• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২০, ০৮:১৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২৭, ২০২০, ০৩:৫৯ পিএম

শিল্পী সমাজের ক্ষোভ

সাঈদ খোকনের নামফলকে ঢাকা পড়েছেন জয়নুল আবেদিন

জাগরণ প্রতিবেদক
সাঈদ খোকনের নামফলকে ঢাকা পড়েছেন জয়নুল আবেদিন

২০০৭ সালে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামানুশারে রাজধানীর শান্তিনগর মোড় হতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন পর্যন্ত সড়কটির নামকরণ করা হয়। সড়কটির এই নামকরণের স্মারক হিসেবে সে সময় একটি ফলকও আনু্ষ্ঠানিক ভাবে স্থাপন করে ঢাকা সিটি করপোরেশন। বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর প্রতি সম্মান জানাতে নেয়া এই পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের এবং আনন্দের বএই বিবেচিত। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, পরবর্তীতে শিল্পীর প্রতি প্রদত্ত এই সম্মানটুকু হরণ করা হয় অনেকটাই অবিবেচকের মত।

২০১৬ সালে নগর সংস্কারের অংশ হিসেবে ড্রেন ও ফুটপাথ উন্নয়নের একটি প্রকল্প উদ্বোধনকালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামের ফলকটি সরিয়ে ফেলে সেখানে প্রকল্পের উদ্বোধক হিসেবে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের একটি ফলক বসানো হয়, যার উদ্বোধকও তিনি নিজেই।

ঘটনাটি সম্প্রতি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় দেশের গোটা শিল্পী সমাজই বিক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তারা বলেছেন, যে উদ্দেশ্যেই এটি করা হোক না কেন তার কোন ব্যাখ্যাই শিল্পীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। 

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন - ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি একুশে পদক প্রাপ্ত শিল্পী প্রফেসর জামাল আহমেদ বলেন, শিল্পী শাহাবুদ্দিন, কাইউম চৌধুরীদের মত শিল্পীদের উপস্থিতিতে শিল্পাচার্যের নামে যে ফলক স্থাপন করা হয়েছিল সেটা ভেঙ্গে ফেলে গোটা বাঙালি জাতিকেই অপমান করা হয়েছে।

অপরদিকে সংসদের সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশে শিল্পচর্চার পথিকৃৎ শিল্পী। একজন বাঙালি হিসাবে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের স্থান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কতটা উচ্চে সেটা প্রাক্তন মেয়র অনুধাবনই করতে পারেননি। এই গর্হিত কাজটি একাধারে মুর্খতা এবং অপরাধ।

জয়নুল আবেদিন (২৯ ডিসেম্বর ১৯১৪ - ২৮ মে ১৯৭৬) বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য অভিধা লাভ করেন।

জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। এ ছাড়াও তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলো হল: ১৯৫৭-এ নৌকা, ১৯৫৯-এ সংগ্রাম, ১৯৭১-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ম্যাডোনা প্রভৃ‌তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার দীর্ঘ দুটি স্ক্রল ১৯৬৯-এ অঙ্কিত ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭৪-এ অঙ্কিত ‘মনপুরা-৭০’, জননন্দিত দুটি শিল্পকর্ম।

এসকে