• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২০, ০৮:৪২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২৪, ২০২০, ০৮:৪৩ পিএম

দ্রুতই মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া

জাগরণ ডেস্ক
দ্রুতই মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া
২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় খালেদা জিয়া ● ফাইল ছবি

বিএনপি'র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করছে সরকার, ফলে দ্রুতই তাকে মুক্তি দেয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা কাদির কল্লোল জানাচ্ছেন, খালেদা জিয়াকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি দেয়ার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এটা যে কোনও সময় হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিবিসিকে জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতটি তারা পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জানান, মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে তার বাসায় নিয়ে আসা হবে। সেখানেই তাদের চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তার চিকিৎসা দেবে।

এর আগে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, দু’টি শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এগুলো হলো, এই সময়ে তার ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

তিনি বলেন, ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে এবং এই সময় বিদেশে গমন না করার শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে, আইনি প্রক্রিয়ায় এই দুই শর্তসাপেক্ষে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য।

আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায়, মানবিক কারণে, সরকার সদয় হয়ে দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হবে, তখন থেকে এই ৬ মাস গণনা শুরু হবে।

এই ঘোষণার পর একটি প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, আশা করি ঠিক সময় মতো তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারবেন। মুক্তির পর হাসপাতাল থেকে তাকে বাসভবনে নিয়ে আসা হবে। আমরা চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তৈরি করেছি। তারাই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেবেন।

তিনি বলেন, সরকাররে এই সিদ্ধান্তে দল ও নেতা-কর্মীরা যেমন স্বস্তি বোধ করছেন, আবেগ কাজ করছে, পাশাপাশি তাদের মধ্যে একটি আতঙ্কও কাজ করছে এটা ভেবে যে এমন একটা সময়ে তাকে মুক্তির এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যখন করোনাভাইরাস নিয়ে একটি দুর্যোগ চলছে।

মির্জা ফখরুল দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেশে-বিদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, আপনারা হয়তো আবেগের বশবর্তী হয়ে তার কাছে যেতে চাইতে পারেন। কিন্তু এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আবেগের বশবর্তী না হয়ে, ম্যাডামের স্বাস্থ্যের জন্য, সবার নিরাপত্তার জন্য সবাইকে দূরে থাকতে আহবান করবো। আলাদা থাকার বিষয়টিকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

কিছুদিন আগে বিদেশে চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিল খালেদা জিয়ার পরিবার।

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান, তাদের চিঠিতে প্যারোলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু লেখা হয়নি।

একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, এখন তার বোনের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হলেও তাদের পরিবারের সদস্যদের কোনও আপত্তি থাকবে না।

তবে পরিবারের অন্য একটি সূত্র এবং সরকারি সূত্রে জানা যায়, পরিবারের চিঠিতে মানবিক কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়েছে।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে গত ১১ মাস ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা দায়ের হয়।

১০ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়।

তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আরেকটি মামলায় তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। বিবিসি বাংলা।

এসএমএম