• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ০৫:৫৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ০৬:০৬ পিএম

হতাশার দিনে ব্যাটসম্যানদের পর ব্যর্থ বোলাররা

ক্রীড়া ডেস্ক
হতাশার দিনে ব্যাটসম্যানদের পর ব্যর্থ বোলাররা
লিটনের মতোই অসহায় দৃষ্টিতে সারাদিন তাকিয়ে ছিল পুরো বাংলাদেশ দল। ছবি : ইএসপিএন

বিশ্রি ব্যাটিংয়ের পর নখদন্তহীন বোলিং আর ক্যাচ ম্যাচ। টেস্ট মানেই যে নিত্যদিনের হতাশা বাংলাদেশের ক্রিকেটে, সেটা যেন বজায় থাকলো ভারতের ইন্দোরে। কেউ গড়তে পারলেন না একটু প্রতিরোধ, ৪৩ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে মুশফিকুর রহিমের জীবন পেতে হয়েছে দুইবার। আর ২৬ ওভার বোলিংয়ে করে একমাত্র যে রোহিতের উইকেট, সেটা নিয়েছেন দীর্ঘদিন সাইড বেঞ্চে বসে থাকা রাহী। ইন্দোর টেস্টে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ভারত পিছিয়ে আছে ৬৪ রানে। 

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় হলকার স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল হক। দলীয় ১২ রানের মাথায় জোড়া উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল টেস্টের শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেনি। 

ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলটি উমেশ যাদব লেন্থ ডেলিভারি দিয়েছিলেন। লাফিয়ে ওঠা বলটি ইমরুল খোঁচা মেরে নিজের বিপদ ডেকে আনেন। বল সরাসরি তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা আজিঙ্কা রাহানের হাতে চলে গেলে ইমরুল মাত্র ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ইশান্ত শর্মার করা পরের ওভারে ইমরুলের সমান ৬ রান করে সাদমান আলগা ড্রাইভ করেন। বল ব্যাটে লেগে সরাসরি ঋদ্ধিমান সাহার গ্লাভসে চলে গেলে সাদমানও ফিরে যান।  

এরপর ১৮ ওভারে মোহাম্মদ শামির করা লেগ মিডলে পিচ করা বল সামান্য একটু সুইং করে মোহাম্মদ মিঠুনের প্যাডে আঘাত হানে। ভারতীয় ফিল্ডাররা লেগ বিফোরের আবেদন করলে আম্পায়ার তাতে সাড়া দেন এবং ৩৬ বলে ১২ রান করে মিঠুন ফিরে যান। 

চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রান যোগ করে অধিনায়ক হিসেবে অভিষিক্ত মুমিনুল হক এবং মুশফিকুর রহিম প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ৬৫ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কার মারে মুমিনুল ৩৪ রান করে অশ্বিনের করা অফ স্টাম্পের একটু বাইরে পিচ করা বল অযথাই ছেড়ে দিলে বোল্ড হয়ে অনেকটা আত্মহত্যাই যেন করে বসেন। 

মুমিনুলের আউটের পর উইকেটে এসেছিলেন রিয়াদ। ৩০ বল খেলে ১ চারে করেছেন ১০ রান। ৪৫তম ওভারের ওই প্রথম বলেই অশ্বিনের ঝুলিয়ে দেয়া বলে স্টাম্প অনেকটা ছেড়ে দিয়ে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে রিয়াদ ফিরলে সফরকারীরা বেশ বিপদে পড়ে যায়। অশ্বিনের বলে ক্যাচ স্লিপে থাকা আজিঙ্কা রাহানে ধরতে না পারায় ব্যক্তিগত ৭ রানে থাকা রিয়াদ তার ইনিংস টেনে নিতে ব্যর্থ হন।   

লাঞ্চের আগে উমেশ যাদবের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বিরাট কোহলি তা ধরতে না পারায় মুশফিক জীবন পেয়েছিলেন। লাঞ্চের পর যখন মি.ডিপেন্ডেবলের ব্যক্তিগত রান ১৫ তখন অশ্বিনের বলে স্লিপে তার ক্যাচ আজিঙ্কা রাহানে ফেলে দিলে আবারো বেঁচে যান মুশফিক। ব্যক্তিগত ৩৪ রানে অশ্বিনের বল তার গ্লাভসে লেগে ঋদ্ধিমান সাহার কাছে গেলেও তিনি তা গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি। তারপরও তিনি ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারেননি। মোহাম্মদ শামির দারুণ একটি বলে কাট করতে গিয়ে ব্যাটে বলে মুশফিক টাইমিং করতে না পারায় ১০৫ বলে ৪৩ রান করে বোল্ড হয়ে যান।

মুশফিকের বিদায়ের পরের বলেই উইকেটে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে রিভিউ নিলে তিনি বেঁচে যেতেন। চা বিরতির পর ইশান্ত শর্মার করা প্রথম বলেই স্লিপে থাকা বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২১ রান করা লিটন দাস।  এরপর অলআউট হতেও বেশি সময় লাগেনি বাংলাদেশের। 

প্রথম ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি ভারতেরও। ১৪ বলে ব্যক্তিগত ৬ রানে আবু জায়েদ রাহির বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন রোহিত শর্মা। এরপর আর ভারতের কোনো বিপদ হতে দেননি মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও চ্যাতেশ্বর পূজারা। ৩৭ রান নিয়ে আগারওয়াল ও ৪৩ রান নিয়ে পূজারা দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন।
 

এমএইচবি

আরও পড়ুন