• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২০, ০৬:৪৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ৫, ২০২০, ০৬:৪৯ পিএম

‘নারীরা এখনও ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘নারীরা এখনও ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার’
সেমিনারে অংশ নেয়া বক্তারা ● সংগৃহীত

নারীরা সমাজে বৈষম্যের স্বীকার। নারীর প্রতি সব বৈষম্য দূর করে সার্বিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট অঙ্গিকারের দাবি করেছেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এএলআরডি আয়োজিত ‘নারীর ভূমি অধিকার, কৃষিতে অংশগ্রহণ এবং নারীর সার্বিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই দাবি জানান।

সব শর্ত বিলোপ করে প্রান্তিক নারীর ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন নীতিমালাটি পরিবর্তন করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নেও দাবি তুলেছেন বক্তারা। 

এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডি’র উপনির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি। প্যানেল আলোচক ছিলেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা মিনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সীমা জামান এবং সাংবাদিক সোহরাব হাসান। আলোচনায় অংশ নেন ভৌমিকা কার্বারি, সুলেখা ম্রং, নাসিমা আমিন, নিগার সুলতানা প্রমুখ। 

মূল প্রবন্ধে নারীর ভূমি অধিকার, কৃষিতে অংশগ্রহণ, মজুরি বৈষম্য এবং নারীর সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়।

নাসিমুন আরা মিনু বলেন, নারীকে শক্তভাবে দাঁড়াতে হলে পায়ের নিচের মাটি শক্ত হতে হবে এবং এর সাথে নারীর ভূমিসহ সব সম্পদে সম-অধিকারের প্রশ্নটি জড়িত। কৃষিতে-গৃহস্থালিতে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পরও নারীকেই শুনতে হয় ‘তুমি কি কর?’ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ভারসাম্য রক্ষায় নারীদের শ্রমের স্বীকৃতি প্রদানের বিকল্প নেই বলে তিনি মত দেন।

সোহরাব হাসান বলেন, রাষ্ট্রের নারী বিরোধী মনস্তত্ত্বের কারণ খুঁজে বের করে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রকাঠামো এবং এর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।

অধ্যাপক ড. সীমা জামান বলেন, নারীর অধিকারকে আলাদা করে না দেখে এটি মানবাধিকার হিসেবেই দেখতে হবে। বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে নারীকে মুক্ত করে এগিয়ে নেয়ার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজকে একসাথে দায়িত্ব নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে শামসুল হুদা বলেন, এদেশের কৃষিকে নারীরাই বাঁচিয়ে রেখেছেন। খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালায় খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সক্ষম পুত্রসহ বিধবা নারীর শর্তটি বৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর বলে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে এটি বাতিলের আহ্বান জানান। 

টিএস/এসএমএম