আর তাই নিজ উদ্যোগেই এই স্বল্প খরচে দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেন তিনি। 

করোনা থেকে সুস্থ হয়েই কাজে লেগে যান এই গবেষক। মাত্র ২০ দিনেই তৈরি করেন পকেট ভেন্টিলেটর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ড. রামেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায়ের উদ্ভাবিত পকেট ভেন্টিলেটরের ওজন মাত্র ২৫০ গ্রাম। একবার চার্জ করা হলে এটি ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারে।

সাধারণ মোবাইল চার্জারের মাধ্যমেখুব সহজেই চার্জ দেওয়া যায় ভেন্টিলেটরটি। পুরো যন্ত্রটি দুটো অংশে বিভক্ত। একপাশে রয়েছে একটি পাওয়ার ইউনিট ও আপর পাশে একটি মাউথ পিসযুক্ত ভেন্টিলেটর ইউনিট।

যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত মাস্কটি মুখে আটকে এটি চালুর করলে এর মাধ্যমে বাইরের বাতাস বিশুদ্ধ হয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর ফুসফুসে পৌঁছায়। এর আল্ট্রা ভায়োলেট চেম্বার শ্বাসতন্ত্রে পৌঁছানোর আগেই বাতাসের জীবাণু ধ্বংস করে দেয়।

একইভাবে রোগী নিঃশ্বস ছাড়ার সময় আল্ট্রা ভায়োলেট চেম্বারের মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংস হয়ে কার্বন-ডাই অক্সাইডসহ বাতাস বাইরে বেরিয়ে আসে। ভেন্টিলেটরটি হাসপাতালে বহুল ব্যবহৃত CPAP বা কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার যন্ত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে মনে করছেন ড. রামেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায়। 

পেশায় প্রকৌশলী রামেন্দ্রলালের এরকম আরও অনেক কার্যকর আবিষ্কার রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। নিজের অন্তত ৩০টি আবিষ্কারের পেটেন্ট রয়েছে এই বিজ্ঞানীর।

করোনাকালে তার এই আবিষ্কার প্রাণ বাঁচাতে পারে হাজারো মানুষের।

আরও পড়ুন