• ঢাকা
  • শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০১৯, ০৪:৪৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১২, ২০১৯, ০৪:৪৬ পিএম

সংস্কৃতি

গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু

জাগরণ প্রতিবেদক
গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু
অনিক বসু পরিচালনায় উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন স্পন্দনের নৃত্যশিল্পীরা -ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মাঝে মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ় করার প্রত্যয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিসহ কয়েকটি ভেন্যুতে এই উৎসব শুরু হয়। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।

ভারতের চারটি দল, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৩৬টি নাট্যদলসহ আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, পথনাটকের মোট ১২১টি সংগঠনের প্রায় চার হাজার শিল্পী অংশ নিচ্ছেন এ উৎসবে।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, পরিক্ষণ থিয়েটার হল, স্টুডিও থিয়েটার হল, সঙ্গীত আবৃত্তি ও নৃত্য মিলনায়তন এবং বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে হবে উৎসবের নানা অনুষ্ঠান।

উন্মুক্ত মঞ্চের সাংস্কৃতিক পর্ব প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হবে। চলবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। মঞ্চনাটক প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে।

উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয় স্পন্দনের শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ও ভারতের নাট্যজন মেঘনাদ ভট্টাচার্য উৎসবের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক ড. নিপা চৌধুরী, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা ও  গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমাদের সংস্কৃতির চর্চাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের সন্তানদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এটা পারি না বলেই আজ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কিছু মেধাবী ছাত্র আরেক মেধাবী ছাত্রকে মেরে ফেলছে। দেশে ক্যাসিনো সংস্কৃতি চালু হয়েছে।

মেঘনাদ ভট্টাচার্য বলেন, এই উৎসবে না এলে আমি বুঝতে পারতাম না এটির আভিজাত্য, মর্যাদা, বৈভব ও উপযোগিতা। আমি দেশে গিয়ে বিরল এ ঘটনা সবার কাছে বলবো। সংস্কৃতির শেকড়টা গভীর না হলে এ উৎসব হতে পারতো না। এ উৎসব সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে সংস্কৃতিপ্রেমীদের মেলবন্ধন।

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, এ উৎসব বাংলাদেশ-ভারতের ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব ও প্রতিবেশীর প্রতি প্রতিবেশীর ভালোবাসার প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই অনিক বসু পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেন স্পন্দনের নৃত্যশিল্পীরা।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনী। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে প্রথম দিন প্রাঙ্গণেমোর মঞ্চস্থ করে ‘হাছনজানের রাজা’। শাকুর মজিদের রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হিরা।

পরীক্ষণ থিয়েটার হলে ঢাকা থিয়েটার মঞ্চস্থ করে রোজী সিদ্দিকীর একক অভিনয়ের নাটক ‘পঞ্চনারী আখ্যান’। হারুন রশীদের রচনায় যার নির্দেশনা দিয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। 

স্টুডিও থিয়েটার হলে পালাকার মঞ্চস্থ করে নাটক ‘উজানে মৃত্যু’। সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহের রচনা অবলম্বনে যার নির্দেশনা দিয়েছে শামীম সাগর।

মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে লোক নাট্যদল (বনানী) মঞ্চস্থ করে ‘কঞ্জুস’। মলিয়েরের ‘দ্য মাইজার’ অবলম্বনে নাটকটি রূপান্তর করেছেন তারিক আনাম খান এবং নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুন নূর চৌধুরী।

শনিবার (১২ অক্টোবর) এ মঞ্চে নাট্য মঞ্চায়নের পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন এবং জাতীয় নাট্যশালার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে থাকবে সাংস্কৃতিক নানা পরিবেশনার আয়োজন।

এসএমএম

আরও পড়ুন